Wednesday, 1 June 2016

মায়েরা কেন সন্তানকে ভালবাসেন যেনে নিন

মা সন্তানের সবচেয়ে আপনজন। আবার মায়ের কাছেও সন্তানের থেকে প্রিয় কেউ নেই, কিছু নেই। সৃষ্টির শুরু থেকেই মা-সন্তানের বন্ধন চিরন্তন, শাশ্বত। সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই এ বন্ধন তৈরি হয়ে যায়।

মায়ের সঙ্গে সন্তানের সবচেয়ে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝামেলা, দুঃখ-ব্যথা থেকে মা সন্তানকে আগলে রাখেন। পৃথিবীর আর কেউ মায়ের মতো করে সন্তানকে ভালোবাসেন না। তাই তো বড় হয়েও একটু ব্যথা পেলে অবচেতনভাবে কণ্ঠস্বর থেকে বেরিয়ে আসে ‘মা’। মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। এমনকি বাবার থেকেও মায়েরা সন্তানকে অনেক বেশি ভালোবাসেন বলেই প্রচলিত।
গেল ১৬ মের ঘটনা। রেললাইনে আটকে আছে বাস। ছুটে আসছে ট্রেন। মা বিবি মরিয়ম বিপদ আঁচ করতে পেরে তিন সন্তানকে বাস থেকে দ্রুত নামিয়ে দেন। এরপর নিজের প্রাণ বাঁচাতে লাফ দেন। কিন্তু ততক্ষণে চাকার নিচে তিনি। এতে তিন ছেলে প্রাণে বেঁচে গেলেও মারা যান তিনি। অথচ সন্তানদের না নামাতে গেলে ঠিকই বেঁচে যেতেন মা। যুগে যুগে সন্তানদের জন্য মায়ের এমন আত্মত্যাগের হাজারো উদাহরণ রয়েছে। ঘটনাটি চট্টগ্রামে ঘটেছে।

তবে মা-সন্তানের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার পেছনে একটি নিয়ামক অনেক আগেই বের করেছেন গবেষকেরা। মা-সন্তানের এই বন্ধনের জন্য আছে একটি বিশেষ হরমোনের প্রভাব।
হরমোনের বিষয়টি তোলার পর কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, মায়ের ভালোবাসায় আবার এসব কী! কিন্তু বিষয়টি তা-ই। একাডেমিক জার্নাল আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের তথ্যানুযায়ী, অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণের ফলে মা তাঁর সন্তানকে ভালোবাসেন। ইসরায়েলের বার-ইলান ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এমনটিই বলা হয়েছে। আর এটা করেছেন রুথ ফেল্ডম্যান। এতে বলা হয়েছে, অক্সিটোসিন হরমোনের কারণেই মা ও সন্তানের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা বেশি হয়ে থাকে। আর এ জন্যই মায়েরা অন্য যে-কারও চেয়ে সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। গবেষণাটি ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
এতে জানানো হয়, যখন একজন মা তাঁর সন্তানকে স্পর্শ করেন বা কোলে নেন, তখন অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে মায়ের ভালো লাগা বা সুখানুভূতিও বাড়ে। মা আনন্দে থাকেন। আবার যখন মা সন্তানকে স্পর্শ করতে পারেন না বা সন্তান থেকে দূরে থাকেন, তখন এই হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। তখন মায়েদের মন খারাপ থাকে, বিষণ্নতা বেড়ে যায়।
প্রকৃতির নিয়মেই সন্তান প্রসবের সময় মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। আর এতেই প্রসবকালীন ব্যথা অনেকটা প্রশমিত হয়। একজন নারীর জীবনে সন্তান জন্মদানের পরের কয়েকটি মুহূর্তে এই হরমোন নিঃসরিত হয় সবচেয়ে বেশি। এ জন্য এই সময় মায়েরা সন্তানের প্রতি বেশি আকর্ষণ বা ভালোবাসা অনুভব করেন। মায়ের কাছে সন্তান জন্মদানের সময়টি শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে হয়। অক্সিটোসিন হরমোনটি ঐন্দ্রজালিক হরমোন নামেও পরিচিত।
এই হরমোনের কারণেই মূলত মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো উপভোগ করেন। এ সময়টা তাঁরা তুলনামূলক বেশি প্রফুল্ল থাকেন। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালে যে মা-সন্তানের বন্ধন দৃঢ় হয়—সেই প্রচলিত কথারই প্রমাণ এটা।

posted from Bloggeroid


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: