Wednesday, 1 June 2016

নিজেকে মেলে ধরুন

নিজেকে মেলে ধরুন

অফিসের এক কর্মী মুখ গুঁজে কাজ করেন সারা দিন। কাজের মানও বেশ ভালো। বছর শেষে দেখা গেল, তাঁর মূল্যায়ন ঠিকভাবে হচ্ছে না। অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে নিজের মনের কথা তাঁর বস বা অন্য সহকর্মীদের বলতে পারেন না। অফিসে সবার মধ্যে থেকেও তিনি আলাদা। অফিসেই নয়, কারও বাড়িতে কোনো দাওয়াত, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁর কথা সবাই ভুলে যান। কর্মীর অন্তর্মুখিতা তাঁকে সমস্যায় ফেলে দেয়। অফিসে মন দিয়ে কাজ করা ভালো। তবে অন্তর্মুখিতা যোগাযোগক্ষমতার একধরনের প্রতিবন্ধকতা। এটি উতরে যেতে না পারলে কর্মজীবনে ঝক্কিতে পড়তে হবে।
প্রতিষ্ঠান অনেক সময় মনে করতে পারে, কেন তারা অন্তর্মুখী কর্মীকে গুরুত্ব দেবে? যিনি নিজের কথাই ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারেন না, তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য কতটুকু কার্যকর। কিছু কিছু কাজ আছে—হিসাব বিভাগে, গবেষণায় কিংবা লেখালেখির কাজে কিছুটা অন্তর্মুখী হলেও চলে। সময়টা যেহেতু নিজেকে প্রকাশ করার, তাই এসব কাজে অন্তর্মুখী না হলেই ভালো।
গ্রো এন এক্সেলের প্রধান নির্বাহী এম জুলফিকার হোসেন বলেন, কর্মজীবনে প্রবেশের আগে অন্তর্মুখী স্বভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এক দিনে সম্ভব নয়, কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। অফিসের বস ও সহকর্মীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৬৫ শতাংশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে নেতৃত্বদানে এগিয়ে যেতে পারছেন না। প্রতিষ্ঠানের কোনো নতুন বিষয় নিয়ে ভাবনা, পরিকল্পনা—এ ধরনের কাজ অন্তর্মুখী স্বভাবের কর্মীরা ভালো করেন।
অন্তর্মুখী স্বভাবের হলে সফলতা আসে না। বিষয়টি এমন নয়। বিল গেটস নিজেকে অন্তর্মুখী ব্যক্তি মনে করেন। কিন্তু তিনি তো বিশ্বসেরা সফল ব্যক্তিদের একজন।
কর্মীর অন্তর্মুখী স্বভাব কাটানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের তেমন কিছু করার থাকে না। বস হয়তো তাঁকে এই স্বভাবের দিকটা বুঝে মূল্যায়ন করতে পারেন। কোনো মিটিংয়ে তাঁকে বলার সুযোগ দিতে পারেন। তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো একটা প্রেজেন্টেশন তাঁকে সবার সামনে বলতে দেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের নিরীক্ষা খুব বড় কোনো মিটিংয়ে না করে ছোট ছোট মিটিংয়ে করতে পারেন। কিন্তু মনোবিদেরা মনে করেন, এটি থেকে নিজেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেকে সময়ের সঙ্গে, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করে তুলতে হবে। এটি শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, ব্যক্তিজীবনেও অনেক কাজে আসবে।

কী করতে পারেন
* নিজের মনের ভাবনা প্রথমে কাছের বন্ধুদের মধ্যে, এরপর সহকর্মীদের বলতে পারেন। নতুন নতুন আইডিয়া মিটিংয়ে বললে আপনার দিকে সবার নজর পড়বে, যা আপনাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে দেবে।
* আয়নার সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। প্রতিদিন পনেরো মিনিট এই চর্চা করতে পারেন।
* নির্দিষ্ট কোনো কারণে আপনি অন্তর্মুখী স্বভাবের হলে সেই কারণ খুঁজে বের করুন। সেটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সে ক্ষেত্রে কাছের কোনো মানুষ বা মনোবিদের সাহায্য নিতে পারেন।
* নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। হীনম্মন্যতা থাকলে শুধু পিছিয়েই পড়বেন। কোনো বিষয়ে দক্ষতা কম থাকলে তা শেখার চেষ্টা করুন। দেখবেন, ঠিকই পারছেন

posted from Bloggeroid

উচ্চ রক্তচাপকে হেলা মনে করা টিক নয়

উচ্চ রক্তচাপকে হেলা মনে করা টিক নয়

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়
উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। এটি ধীরে ধীরে মানুষের হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, চোখ ইত্যাদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে। অনেকে অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপ বয়ে বেড়ান। মাত্রা বেড়ে গেলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। হঠাৎ করে রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
সাধারণত রক্তচাপ ১৮০/১২০ মিলিমিটার পারদের ওপরে উঠে গেলেই এমন আশঙ্কা তৈরি হয়। এ সময় রোগীর দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব, শ্বাসকষ্ট, লাল রঙের প্রস্রাব হতে পারে। নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, গর্ভকালীন খিঁচুনি বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের যেকোনো লক্ষণ ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ:
* রক্তচাপ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে নিজে নিজে নানা ওষুধ বাড়িয়ে খেয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। জরুরি অবস্থায় রক্তচাপ কমানোর ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। সেটা চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিন।

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত যে ওষুধ সেবন করেন, সেটা হঠাৎ বাদ দিলে এ ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ রকম ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা বা বদলানো যাবে না।

* ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত ও খুব বেশি উচ্চ রক্তচাপের বিশেষ কারণ থাকে। যেমন: কিডনি রোগ, হরমোনজনিত রোগ, স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধের প্রতিক্রিয়া, হৃৎপিণ্ডে জন্মগত ত্রুটি, হরমোন নিঃসরণকারী টিউমার ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি, বিশেষত যদি রোগীর বয়স কম হয়ে থাকে।

* গর্ভকালীন শনাক্ত হওয়া উচ্চ রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে প্রাণসংহারী হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ নিয়মিত মাপতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

posted from Bloggeroid

মায়েরা কেন সন্তানকে ভালবাসেন যেনে নিন

মায়েরা কেন সন্তানকে ভালবাসেন যেনে নিন

মা সন্তানের সবচেয়ে আপনজন। আবার মায়ের কাছেও সন্তানের থেকে প্রিয় কেউ নেই, কিছু নেই। সৃষ্টির শুরু থেকেই মা-সন্তানের বন্ধন চিরন্তন, শাশ্বত। সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই এ বন্ধন তৈরি হয়ে যায়।

মায়ের সঙ্গে সন্তানের সবচেয়ে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝামেলা, দুঃখ-ব্যথা থেকে মা সন্তানকে আগলে রাখেন। পৃথিবীর আর কেউ মায়ের মতো করে সন্তানকে ভালোবাসেন না। তাই তো বড় হয়েও একটু ব্যথা পেলে অবচেতনভাবে কণ্ঠস্বর থেকে বেরিয়ে আসে ‘মা’। মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। এমনকি বাবার থেকেও মায়েরা সন্তানকে অনেক বেশি ভালোবাসেন বলেই প্রচলিত।
গেল ১৬ মের ঘটনা। রেললাইনে আটকে আছে বাস। ছুটে আসছে ট্রেন। মা বিবি মরিয়ম বিপদ আঁচ করতে পেরে তিন সন্তানকে বাস থেকে দ্রুত নামিয়ে দেন। এরপর নিজের প্রাণ বাঁচাতে লাফ দেন। কিন্তু ততক্ষণে চাকার নিচে তিনি। এতে তিন ছেলে প্রাণে বেঁচে গেলেও মারা যান তিনি। অথচ সন্তানদের না নামাতে গেলে ঠিকই বেঁচে যেতেন মা। যুগে যুগে সন্তানদের জন্য মায়ের এমন আত্মত্যাগের হাজারো উদাহরণ রয়েছে। ঘটনাটি চট্টগ্রামে ঘটেছে।

তবে মা-সন্তানের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার পেছনে একটি নিয়ামক অনেক আগেই বের করেছেন গবেষকেরা। মা-সন্তানের এই বন্ধনের জন্য আছে একটি বিশেষ হরমোনের প্রভাব।
হরমোনের বিষয়টি তোলার পর কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, মায়ের ভালোবাসায় আবার এসব কী! কিন্তু বিষয়টি তা-ই। একাডেমিক জার্নাল আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের তথ্যানুযায়ী, অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণের ফলে মা তাঁর সন্তানকে ভালোবাসেন। ইসরায়েলের বার-ইলান ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এমনটিই বলা হয়েছে। আর এটা করেছেন রুথ ফেল্ডম্যান। এতে বলা হয়েছে, অক্সিটোসিন হরমোনের কারণেই মা ও সন্তানের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা বেশি হয়ে থাকে। আর এ জন্যই মায়েরা অন্য যে-কারও চেয়ে সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। গবেষণাটি ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
এতে জানানো হয়, যখন একজন মা তাঁর সন্তানকে স্পর্শ করেন বা কোলে নেন, তখন অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে মায়ের ভালো লাগা বা সুখানুভূতিও বাড়ে। মা আনন্দে থাকেন। আবার যখন মা সন্তানকে স্পর্শ করতে পারেন না বা সন্তান থেকে দূরে থাকেন, তখন এই হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। তখন মায়েদের মন খারাপ থাকে, বিষণ্নতা বেড়ে যায়।
প্রকৃতির নিয়মেই সন্তান প্রসবের সময় মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। আর এতেই প্রসবকালীন ব্যথা অনেকটা প্রশমিত হয়। একজন নারীর জীবনে সন্তান জন্মদানের পরের কয়েকটি মুহূর্তে এই হরমোন নিঃসরিত হয় সবচেয়ে বেশি। এ জন্য এই সময় মায়েরা সন্তানের প্রতি বেশি আকর্ষণ বা ভালোবাসা অনুভব করেন। মায়ের কাছে সন্তান জন্মদানের সময়টি শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে হয়। অক্সিটোসিন হরমোনটি ঐন্দ্রজালিক হরমোন নামেও পরিচিত।
এই হরমোনের কারণেই মূলত মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো উপভোগ করেন। এ সময়টা তাঁরা তুলনামূলক বেশি প্রফুল্ল থাকেন। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালে যে মা-সন্তানের বন্ধন দৃঢ় হয়—সেই প্রচলিত কথারই প্রমাণ এটা।

posted from Bloggeroid

বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়েই শুরু ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দেখে নিন টুর্নামেন্টর সময় সূচি

বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়েই শুরু ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দেখে নিন টুর্নামেন্টর সময় সূচি

০১ জুন, ২০১৬
তাহলে বাংলাদেশকে দিয়েই শুভসূচনা হচ্ছে ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির।
অনেক ‘র‍্যাঙ্কিং-যুদ্ধ’ পেরিয়ে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টটিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের সাতে থেকে প্রথমবারের মতো মাশরাফিরা খেলবেন টুর্নামেন্টের মূলপর্বে। সেই টুর্নামেন্টটির সূচনাই হবে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে। প্রথম ম্যাচে মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
আগামী বছরের ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টটির সূচি আজ ঘোষণা করেছে আইসিসি। ২০১৭ সালের ১-১৮ জুন পর্যন্ত হবে ১৫ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে। তাতে আট দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ ‘এ’-তে ইংল্যান্ড ছাড়া বাংলাদেশের দুই সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ ‘বি’-তে আছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
গ্রুপে প্রতিটি দলই একবার করে একে অন্যের মুখোমুখি হবে। দুই গ্রুপের সেরা দুটি দল যাবে সেমিফাইনালে।
২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত র‍্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে টপকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৬ সালেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব, তবে সেটি ছিল বাছাইপর্বে। সেবার বাছাইয়ের তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে এবারই প্রথম মূলপর্বে খেলা।

২০১৯ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডেই। এই টুর্নামেন্টে খেলা বাংলাদেশের জন্য সেই বিশ্বকাপের জন্য একটা মহড়া তো হবেই। তবে এর চেয়েও বড় ব্যাপার হলো, এই টুর্নামেন্টের তিন মাস পরই র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল নিশ্চিত করবে পরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা। বাছাই পর্বের ঝামেলায় যেতে না চাইলে বাংলাদেশকে থাকতে হবে সেই আটের মধ্যেই। সূত্র : আইসিসি।

টুর্নামেন্টের সূচি:
১ জুন : ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ, ওভাল
২ জুন : অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড, এজবাস্টন
৩ জুন : শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকা, ওভাল
৪ জুন : ভারত-পাকিস্তান, এজবাস্টন
৫ জুন : অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ, ওভাল (দিবা/রাত্রি)
৬ জুন : ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড, কার্ডিফ
৭ জুন : পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা, এজবাস্টন (দিবা/রাত্রি)
৮ জুন : ভারত-শ্রীলঙ্কা, ওভাল
৯ জুন : নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ, কার্ডিফ
১০ জুন : ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া, এজবাস্টন
১১ জুন : ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা, ওভাল
১২ জুন : শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান, কার্ডিফ

১৪ জুন : প্রথম সেমিফাইনাল, (এ১-বি২), কার্ডিফ
১৫ জুন : দ্বিতীয় সেমিফাইনাল, (এ২-বি১), এজবাস্টন

১৮ জুন : ফাইনাল, ওভাল।

* দিনের ম্যাচগুলো শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে, দিবা/রাত্রি ম্যাচগুলো সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।

posted from Bloggeroid

বাংলার প্রাচীন কালের ইতিহাস না যেনে তাকলে যেনে নিন

বাংলার প্রাচীন কালের ইতিহাস না যেনে তাকলে যেনে নিন

বাংলার ইতিহাস বলতে অধুনা অথবা আদি বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিগত চার সহস্রাব্দের ইতিহাসকে বোঝানো হয়েছে । গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র নদ এক অর্থে বাংলাকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল । কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতের ইতিহাসে বাংলা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
প্রাচীন কালের ইতিহাস

প্রায় চারহাজার বছরের পুরনো তাম্রযুগের ধ্বংসাবশেষ বাংলায় পাওয়া যায় ।

ইন্দো-আর্যদের আসার পর অঙ্গ ও বঙ্গ এবং মগধ রাজ্য খ্রীষ্টপূর্ব দশম শতকে গঠিত হয় । এই রাজ্যগুলি বাংলা এবং বাংলার আশেপাশে স্থাপিত হয়েছিল । অঙ্গ ও বঙ্গ এবং মগধ রাজ্যের বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় অথর্ববেদে প্রায় ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ।

খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে বাংলার বেশিরভাগ এলাকাই শক্তিশালী রাজ্য মগধের অংশ ছিল । মগধ ছিল একটি প্রাচীন ইন্দো আর্য রাজ্য । মগধের কথা রামায়ণ এবং মহাভারতেও পাওয়া যায় । বুদ্ধের সময়ে এটি ছিল ভারতের চারটি প্রধান রাজ্যের মধ্যে একটি । মগধের ক্ষমতা বাড়ে বিম্বিসারের রাজত্বকাল ৪৯১ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৫৪৪খ্রীষ্টাব্দের ভেতরে,, এবং তার ছেলে অজাতশত্রুর রাজত্বকাল ৪৯১ থেকে ৪৬০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ আমলে । বিহার এবং বাংলার অধিকাংশ জায়গাই মগধের ভিতরে ছিল ।

৩২৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সেনাবাহিনী মগধের নন্দ সাম্রাজ্যের সীমানার দিকে অগ্রসর হয় । এই সেনাবাহিনী ক্লান্ত ছিল এবং গঙ্গা নদীর কাছাকাছি বিশাল ভারতীয় বাহিনীর মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে যান । এই বাহিনী বিয়াসের কাছে বিদ্রোহ ঘোষনা করে এবং আরও পূর্বদিকে যেতে অস্বীকার করে । আলেকজান্ডার তখন তার সহকারী কইনাস Coenus এর সাথে দেখা করার পরে ঠিক করেন ফিরে যাওয়াই ভাল ।

মৌর্য সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে উঠেছিল । মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । এই সাম্রাজ্য অশোকের রাজত্বকালে দক্ষিণ এশিয়া,, পারস্য,,আফগানিস্তান অবধি বিস্তার লাভ করেছিল । পরবর্তীকালে শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে ওঠে যা ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাংশে এবং পারস্য ও আফগানিস্তানের কিছু অংশে বিস্তার লাভ করেছিল ।

মধ্য যুগের প্রথমাবস্থা গৌড় রাজ্য
বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা ছিলেন শশাঙ্ক যিনি ৬০৬ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন । সম্ভবত তিনি গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে একজন সামন্তরাজা ছিলেল । তিনি সম্ভবত হর্ষবর্ধন এর ভগিনী রাজ্যশ্রী কে অপহরন করে ছিলেল । এইজন্য হর্ষবর্ধন এর সঙ্গে তার যুদ্ধ হয় । এবং তার শক্তি বৃদ্ধি হতে দেখে কামরুপ রাজ ভাস্করবর্মন তার শত্রু হর্ষবর্ধন এর সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন । ৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর তার রাজ্যের পতন ঘটে এবং বাংলাতে এক অরাজক অবস্থার সৃস্টি হয় যাকে বাংলায় মাৎস্যন্যায় বলা হয় ।

৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে গৌড় রাজ শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে একঘোরতর নৈরাজ্যের সৃস্টি হয় যা প্রায় দেড়শো বছর তা স্থায়ী হয় । এ সময় বাংলাতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের সৃস্টি হয় আত্মকলহ,,গৃহযুদ্ধ,,গুপ্তহ্ত্যা,,অত্যাচার প্রভৃতি চরমে ওঠে । এ সময় বাংলার সাধারণ দরিদ্র মানুষদের দুর্দশার আর শেষ ছিল না । স্থায়ী কোন প্রশাসন না থাকার কারনে বাহুবলই ছিল শেষ শক্তি ।

পাল বংশের সময় কাল
মাৎস্যন্যায়ের সময় বাংলার বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য বাংলার মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপাল নামক এক সামন্তরাজা কে বাংলার রাজা হিসেবে গ্রহন করেন । গোপালই হলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ।পাল বংশের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই রাজা ছিলেন ধর্মপাল রাজত্বকাল ৭৭৫ থেকে ৮১০ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত,, এবং দেবপাল রাজত্বকাল ছিল ৮১০ থেকে ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ ।

