কলেজে নবীণদের বরন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে গান গাইতেছে রাহাত, অডিটোরিয়ামের সবাই রাহাতের গান শুনে মুগ্ধ, গান শেষে স্টেজ থেকে নামতে না নামতেই চোখ পরলো নীল ড্রেস পরা মেয়ের দিকে, রাহাত তার বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারলো মেয়েটা ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হইছে, কথাটা শুনে রাহাতের মুখটা হাশিতে ভরে গেলো, যতক্ষণ অনুষ্ঠান চলছিলো ততক্ষন রাহাত মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলো, অনুষ্ঠান শেষে রাহাত একাই হেটে বাসায় ফিরছিলো, এমন সময়
_এইজে ভাইয়্যা, ,,,,,,, এইজে চেক শার্ট ভাইয়্যা, ,,,,
রাহাত পিছনে তাকিয়ে দেখলো সেই নীল ড্রেস পরা মেয়েটা, অবাক হয়ে বললো,
জী, আমাকে বলছেন ?
_হুম, আপনি ত অনেক ভালো গান করেন,
না, মানে এমনেই,
_আপনার নামটা জানতে পারি ভাইয়্যা,,,
রেদুয়ানুল রাহাত, আপনার নাম?
_রাহিয়া রিতু, আমি ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হইছি, আমাকে তুমি করে বলেন,
আচ্ছা,
এইভাবেই হাটতে হাটতে কিছুক্ষন কথা হয় তাদের, প্রতিদিন কলেজে গিয়ে দূর থেকে তাকিয়ে রিতুকে দেখে রাহাত, আস্তে আস্তে রিতুর প্রেমে পরে যায় রাহাত, এতটাই পাগল হয় যে, শুক্রবারেও ভুল করে কলেজে গিয়ে দেখে কলেজ বন্ধ, এইভাবে চলতে চলতে রাহাত রিতুকে প্রপোজ করে,,,
_রিতু একটু শোন,
জি বলেন ভাইয়্যা,
_তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে,
আচ্ছা বলেন,
_চল, অইদিকটাই যাই,,,
হুম, এখন বলেন,
_আসলে কি করে বলবো বুজতে পারছি না, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি,
কথাটা শুনে রিতু কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো, তারপর বললো, আসলে ভাইয়্যা আমি আমার মা বাবাকে কথা দিছি আমি ভালভাবে লেখাপড়া করবো, আর অইসব করলে ভালভাবে পড়তে পারবো না, সরি ভাইয়্যা,
_কিন্তু আমি ত তুমাকে অনেক ভালবাসি, তুমাকে ছারা আমি থাকতে পারবো না রিতু, দরকার হলে আমি তুমার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের কথা বলবো, ।
ওইসবের দরকার নাই ভাইয়্যা, আমি কথা দিচ্ছি যদি ককোনদিন কলেজে প্রেম করি তবে আপনার সাথেই করবো, কথাটা বলেই চলে গেলো রিতু,
রাহাত কিছু ভাবতেও পারছিলো না, বলতেও পারছিলো না,
এইভাবেই কিছুদিন চলার পর রাহাতের বন্ধু রাহাতকে বলে
_বন্ধু শুনলাম রিতু নাকি প্রেম করছে,
কি বলিস, আমি বিশ্বাস করি না, ও আমাকে বলছে যদি কারো সাথে প্রেম করে সেটা হবো আমি, বুজলি,
_বন্ধু তার পরেও,মেয়েদের বিশ্বাস নাই,
বিশ্বাস না থাকলে ভালোবাসা হয় না, তুই থাক আমি একটু রিতু কে দেখে আসি, অনেক দিন হলো দেখি না,
_মানে, রিতু এখন হোস্টেলে নাই, বাসায় চলে গেছে,
তাতে কি হইছে,
_তার মানে তুই কি ৩০কিলোমিটার গিয়ে রিতুকে দেখে আসবি, আর বাডির বাইরে থেকে ত দেখতেও পারবি না,
ওকে না দেখতে পারলেও ওর ছায়া ত দেখতে পারবো, তাতেই শান্তি,
_রাহাত তুই কি পাগল হয়ে গেছিস,
হুম, রিতুর জন্যে পাগল,
এই কথা বলেই রাহাত চলে গেলো রিতুকে দেখার উদ্দেশ্যে,
কিছুদিন পর রিতু কলেজে আসলো, রাহাত ৪র্থ তলায় ছিলো আর রিতু ছিলো ৩য় তলার বারান্দায়, রাহাত এক দৃষ্টিতে রিতুর দিকে তাকিয়ে আছে, চোখে চোখ পরার সাথে সাথেই রিতু মুচকি হেসে ২য় তলার বারান্দায় চলে গেলো, ওখানে কিছুক্ষন দারিয়ে থাকতে দেখে রাহাত বুজতে পারলো তার জন্যই দারিয়ে আছে, রাহাত তারাতারি ২তলায় গেলো,
রিতু- আসতে এত দেরি হলো কেন তোমার,?
_না এমনেই,
কতক্ষণ যাবত অপেক্ষা করছি তোমার জন্য,
_সরি, আর কক্ষনো দেরি হবে না,
কতদিন হলো তুমাকে দেখি না, এই কয়দিন তুমাকে অনেক মিস করছি ফারহান,,,,
:
দূর থেকেই কথা গুলো শুনছিলো রাহাত, রাহাত খবর নিয়ে জানতে পারলো প্রায় দের মাস হয়ে গেছে রিতু আর ফারহানের রিলেশন ।
: তার পর থেকে রাহাতকে আর ক্যম্পাসে দেখা যায় না, ভালোবাসার কষ্টে রাহাত যেন পাগল প্রায়, যে ছেলেটি সিগারেটের ধোয়া সইতে পারতো না, সে ছেলে আজ সব দরনের নেশা করে, যে ছেলের হাতে বই ছারা কিছুই ছিলো না, সেই ছেলের হাতে আজ সিগারেট, সব কিছুই যেন পাল্টে গেছে,
রাহাত এখন আর ক্যম্পাসে যায় না, সারাদিন শুধু নেশা করে,,,,,,,,,,,,,
Saturday, 28 May 2016
Author: bdlove
Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.
0 coment rios:
Post a Comment