ব্রিটিশ শাসন সময় দিনকাল
ব্রিটিশ শাসনের সময়ে দুটি মারাত্মক দুর্ভিক্ষ বা মন্বন্তর বহুমানুষের জীবনহানি ঘটিয়েছিল । প্রথম দুর্ভিক্ষটি ঘটেছিল ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে এবং দ্বিতীয়টি ঘটেছিল ১৯৪৩ খ্রীষ্টাব্দে । ১৭৭০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির রাজত্বকালে বাংলার দুর্ভিক্ষটি ছিল ইতিহাসের সব থেকে বড় দুর্ভিক্ষগুলির মধ্যে একটি । বাংলার এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল ১৭৭০ এবং তার পরবর্তী বছরগুলিতে ।

১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং বাংলা সরাসরি ভাবে ব্রিটিশ রাজবংশের শাসনাধীনে আসে ।

বাংলা ছিল খুব ভালো ধান উৎপাদক অঞ্চল এবং এখানে সূক্ষ সুতিবস্ত্র মসলিন তৈরি হত । এছাড়া এই অঞ্চল ছিল পৃথিবীর পাট চাহিদার মুখ্য যোগানকারী । ১৮৫০ সাল থেকেই বাংলায় ভারতের প্রধান শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠতে থাকে । এই শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছিল মূলত কলকাতার আশেপাশে এবং সদ্য গড়ে ওঠা শহরতলি এলাকায় । কিন্তু বাংলার বেশিরভাগ মানুষ তখনও কৃষির উপরেই বেশি নির্ভরশীল ছিলেন ।

ভারতের রাজনীতি এবং সংস্কৃতিতে বাংলার মানুষেরা অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করলেও বিশেষ করে পূর্ব বাংলায় তখনও খুব অনুন্নত জেলা ছিল । ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দে রানী ভিক্টোরিয়া যখন ভারতের সম্রাজ্ঞী উপাধিতে নিজেকে ভূষিত করলেন তখন ব্রিটিশরা কলকাতাকে ব্রিটিশ রাজের রাজধানী বলে ঘোষনা করে ।

বাংলা নবজাগরণ বঙ্গভঙ্গ

১৯৪৭ সালের আগষ্ট মাসে ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে গণপ্রজাতন্ত্র ভারত এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ পায়। তখন বাংলা ভাগ হয়ে পশ্চিম বাংলা ভারতের একটি অংশ এবং পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয় ।

বাংলার স্বাধীন বৌদ্ধ ও হিন্দু নৃপতি পাল বংশদের রাজত্ব্য

প্রথম গোপাল ৭৫৬খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৭৮১ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
ধর্মপাল ৭৮১ থেকে ৮২১ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
দেবপাল ৮২১ থেকে ৮৬১ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
প্রথম বিগ্রহপাল, মহেন্দ্রপাল ও প্রথম শূরপাল ৮৬১ থেকে ৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
নারায়নপাল ৮৬৬ থেকে ৯২০খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
রাজ্যপাল ৯২০ থেকে ৯৫২ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
দ্বিতীয় গোপাল ৯৫২ থেকে ৯৬৯ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
দ্বিতীয় বিগ্রহপাল ৯৬৯ থেকে ৯৯৫ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
প্রথম মহীপাল ৯৯৫ থেকে ১০৪৩ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
নয়াপাল ১০৪৩ থেকে ১০৫৮ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
তৃতীয় বিগ্রহপাল ১০৫৮ থেকে ১০৭৫ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
দ্বিতীয় মহীপাল ১০৭৫ থেকে ১০৮০ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
দ্বিতীয় শূরপাল ১০৭৫ থেকে ১০৭৭ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
রামপাল ১০৮২ থেকে ১১২৪ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
কুমারপাল ১১২৪ থেকে ১১২৯ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
মদনপাল ১১৪৩ থেকে ১১৬২ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
তৃতীয় গোপাল ১১২৯ থেকে ১১৪৩ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।

সেন বংশের রাজত্ব্য সময় কাল

হেমন্ত সেন ১০৯৭ খ্রীষ্টাব্দ ।
বিজয় সেন ১০৯৭ থেকে ১১৬০ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
বল্লাল সেন ১১৬০ থেকে ১১৭৮ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
লক্ষ্মন সেন ১১৭৮ থেকে ১২০৬ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
বিশ্বরূপ সেন ১২০৬ থেকে ১২২০ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
কেশব সেন ১২২০ থেকে ১২৫০ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।

ইলিয়াস শাহী বংশের রাজত্ব্য প্রথম পর্ব

শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ থেকে ১৩৫৮ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত । । ১৩৪২ খ্রীষ্টাব্দ থেকে পশ্চিম বাংলার লখনৌতি রাজ্যের সুলতান এবং ১৩৫২ খ্রীষ্টাব্দ থেকে পুরো বাংলায় রাজত্ব করেন ।
প্রথম সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ থেকে ১৩৯০ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
গিয়াসুদ্দীন আজম শাহ ১৩৯০ থেকে ১৪১১ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
সাইফুদ্দীন হামজা শাহ ১৪১১ থেকে ১৪১৩ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
শিহাবুদ্দিন বায়াজিদ শাহ ১৪১৩ থেকে ১৪১৪ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত ।
প্রথম আলাউদ্দীন ফিরোজ শাহ ১৪১৪ থেকে ১৪১৫ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত

posted from Bloggeroid

বাংলাদেশকে একনজর দেখুন

বাংলাদেশকে একনজর দেখুন

সংক্ষেপে বাংলাদেশ
এক নজরে বাংলাদেশ
সরকারি নাম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ (Peoples Republic of Bangladesh)
সরকার পদ্ধতি- সংসদীয় গণতন্ত্র/সরকার
সংসদ- এককক্ষ বিশিষ্ট
আয়তন- ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা- ১৬,১০,৮৩,৮০৪ (২০১২)
১৪,২৩,১৯,০০০ (প্রাথমিক জনসংখ্যা রিপোর্ট)
১৫,৭৯,০০,০০০ (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১১)
রাজধানী- ঢাকা
মুদ্রা- টাকা
মোট সীমা- ৫,১৩৮ কিলোমিটার
গড় আয়ু- ৬০(৬০.২৫) বছর (৬৭.২ বছর; অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১১)
স্বাক্ষরতার হার- ৫৬.৭% (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১১)
মাথাপিছু আয়- ৮১৮ মার্কিন ডলার (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১১)
স্থানীয় সময়- গ্রিনিচ সময়ের চেয়ে ৬ ঘণ্টা আগে (গ্রিনিচ +৬)
ধর্ম- মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, অন্যান্য
বিভাগ- ৭টি (সর্বশেষ বিভাগ- রংপুর)
জেলা- ৬৪টি
উপজেলা- ৪৮৩টি (সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মির্জাপুর, বর্তমান নাম বিজয়নগর)
* ৪৮৪ তম উপজেলা কুমিল্লার ভাঙ্গুরা
থানা- ৬০৩টি
ইউনিয়ন- ৪৪৮৫টি
গ্রাম- ৮৭৩১৯টি
সিটি কর্পোরেশন- ৮টি (সর্বশেষ- নারায়ণগঞ্জ, ৭ম; কুমিল্লা, ৮ম)


সর্ব উত্তরের জেলা- পঞ্চগড় (থানা- তেঁতুলিয়া)
সর্ব দক্ষিণের জেলা- কক্সবাজার (থানা- টেকনাফ)
সর্ব পশ্চিমের জেলা- চাঁপাই নবাবগঞ্জ (থানা- শিবগঞ্জ)
সর্ব পূর্বের জেলা- বান্দরবান (থানা- থানচি)
সর্ব দক্ষিণের স্থান- ছেঁড়া দ্বীপ (সেন্ট মার্টিন দ্বীপ)
আয়তনে সবচেয়ে বড় জেলা- রাঙামাটি
আয়তনে সবচেয়ে ছোট জেলা- মেহেরপুর
জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় জেলা- ঢাকা
জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট জেলা- বান্দরবান

বৃহত্তম পাহাড়- গারো পাহাড় (ময়মনসিংহ জেলায়)
উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ- তাজিনডং বা বিজয় (বান্দরবান জেলায়)
বাংলাদেশের পাহাড়গুলো গঠিত- টারশিয়ারি যুগে
বাংলাদেশের উপর দিয়ে গেছে- কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer)
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড- বঙ্গোপসাগরে

জাতীয় বিষয়াবলী
জাতীয় প্রতীক- উভয় পাশে ধানের শীষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান শাপলা; শাপলা ফুলের মাথায় পাটগাছের পরস্পর সংযুক্ত তিনটি পাতা; পাতার দুই পাশে দুটি করে তারকা বা তারা
জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার- কামরুল হাসান
জাতীয় পাখি- দোয়েল
জাতীয় ফুল- শাপলা
জাতীয় ফল- কাঁঠাল
জাতীয় পশু- রয়েল বেঙ্গল টাইগার
জাতীয় মাছ- ইলিশ
জাতীয় বন- সুন্দরবন
জাতীয় গাছ- আমগাছ
জাতীয় মসজিদ- বায়তুল মোকাররম (১৯৮২ সালে ঘোষণা করা হয়)
জাতীয় গ্রন্থাগার- গুলিস্তানে
জাতীয় যাদুঘর- শাহবাগে
জাতীয় উদ্যান- সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
জাতীয় বিমানবন্দর- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (পুরাতন নাম- জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর)
জাতীয় খেলা- কাবাডি (হা-ডুডু)
জাতীয় কবি- কাজী নজরুল ইসলাম
জাতীয় শিশু পার্ক- শাহবাগ শিশু পার্ক
জাতীয় উৎসব- বাংলা নববর্ষ/বাংলা বর্ষবরণ
জাতীয় দিবস- ২৬ মার্চ (১৯৮০ সালে ঘোষণা করা হয়)
রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম- লালবৃত্তের মাঝে হলুদ মানচিত্র; তার উপরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এবং নিচে সরকার; উভয় পাশে ২টি করে মোট ৪টি তারা
রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার- এ. এন. এ. সাহা

জাতীয় সঙ্গীত
জাতীয় সঙ্গীত- ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের প্রথম ১০ চরণ
গীতিকার ও সুরকার- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাওয়া/বাজানো হয়- প্রথম ৪ চরণ
সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়- বঙ্গদর্শন পত্রিকায়
স্বরবিতান কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত
জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়- ৩ মার্চ, ১৯৭১, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে

রণ সঙ্গীত
রণ সঙ্গীত- ‘চল চল চল’ গানের প্রথম ২১ চরণ
গীতিকার ও সুরকার- কাজী নজরুল ইসলাম
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাওয়া/বাজানো হয়- প্রথম ২১ চরণ
প্রথম প্রকাশিত হয়- শিখা পত্রিকায়
প্রথম প্রকাশিত হয়- ‘নতুনের গান’ নামে
সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত

জাতীয় পতাকা
ডিজাইন- গাঢ় সবুজের মাঝে লাল বৃত্ত
ডিজাইনার- কামরুল হাসান
মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের প্রথম পতাকার ডিজাইনার- শিব নারায়ণ দাশ
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত- ১০:৬ বা ৫:৩
লাল বৃত্তের মাপ- পতাকার ৫ ভাগের ১ ভাগ (১/৫ অংশ)
পতাকা দিবস- ২ মার্চ
প্রথম উত্তোলন করেন- আ স ম আব্দুর রব (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়)
বিদেশে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন- ভারতের কলকাতায়, বাংলাদেশ মিশনে
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে মিল আছে- জাপানের পতাকার

প্রথম বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকেন- মেজর জেমস রেনেল (বাংলার তথা ভারতবর্ষের প্রথম সার্ভেয়ার)

posted from Bloggeroid

সিলেট জেলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস দেখুন

সিলেট জেলার ঐতিহ্য ও ইতিহাস দেখুন

সিলেট জেলার ঐতিহ্য
সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)

হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বোরহান উদ্দিন (র.) এর ওপর রাজা গৌড়গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল (র.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।

আরবের মাটি ও সিলেটের মাটির মিল

কথিত আছে, প্রাচ্যদেশে আসার পূর্বে শাহজালাল (র.) এর মামা মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবীর (র.) তাঁকে এক মুঠো মাটি দিয়ে বলেছিলেন, ‘স্বাদে বর্ণে গন্ধে এই মাটির মতো মাটি যেখানে পাবে সেখানে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করবে।’

হযরত শাহজালাল (র.) বিশিষ্ট শিষ্য শেখ আলীকে এই মাটির দায়িত্বে নিয়োগ করেন এবং নির্দেশ দেন যে, যাত্রাপথে বিভিন্ন জনপদের মাটির সাথে যেন এই জনপদের মাটির তুলনা করে তিনি দেখেন। পরে এই শিষ্যের উপাধি হয় চাষণী পীর। সিলেট শহরের গোয়াইপাড়ায় তাঁর মাজার বিদ্যমান।

সিলেটের মাটির সাথে আরবের মাটির মিল পাওয়ায় হযরত শাহজালাল (র.) সিলেটে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। সিলেটে তেল ও গ্যাস পাওয়ায় আরবের মাটি ও সিলেটের মাটির মিল প্রমাণিত হয়েছে।

গজার মাছ

হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার চত্বরের উত্তর দিকে একটি পুকুর রয়েছে। এ পুকুরে রয়েছে অসংখ্য গজার মাছ। এসব মাছকে পবিত্র জ্ঞান করে দর্শনার্থীরা ছোট ছোট মাছ খেতে দেয়। পুকুরের পশ্চিম কোণে ছোট মাছ বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। পুকুরে অজুর ব্যবস্থাও আছে। ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বিষ প্রয়োগে পুকুরের প্রায় ৭শ’রও বেশি গজার মাছ হত্যা করা হয়। ফলে পুকুরটি গজার মাছ শূন্য হয়ে পড়ে। মরে যাওয়া মাছগুলোকে মসজিদের পশ্চিম দিকের গোরস্থানে পুঁতে ফেলা হয়। পুকুরটি মাছ শূন্য হয়ে যাওয়ার পর হযরত শাহজালাল (র.) এর অপর সফরসঙ্গী মৌলভীবাজারের শাহ মোস্তফার (র.) মাজার থেকে ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি ২৪ টি গজার মাছ এনে পুকুরে ছাড়া হয়। বর্তমানে পুকুরের গজার মাছের সংখ্যা কয়েক শ'তে দাঁড়িয়েছে বলে জানা যায়।

জালালী কবুতর ও নিজাম উদ্দিন আউলিয়া

হযরত শাহজালাল (র.) এর আধ্যাত্নিক শক্তির পরিচয় পেয়ে হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া(র.) তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেন। প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ তিনি তাঁকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর বা জালালী কবুতর উপহার দেন। সিলেট ও আশপাশের অঞ্চলে বর্তমানে যে সুরমা রঙের কবুতর দেখা যায় তা ওই কপোত যুগলের বংশধর এবং জালালী কবুতর নামে খ্যাত। সিলেটে জাতিধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কেউই এ কবুতর বধ করে না এবং খায় না। বরং অধিবাসীরা এদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে থাকে। শাহজালালের (র.) মাজার এলাকায় প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর উড়তে দেখা যায়। মাজার কর্তৃপক্ষ এসব কবুতরের খাবার সরবরাহ করে থাকেন।

রাজস্বমুক্ত কসবে সিলেট

হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন কামনাবাসনামুক্ত নির্লোভ সূফি সাধক। কথিত আছে, দিলস্নীর সম্রাট তাঁকে নবাবী প্রদান করে একটি সনদ পাঠান। হযরত শাহজালাল (র.) তা প্রত্যাখ্যান করেন এই বলে যে, তিনি সংসারবিরাগী ফকির, তাঁর নবাবীর প্রয়োজন নেই। এক পর্যায়ে সম্রাট তাঁকে সিলেটের জায়গীর গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। হযরত শাহজালাল (র.) তাতেও রাজি হননি।

শেষে সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজি হযরত শাহজালালের (র.) প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে সিলেট শহরকে রাজস্বমুক্ত (কসবে) বলে ঘোষণা দেন। এ কারণে আজো সিলেট শহরের ভূমি রাজস্ব থেকে মুক্ত।

জমজমের কূপ ও ঝরণা

লোকশ্রম্নতি আছে যে হযরত শাহজালাল (র.) একটি কূপ খনন করার আদেশ দিয়ে প্রার্থনা করেন আলস্নাহ যেন এই কূপটিকে জমজমের কূপটির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেন। এরপর তিনি লাঠি দিয়ে মাটির ওপর আঘাত করলেন আর সঙ্গে সঙ্গে এই কূপটির সাথে জমজমের কূপের মিলন ঘটে গেল। তারপর এর চারপাশ পাকা করে দেওয়া হলো এবং উত্তর পার্শ্বে দুটি পাথর বসিয়ে দেওয়া হলো-যা থেকে দিনরাত পানি প্রবাহিত হয়।

ডেকচি

মাজারের পূর্ব দিকে একতলা ঘরের ভেতরে বড় তিনটি ডেকচি রয়েছে। এগুলো ঢাকার মীর মুরাদ দান করেছেন বলে জানা যায়। মীর মুরাদ ঢাকার হোসেনী দালান তৈরী করেন। যদিও ডেকচিগুলোতে রান্নাবান্না হয় না, তবুও কথিত আছে প্রত্যেকটিতে সাতটি গরম্নর মাংস ও সাত মণ চাল এক সাথে রান্না করা যায়। পূণ্যের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ডেকচিগুলোতে প্রচুর টাকাপয়সা দান করেন।

চিলস্নাখানা

মাজারের দক্ষিণ দিকে গ্রীলঘেরা তারকাখচিত ছোট্ট যে ঘরটি রয়েছে, এটি হযরত শাহজালালের (র.) চিলস্নাখানা। স্থানটি মাত্র দু’ফুট চওড়া। কথিত আছে যে, হযরত শাহজালাল (র.) এই চিলস্নাখানায় জীবনের ২৩ টি বছর আরাধনায় কাটিয়েছেন।

শাহজালালের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি

হযরত শাহজালাল (র.) কেবল একজন পীর ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বীর মোজাহিদ। তার ব্যবহৃত তলোয়ার, খড়ম, প্লেট এবং বাটি দর্শনার্থীদের দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। দরগার দক্ষিণ দিকে দরগাহ মাদ্রাসা বিল্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে একটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এই পথ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার পর বাঁ দিকের বাড়িটি মুফতি নাজিমুদ্দিন আহমদের। এই বাড়িতে হযরত শাহজালালের (র.) তলোয়ার ও খড়ম সংরক্ষিত আছে। প্লেট ও বাটি সংরক্ষিত আছে দরগাহ’র মোতওয়ালিস্নর বাড়িতে। এগুলো দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভীড় জমে।

দরগাহ মসজিদ

বাংলার সুলতান আবু মুজাফ্ফর ইউসুফ শাহের মন্ত্রী মজলিশে আতার আমলে ১৪০০ সালে দরগাহ চত্বরে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ১৭৪৪ সালে বাহরাম খাঁ ফৌজদারের সময় এটি পুনর্নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি সিলেট শহরের অন্যতম একটি মসজিদ।

হযরত শাহজালালের (র.) সিলেট আগমন

হযরত শাহজালাল (র.) আরবের ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর পিতা মাহমুদ বিন মোহাম্মদ ছিলেন কোরায়শ বংশের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁকে পীরদের পীর হিসেবে অভিহিত করা হতো। তিনি বিধর্মীদের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন। তাঁর মা ছিলেন সৈয়দ বংশের এক মহীয়সী নারী। শাহজালালের (র.) বয়স তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। মায়ের মৃত্যুরপর মামা সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দী তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে লালনপালন করেন। তিনি ভাগ্নেকে এমনভাবে বড় করতে চান যাতে তিনি পা--ত্য ও বৈদগ্ধের স্তরে গিয়ে পৌঁছে যেতে পারেন। ধীরে ধীরে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা প্রকাশ পেতে থাকে।

কথিত রয়েছে, একদিন সৈয়দ আহমদ কবির তাঁর নিজ গৃহের ভেতর থেকে এক মুঠো মাটি নিয়ে এসে হযরত শাহজালালের (র.) হাতে দিয়ে বললেন, ভারতবর্ষের দিকে বেরিয়ে পড়ো এবং যে মাটির সাথে এ মাটির রূপ-রস-ঘ্রাণের সাদৃশ্য খুঁজে পাবে সেখানে এই মাটি ছড়িয়ে দিয়ে আস্তানা গাড়বে। শাহজালাল (র.) তাঁর পীরের কথা অনুযায়ী হাজী ইউসুফ ও হাজী খলিলসহ আরো কিছু শিষ্য নিয়ে ভারতবর্ষের দিকে রওয়ানা হলেন। প্রথমে তিনি নিজ বাসভুমি ইয়েমেনে এসে পৌঁছেন। এসময় ইয়েমেনে এক অত্যাচারী রাজা ছিলেন। তিনি বিষপানে হযরত শাহজালালকে (র.) বধ করার চেষ্টা চালান। কিন্তু হযরত শাহজালালের (র.) কৌশলের কাছে রাজার দুরভিসন্ধি পরাজিত হয়। রাজার মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র শেখ আলি ক্ষমতায় অভিষিক্ত হন। শেখ আলি হযরত শাহজালালের (র.) গুণ ও কোমলমতির পরিচয় পেয়ে তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি হযরত শাহজালালের (র.) সফরসঙ্গী হলেন। হযরত শাহজালাল (র.) তাঁর পীরের দেওয়া মাটি শেখ আলির হাতে দিয়ে বললেন, আমরা যখন যেখানে গিয়ে পৌঁছাব, সেখানকার মাটির সঙ্গে এ মাটির রূপ-রস-গন্ধ তোমাকে মিলিয়ে দেখতে হবে- এটাই হল তোমার কাজ। শেখ আলিকে জিহবা দিয়ে চুষে মাটি নিরীক্ষণ করতে হতো। সে কারণে আজো তাঁকে চাষণির পীর হিসেবে অভিহিত করা হয়।

হযরত শাহজালাল (র.) যখন দিলস্নীতে পৌঁছান, তখন সেখানকার বিখ্যাত পীর ছিলেন নিজাম উদ্দিন আউলিয়া। তিনি প্রকৃত অর্থেই অনুধাবন করতে পারলেন হযরত শাহজালাল (র.) একজন দরবেশ। তিনি ছাই রঙের এক জোড়া কবুতর উপহার হিসেবে পাঠিয়ে তাঁকে তার দরবারে নিমন্ত্রণ জানালেন।

হযরত শাহজালাল (র.) যখন সিলেটে আসেন-তখন এখানে গোবিন্দ নামক এক রাজার রাজত্ব ছিল। এ রাজ্য জাদুটোনার জন্য বিখ্যাত ছিল। রাজা গোবিন্দের জন্মস্থান গৌড়ে থাকায় তাকে গৌড়গোবিন্দ নামে ডাকা হতো। হযরত শাহজালাল (র.) ও তাঁর সঙ্গীরা যখন গৌড় রাজ্য অধিকার করেন-তখন রাজা গৌড় ছেড়ে সিলেটে আশ্রয় নেন এবং নিজেকে রাজা বলে দাবি করতে থাকেন। ওই সময় সিলেট শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত টুলটিকর নামক স্থানে শেখ বোরহান উদ্দিন নামক একজন মুসলমান থাকতেন। বোরহান উদ্দিন ছিলেন নিঃসমত্মান। আলস্নাহর কাছে অনেক প্রার্থনার পর তিনি একটি পুত্র সমত্মান লাভ করলেন। তাঁর সমত্মানের আকিকা উপলক্ষে তিনি একটি গরম্ন কুরবানি দেন। এসময় একটি কাক অথবা একটি চিল এক টুকরো মাংস তুলে নিয়ে গৌড়গোবিন্দের গৃহপ্রাঙ্গণে ফেলে দিল। কুসংস্কার আশ্রিত রাজা ভীষণ রাগান্বিত হলেন। তিনি বোরহান উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে তাঁর হাতের কব্জি কেটে দিলেন এবং তার নিষ্পাপ শিশুকে জবাই করে হত্যা করলেন। এতে বোরহান উদ্দিন নিরূপায় হয়ে পড়লেন। তাঁর মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে থাকে। একদিন বোরহান উদ্দিন গোপনে শহর ছেড়ে দিলস্নীর সুলতান আলাউদ্দিন ইবনে মাহমুদ শাহের দরবারে গিয়ে হাজির হলেন। তিনি সুলতানের কাছে তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারের কাহিনী বর্ণনা করলেন। সুলতান এ মর্ম পীড়াদায়ক কাহিনী শুনে ভীষণ আঘাত পেলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বোরহান উদ্দিনের উপর অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাঁর ভাতিজা সিকন্দর শাহকে সসৈন্যে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। সিকন্দর গাজি ব্রহ্মপুত্র পার হয়ে সোনারগাঁয়ে আস্তানা গাঁড়লেন। খবর পেয়ে গৌড়গোবিন্দ তার জাদুকরদের ভৌতিক শক্তির সাহায্যে সিকন্দর গাজির সৈন্যদের ওপর জাদুমিশ্রিত অগ্নিবাণ নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে সিকন্দর গাজির সৈন্যরা পরাস্ত হয়। এরপর ঘটনাক্রমে শাহজালালের (র.) সাথে দেখা হয় সিকন্দর গাজির। তখন তাঁদের সৈন্য সংখ্যা তিন শত ষাট-এ গিয়ে দাঁড়াল। সিকন্দর গাজি তার সকল কথা শাহজালালকে (র.) সবিস্তারে জানালেন। তিনি তাঁর কথা শুনে বললেন, ‘আমিও এসেছি সকল অপশক্তি ধ্বংস করে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, তাই তুমি যদি সিলেট-বিজয় করতে চাও তাহলে আমার সঙ্গে আসতে পার।’

হযরত শাহজালাল (র.) যোদ্ধাগণকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। ব্রহ্মপুত্রের তীরে পৌঁছে দেখলেন এখানে কোনো নৌকা নেই। তিনি তার মুসালস্না(জায়নামাজ) বিছিয়ে দিয়ে সকলকে নিয়ে নদী পার হন বলে লোকশ্রম্নতি রয়েছে। তাঁরা যখন সিলেটের চৌকি পরগনায় পৌঁছলেন, তখন গৌড়গোবিন্দের সৈন্যরা তাঁর প্রতি অগ্নিবাণ ছুঁড়তে লাগল। কিন্তু হযরত শাহজালাল (র.) তাঁর অলৌকিক ক্ষমতায় তা প্রতিহত করলেন, যা ফিরে গিয়ে গৌড়গোবিন্দের আস্তানায় অন্ধকার জালের সৃষ্টি করল। এ দৃশ্য দেখে সৈন্যরা ঘাবড়ে গেল। এ খবর শুনে বিচলিত হয়ে পড়লেন গৌড়গোবিন্দ নিজেও। এ অবস্থায় হযরত শাহজালাল (র.) বরাক নদীর তীরে এসে পৌঁছলেন। কিন্তু এখানেও পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবারও তিনি জায়নামাজ বিছিয়ে সঙ্গীদের নিয়ে নদী পার হন বলে লোকশ্রম্নতি আছে। তারপর সিলেট শহরের দক্ষিণ দিকে জালালপুর পরগণায় এসে পৌঁছেন। এসময় গৌড়গোবিন্দ একটি বিশাল লোহার কামান হাতির ওপর সওয়ার করে শাহজালালের কাছে পাঠালেন। রাজার দূতরা জানাল, তিনি যদি ধনুতে শরযোজনা করতে পারেন, তাহলে তিনি তার জাদুটোনা থেকে বিরত থাকবেন এবং বিনাযুদ্ধে রাজ্যভার ছেড়ে দেবেন। শাহজালাল (র.) তার শর্ত মেনে নেন। এরপর হযরত শাহজালাল (র.) তাঁর সফরসঙ্গী নাসিরউদ্দিনকে ধনুতে শরযোজনা করতে বললেন। কিন্তু তা খুবই কষ্টকর ছিল। নাসিরউদ্দিনের এ অবস্থা দেখে হযরত শাহজালাল (র.) তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার দ্বারা তাঁকে সহযোগিতা করেন। সঙ্গে সঙ্গে নাসিরউদ্দিন সফল হন। এই অসাধ্য সাধন দেখে চারদিক থেকে হর্ষধ্বনি ওঠে এবং আকাশবাতাস প্রকম্পিত হয়। এরপর কামানটি গৌড়গোবিন্দের দিকে এগিয়ে আসে। কোনোক্রমে রাজা পলায়নের উদ্দেশ্যে কাছাড়ের পথ ধরলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো হদিস মেলেনি।

হযরত শাহজালাল (র.) এখানে রাজ্য জয় করে দেখেন তাঁর পীর সৈয়দ আহমদ কবিরের দেওয়া এক মুঠো মাটির সাথে এখানকার মাটির অদ্ভূত মিল রয়েছে। তিনি সিলেট শহরের দরগা মহলস্নায় একটি ছোট্ট টিলায় তাঁর আস্তানা গাড়লেন। এখানে বসেই এবাদত-বন্দেগি করতে থাকেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদেরকে শহরের বিভিন্ন স্থানে, পরগণায় ইসলাম প্রচারের জন্য পাঠিয়ে দেন। শুধু ইয়েমেনের রাজপুত্র, হাজি ইউসুফ ও হাজী খলিলসহ আরো কয়েকজন খাদেমকে তাঁর কাছাকাছি রাখেন বলে জানা যায়। এখান থেকে তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে লাগলেন এবং নিজের আস্তানাকে ধ্যান ও সাধনার এক অনুপম লীলাক্ষেত্রে পরিণত করেন। হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন কিংবদমিত্মতুল্য। জাতিধম,র্ বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের আধ্যাত্নিক শক্তি যোগাচ্ছেন এই সাধক পুরম্নষ।

বাংলা ভাষায় লেখা সিলেট অঞ্চলের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ ‘শ্রীহট্ট দর্পণ’-এ বলা হয়েছে-হযরত শাহজালাল (র.) যে ছোট্ট টিলায় বাস করতেন, মৃত্যুর পর সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। দাফনের পর তাঁর কবরের চারপাশে ছোট্ট দেওয়াল তোলা হয়। পাশেই বানানো হয় একটি মসজিদ।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্নিক পুরম্নষ হযরত শাহজালাল (র.) ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেটে আগমন করেন। তিনি ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে ৬৯ বছর বয়সে ইমেত্মকাল করেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। এজন্যই হযরত শাহজালালকে (র.) বলা হতো মজররদ।



হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার শরীফ:

তাপসকুল শিরোমণি হযরত শাহ্পরাণ (র.) শায়িত আছেন সিলেটের খাদিমপাড়ায়। সিলেট শহরের প্রায় ৮ কি. মি. পূর্ব দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কথেকে প্রায় ০.৩ কি. মি. ভিতরে সু-উচ্চ ও মনোরম টিলায় অবস্থিত হযরত শাহ্পরাণ (র.)-এর মসজিদ ও দরগাহ্। মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে সমাধিটি।



মহাপ্রভূ শ্রী চৈতন্যদেবের বাড়ী:

বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেবের পূর্বপুরম্নষের বাড়ী তাঁরই নামে খ্যাত মন্দির। তেরো ধাপ সিড়ি ভেঙে উপরে উঠলে মন্দিরপ্রাঙ্গণ। প্রথমেই সিংহদ্বার। বামদিকে পাশাপাশি পাঁচটি ছোট মন্দির। এগুলোর নাম হল- নাট মন্দির, দোল মন্দির, রাম মন্দির, শ্রীমন্দির আর ভোগ মন্দির। এখানে দোল মন্দিরই মূল মন্দির। পঞ্চদশ শতাব্দীতে শ্রীচৈতন্য ছিলেন বাংলার একজন সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তিনি ২৫ বছর বয়সকালে গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাসী হন। জাতিভেদ প্রথার বিরম্নদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেন। শ্রীকৃষ্ণের মানবিগ্রহ হিসেবে লাখ লাখ লোকের দ্বারা তিনি পূজিত হন। বাংলার ঘরে ঘরে তাঁর নাম প্রচার হয়। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সব শ্রেণির লোককে তিনি ভাইয়ের মতো আলিঙ্গন করে গেছেন। তাঁর কিছু কিছু শেস্নাক মন্দিরের গায়ে লেখা হয়েছে। এমন একটি হল: ‘মানুষ মানুষের ভাই’। ৮৯১ বঙ্গাব্দের ২৩ ফা-ুন পূর্ণিমা তিথিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে নাম রাখা হলো বিশ্বম্ভর। ওর মা ডাকতেন ‘নিমাই’ বলে। একসময়ে গৃহত্যাগ করে তিনি সন্ন্যাসী হন।



প্রকৃতি কন্যা জাফলং

প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমন পিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেট ভ্রমনে এসে জাফলং না গেলে ভ্রমনই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রুপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলং এর রুপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নি:শ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টি পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদ সংকুল-সে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে রয়েছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌ পথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে উঠে নতুন জনবসতিও। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর ৫৫ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট।

সিলেট থেকে যাতায়াত

সিলেট থেকে আপনি বাস/ মাইক্রোবাস/ সিএনজি চালিত অটোরিক্স্রায় যেতে পারেন জাফলং এ। সময় লাগবে ১ ঘন্টা হতে ১.৩০ ঘন্টা।

ভাড়াঃ বাস -জনপ্রতি ৫৫ টাকা

মাইক্রোবাস- ১৭০০-২০০০/-টাকা

সি এন জি চালিত অটো রিক্স্রাঃ ৭০০/ টাকা।



জিতু মিয়ার বাড়ী

চাদঁনী ঘাটের সিড়িঁ/ আলী আমজাদের ঘড়ি/ বন্ধু বাবুর দাড়ি/ আর জিতু মিয়ার বাড়ি সিলেটের পরিচিতিতে বহুল প্রচলিত এমন লোকগাঁথা। সিলেট নগরীর শেখঘাটে কাজীর বাজারের দক্ষিণ সড়কের ধারে ১ দশমিক ৩৬৫ একর ভুমি জুড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জিতু মিয়ার বাড়ি। চুন সুরকি দিয়ে নির্মিত মুসলিম স্থাপত্য কলার অনন্য নিদর্শন এ দালানটি নির্মাণ খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওরফে জিতু মিয়া। ১৯৯১ সালে এ বাড়ির সামনের দালানটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমান কাজিরবাজার গরুর হাট ছিল কাজিদের মূল বাড়ি। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে বাড়িটি লন্ডভন্ড হয়ে গেলে বর্তমানে জায়গায় বাড়িটি স্থানান্তরিত হয়। খাঁন বাহাদুর জিতু মিয়ার প্রথম স্ত্রী ছিলেন তার চাচা মাওলানা আব্দুল রহমানের মেয়ে সারা খাতুন। সারা খাতুনের অকাল মৃত্যুতে ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা রসুল বক্সের মেয়েকে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ স্ত্রীও অকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের ঘরে কোনো সন্তান সন্তনি ছিল না। তবে পরবর্তীতে জিতু মিয়ার ৫টি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়।

সে সব স্ত্রীর ঘরে তার বহু সন্তান সন্ততি রয়েছে। কিন্তু দুরদর্শী জিতু মিয়া তার জমিদারি ও বিশেষ করে আলীশান বাড়িটির অস্তিত্ব চিরদিন অক্ষত রাখান লক্ষ্যে মৃত্যুর আগে ১৯২৪ সালে নিজেকে নিঃসন্তান উল্লেখ করে তৎকালীন আসাম সরকারের অনুমোদন নিয়ে তারঁ যাবতীয় সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। কে বি এহিয়া ওয়াকফ এস্টেট নামে এস্টেট এর মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত হন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে সিলেট বিভাগে উন্নীত হলে বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকার বলে এ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত হন।

ইতিহাস ঘেটে জানা গেছে, মৌলভী আবু নছর মোহাম্মদ ইদ্রিছ কাজী হয়ে সিলেট আসেন নবাবী আমলে। সুরমা নদীর তীরে তারঁ বিচারালয়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে গড়ে উঠে একটি গঞ্জ। লোকজন একে খানবাহাদুর গঞ্জ বাজার বলে ডাকতো। তার মৃত্যু পর তার পুত্র মাওলানা আবু মোহাম্মদ আবদুর কাদির ও মাওলানা আবুল হোসাইন মোহাম্মদ আব্দুর রহমান তাদের বিশাল জায়গীরকে কেন্দ্র করে জমিদারি এস্টেট গড়ে তোলেন।



ক্বীনব্রীজ

সিলেট নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে ক্বীন ব্রীজের নামটি বেশ গর্বের সঙ্গেই উচ্চারিত হয়। সিলেটের প্রবেশদ্বার সিলেটের কীন ব্রীজ । সুরমা নদীর ওপর স্থির দাঁড়িয়ে এই ব্রীজ পথচারীদের জানান দেয় যুগ যুগান্তরের নানা রঙের ইতিহাসের। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর এ অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শনটি সাম্প্রতিক কালে সংস্কার করা হয়েছে ফলে আরো রঙে ,আরো সাজে সেজেছে ক্বীন ব্রীজ।

ইতিহাস থেকে ব্রীজটি সম্পর্কে নানা কথা জানা গেছে। গত শতকের তিরিশের দশকের দিকে আসাম প্রদেশের গভর্ণর ছিলেন মাইকেল ক্বীন। তিনি তখন সিলেট সফরে আসেন। তার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই এ ব্রীজটি নির্মাণ হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, সে সময় আসামের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ট্রেন। সঙ্গত কারণেই সুরমা নদীতে ব্রীজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। রেলওয়ে বিভাগ ১৯৩৩ সালে সুরমা নদীর ওপর ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় । ১৯৩৬ সালে ব্রীজটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। ব্রীজটির নামকরণ করা হয় গভর্ণর মাইকেল ক্বীনের নামে। ক্বীন ব্রীজ লোহা দিয়ে তৈরী। এর আকৃতি ধনুকের ছিলার মত বাঁকানো। ব্রীজটির দৈর্ঘ্য ১১৫০ ফুট। প্রস্থ ১৮ ফুট। ব্রীজ নির্মাণে তখনকার দিনেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৬ লাখ টাকা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তৎকালীন আসাম সরকারের এক্সিকিউটিভ সদস্য রায় বাহাদুর প্রমোদ চন্দ্র দত্ত এবং শিক্ষামন্ত্রী আব্দুল হামিদ ব্রীজটি নির্মাণের ক্ষেত্রে অশেষ অবদান রাখেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ডিনামাইট দিয়ে ব্রীজের উত্তর পাশের একাংশ উড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর কাঠ ও বেইলী পার্টস দিয়ে বিধ্বস্ত অংশটি মেরামত করা হয়। পরবর্তীতে তা হালকা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় ব্রীজের বিধ্বস্ত অংশ কংক্রীট দিয়ে পুনঃনির্মাণ করা হয়। তৎকালীন নৌ বাহিনীর প্রধান রিয়াল এডমিরাল এম এইচ খান সংস্কারকৃত ব্রীজটি উদ্বোধন করেন।

ব্রীজটি এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভিড় জমান।

সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থলে ক্বীনব্রীজ ।



আলী আমজাদের ঘড়ি

ঐতিহাসিক তথ্য মতে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিম পাশার জমিদার আলী আমজাদ ১৮৭৪ সালে সিলেট জেলার সুরমা নদীর তীরবর্তী স্থানে এই অনন্য সুন্দর স্থাপনাটি তৈরী করেন। তাঁর নাম অনুসারে এটিকে আলী আমজাদ এর ঘড়ি হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৮৭৪ সালে সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের সাথে একত্রীভুক্ত হয়। তখন এই নিয়ে সিলেটে তীব্র প্রতিবাদ হয়। সিলেটের জনগণকে শান্ত করার জন্য তৎকালীন বড়লাট লর্ড নর্থ ব্রম্নক সিলেট সফর করেন এবং বড়লাটের সফর উপলক্ষে এবং স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধার্থে জমিদার আলী আমজাদের নিজ তহবিল হতে এই ঘড়িটি নির্মাণ করা হয়।

প্রায় ১৪০ বছর যাবৎ উক্তটি ঘড়িটি আলী আমজাদের স্মৃতি বহন করে আসছে। সম্প্রতি সিলেট সিটি কর্পোরেশেনের উদ্যোগে ঘড়িটি আধুনিকায়ন ও মেরামত করা হয়। এটি সিলেট জেলার একটি অন্যতম পর্যটন আকষর্ণীয় স্থান। দেশী-বিদেশী অনেক পর্যটক এই ঘড়িটি একনজরে দেখার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় জমায়।

অবস্থান:সিলেট সার্কিট হাউজ ও ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা:সিলেট রেলওয়ে স্টেশন অথবা কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হতে ১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে গেলেই ঐতিহাসিক আলী আমজাদ ঘড়িটির অবস্থান।

ঘড়িঘরের পরিমাপ:দৈর্ঘ্য: ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি ; প্রস্থ: ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি; নীচ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা: ১৩ ফুট; ছাদ থেকে ঘড়ি অংশের উচ্চতা: ৭ ফুট ; ঘড়ির উপরের অংশের উচ্চতা : ৬ ফুট ; মোট উচ্চতা : ২৬ ফুট।



সিলেট মণিপুরি মিউজিয়াম

ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা উপকরণে সমৃদ্ধ সিলেট মণিপুরি মিউজিয়াম। এতে রয়েছে কয়েক শ’ বছরের পুরনো ঘন্টা, যুদ্ধে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জিনিসপত্র এবং মণিপুরীদের তৈরী হ্যান্ডলুম। মণিপুরিদের কৃষ্টি-কালচারকে তুলে ধরাই মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

সুবিদবাজারে ভাড়া করা বাড়িতে মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মিউজিয়ামটির জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা খোজা হচ্ছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক হারুনুর রশীদ খান মিউজিয়ামটির জন্য স্থায়ী ভূমি বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন।

বৃহত্তর সিলেটে প্রায় সোয়া লাখ মণিপুরি রয়েছে। সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এ সম্প্রদায়ের লোকজনের বসবাস। এরা ক্ষুদ্র জাতিসত্তা হিসাবে পরিচিত। মণিপুরিদের তৈরী হস্তশিল্প খুবই জনপ্রিয়।মণিপুরিদের সংস্কৃতি খুবই বৈচিত্রময়।
তাদের বড় উৎসব হচ্ছে রাস পূর্ণিমা। এ পূর্ণিমাকে ঘিরে প্রতিবছর মণিপুরিদের মিলনমেলা বসে। মণিপুরিদের সংস্কৃতিকে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে নব প্রতিষ্ঠিত মিউজিয়ামটি অবদান রাখবে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।



মনিপুরী রাজবাড়ী

মনিপুরী সিলেট তথা বাংলাদেশের আদি সম্প্রদায়ের অন্যতম জনগোষ্ঠি। নগর সিলেটের মির্জাজাঙ্গালে অবস্থিত মনিপুরী রাজবাড়ী প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তির অন্যতম নির্দশন। এ ভবনের নির্মাণ শৈলী সিলেট অঞ্চলের কৃষ্টি-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এককালের প্রভাবশালী রাজা গম্ভীর সিং এর স্মৃতিধন্য এ বাড়িটি আজ অবহেলিত ও বিলীন প্রায়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে প্রকৃত ভবন হারিয়েছে তার স্বকীয়তা। বাড়ীর সুপ্রাচীন প্রধান ফটক, সীমানা দেয়াল, মনোহর কারুকাজের সিড়ি ও বালাখাঁনার ধ্বংসাবশেষই বর্তমান মনীপুরী রাজবাড়ীর স্মৃতি সম্বল। এখনও ধ্বংস স্ত্তপের মতো টিকে থাকা স্থাপনাটি এ বাড়ীসহ সিলেটে বসবাসরত মনিপুরী সম্প্রদায়ের গভীর শ্রদ্ধা-ভক্তির স্থান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঊনবিংশ শতাব্দীতে সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালে রাজবাড়ীটি স্থাপিত হয়। তৎকালীন মনিপুরী রাজ্যের তিন সহোদর রাজা চৌর্জিৎ সিং, মার্জিত সিং ও গম্ভীর সিং রাজবাড়ীটি তৈরী করে এখানে বসবাস করেন। পরে চৌর্জিৎ সিং ও মার্জিত সিং কমলগঞ্জের ভানুগাছ এলাকায় বসতী স্থাপন করলেওরাজা গম্ভীর সিং থেকে যান মির্জাজাঙ্গালের রাজবাড়ীতে। ১৮২৬ সালে বৃটিশ সরকারের সহযোগিতায় বার্মার সাথে যুদ্ধ করে মনিপুর রাজ্য পুরুদ্ধারের আগ পর্যন্ত রাজা গম্ভীর সিং সপরিবারে এখানেই অবস্থান করেন। ইতিহাসে মনিপুরীদের কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় ১৮১৯-১৮২৬ সাল পর্যন্ত । ১৮২২ সালে মনিপুরী রাজ্যের সাথে বার্মার যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যায়। অসংখ্য মনিপুরী পরিবার নিজ আবাসভূমি ছেড়ে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজা চৌর্জিৎ সিংও কাছাড়ে পালিয়ে যান। রাজ্যভার গ্রহণ করেন তার সহোদর মার্জিত সিং। এক পর্যায়ে মার্জিত সিং বার্মিজদের কাছে পরাস্থ হন। পরিশেষে চৌর্জিৎ , মার্জিত ও গম্ভীর তিন ভাই একত্রে পুনরায় চলে আসেন মির্জাজাঙ্গালের রাজবাড়ীতে। তৎকালীন বৃটিশ উপনিবেশ শাসকদের আশ্রয়ে এখানেই বসতী স্থাপন করেন। বৃটিশ সরকারের অনুরোধে সিলেটে সশস্ত্র খাসিয়াদের দমনে মনিপুরী লেভী (সৈন্যবাহিনী) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদিকে, সিলেটে দীর্ঘদিন অবস্থানের সুবাদে মনিপুরিদের সাংস্কৃতিক সম্ভারের নানা দিক এ অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যা এখনো প্রতীয়মান হয় মনিপুরী নৃত্য, গান ও পোষাক ছাড়াও সিলেটের কৃষ্টি সংস্কৃতিতে।

মনিপুরী সম্প্রদায়ের ইতিহাস-আবেগ-অনুভূতির অন্যতম স্থান মির্জাজাঙ্গালের রাজবাড়ীর সংস্কারের জন্য আজ অবধি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। রাজা কতৃক নির্মিত প্রাসাদের তিন চতুর্থাংশের কোন অস্তিত্ব নেই। উপরন্তু রাজবাড়ীর সামনে অপরিকল্পিত ভাবে মন্দির নির্মান করে রাজবাড়ীর পুরাকীর্তি ঢেকে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে মনিপুরী ঠাকুর ও ব্রাহ্মণ পরিবারের লোকজন বংশ পরম্পরায় বসবাস করছেন এ রাজবাড়ীতে। পূর্বসুরী রাজার রেখে যাওয়া নানা বস্ত্তকে স্বর্ণালী স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে আছে পরিবারগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- একমণ ওজনের মন্দিরের একটি ঘন্টা যার গায়ে মনিপুরী ভাষায় লেখা আছে,‘‘শ্রীহট্ট কুনোঙ্গী শ্রী মহাপ্রভুদা শ্রীলশ্রী পঞ্চযুক্ত মনিপুরে স্বরচন্দ কীর্ত্তি সিংহ মহারাজন্য কৎখিবী সরিকনি ইতিশকাব্দা ১৮০০ তারিখ ১৮ জৈষ্ঠ্য’’।

মনিপুরী সংস্কৃতি সিলেটের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যেরই অংশ । দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই সুপ্রাচীন, ঐতিহাসিক রাজবাড়ির সংস্কার ও পুরাকীর্ত্তির সংরক্ষনে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।



মিউজিয়াম অব রাজাস’

মরমী কবি হাছন রাজা ও পরিবারের অন্য সদস্যদেও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিলেট নগরীর প্রানকেন্দ্র জিন্দাবাজারে গড়ে তোলা হয়েছে একটি যাদুঘর। এর নাম দেওয়া হয়েছে মিউজিয়াম অব রাজাস’। এখানে দেশ বিদেশের দর্শনার্থীরা হাছন রাজা ও তার পরিবার সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে প্রতিদিন ভিড় করছেন।

মিউজিয়ামে দেওয়ান হাছন রাজা ও দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরীর মূল্যবান ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও গানের পান্ডুলিপি শোভা পাচ্ছে। প্রবেশদ্বারে রয়েছে হাছন রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষের একটি পিলার। মিউজিয়ামটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে-পবিত্র কোরআন শরীফের ছোট আকারের একটি কপি। কোরআন শরীফটির সাইজ হচ্ছে-পৌণে এক ইঞ্চি বাই এক ইঞ্চি। এখানে শোভা পাচ্ছে-হাছন রাজার ঘোড়ার বেল্ট, তাঁর জন্মস্থান ও জমিদারী এলাকা থেকে সংগৃহীত ইট, রাজার পোষা কুড়া পাখি ও হাতির নামের তালিকা, তার ব্যবহৃত শ্বেত পাথর ও রুপার তৈজস পত্র, হাছন রাজার ওপর নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়া ছবিতে ব্যবহৃত পোষাক ও ছবির সিডি, তার স্ত্রীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র, দেওয়ান একলিমুর রাজার ব্যবহৃত চেয়ার, তার স্ত্রীর ব্যবহার্য সোনার তারের ও রুপার তারের তৈরী পোষাক, তার ব্যবহৃত হিসাবের খাতা, বৃটিশ সরকার প্রদত্ত খান বাহাদুর মেডেল এবং দেওয়ান তাছাড়া রাজা সংগৃহিত হাছন রাজার গানের পান্ডুলিপি।

আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে মন্ত্রীদের কাছে দেওয়ান তালেবুর রাজার লেখা চিঠি, তার ব্যবহৃত ঘড়ি, কলম, আংটি, লাইসেন্স, দেওয়ান তওয়াবুর রাজা চৌধুরীর ব্যবহৃত ছুরি, দেওয়ান ছয়ফুর রাজা চৌধুরী সংগৃহীত হাঙ্গরের দাঁতও যাদুঘরে স্থান পেয়েছে। হাছন রাজার বংশধরদের চার্টও মিউজিয়াম সংগৃহীত আছে।

দেওয়ান হাছন রাজা বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জে ১২৬৯ সালের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ডিসেম্বর মাসে) জন্মগ্রহণ করেন। হাছন রাজার গান বাংলা লোক সঙ্গীতের অমূল্য সম্পদ। মূলত সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক উপভাষায় রচিত তার গান। তবু বাণী বৈচিত্রে ও সুর মাধুর্যে এ গান অঞ্চল নির্বিশেষে বাংলাভাষী সকল জনগোষ্ঠীর হৃদয় জয় করেছে। অর্জন করেছে বিপুল জনপ্রিয়তা। কেবল জনপ্রিয়তাই নয়, ভাবের গভীরতা ও উৎকর্ষের বিচারে হাছন রাজার গান কালজয়ী সাহিত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৩২৯ সালের ২১ অগ্রহায়ণ(৭ ডিসেম্বর,১৯২২) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।





সিলেটী নাগরী লিপি

সিলেটের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বলতম দলিল নাগরী লিপি। এই রীতিতেই রচিত তৎকালীন উন্নত সাহিত্য। সিলেটের আঞ্চলিক বা কথ্য ভাষার রয়েছে বিজ্ঞান সম্মত লিপি মালা। গবেষক ও ভাষা বিজ্ঞানীদের কাছে এটি রীতিমতো বিস্ময়কর। নাগরীর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-এটি সিলেট অঞ্চলের মুসলমানদের একান্ত নিজস্ব সম্পদ।

নাগরীর অক্ষর মাত্র ৩২টি। যুক্ত বর্ণ সাধারণত ব্যবহৃত হয় না। মাত্র আড়াই দিনে শেখা যায়। তাই মহিলাদের মধ্যে নাগরীর প্রচার ও প্রসার ছিল বেশী। এখনো অনেক মহিলা নাগরী জানেন।

নাগরীতে রচিত পুঁথি পুস্তকের বিষয়বস্ত্ত প্রধানত নামায, রোজা, হজ্ব, যাকাত, ইসলামী ইতিহাস, ঐতিহ্য, কাহিনী এবং রাগ, বাউল ও মরমী সঙ্গীত। এ পর্যন্ত ৮৮টি মুদ্রিত গ্রন্থসহ(নাগরী হরফে) ১৪০টি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। ‘সিলেটী নাগরী লিপি ভাষা ও সাহিত্য’ সম্পর্কে গবেষণা করে জনাব গোলাম কাদির ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।

নাগরী সাহিত্যে ছাদেক আলী সর্বাধিক জনপ্রিয় কবি। তিনি ১৭৯৮ সালে কুলাউড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে তার নাম ছিল গৌর কিশোর সেন। ১৮২৩ সালে তিনি মৌলভীবাজারের মুনসেফ ছিলেন।

নাগরী পুঁথি রচয়িতাদের মধ্যে এ পর্যন্ত মুন্সী ইরপান আলী,দৈখুরা মুন্সী, আব্দুল ওহাব চৌধুরী, আমান উল্যা, ওয়াজি উল্যা, শাহ হরমুজ আলী, হাজী ইয়াছিনসহ ৫৬ জনের পরিচিতি পাওয়া গেছে। গোলাম হুসনের লিখিত ‘তালিব হুসন'কে প্রথম গ্রন্থ রুপে ধরে নেওয়া হয়।

ড: সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীকে নাগরী লিপির প্রচলন কাল বলে মত প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে মোঘলদের দ্বারা তাড়িত হয়ে সিলেটে আগত আফগান পাঠানরা এর সৃষ্টি করেন। এ ব্যাপারে আরেকটি মত চালু রয়েছে। সেটি হল- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ সৃষ্ট সংস্কৃত বহুল বাংলার বিকল্প রুপে সিলেটীরা এই লিপি ও সাহিত্যের জন্ম দেন।

নাগরী লিপিতে সাহিত্য সৃষ্টির অনেক পর এর মুদ্রণ শুরু হয়। টাইপ ও ছাপা খানার অভাবে হাতে লিখেই নাগরীর প্রসার ঘটে। এ সময় সিলেট শহরের হাওয়াপাড়া নিবাসী মৌলভী আব্দুল করিম ইউরোপ সফর শেষে দেশে ফেরেন। নাগরী লিপির টাইপ তৈরি করে চালু করেন ছাপা খানা। বন্দর বাজারে স্থাপিত ঐ প্রেসের নাম ছিল ইসলামিয়া প্রেস। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রেসটি বোমায় পুড়ে যায়। সিলেট শহরের নাইওরপুলে ছিল সারদা প্রিন্টিং পাবলিশিং। ১৯৪৭ পূর্ববর্তীকালে কলকাতা ও শিয়ালদহেও নাগরী লিপির প্রেস ছিল।

বৃহত্তর সিলেট, কাছাড়, করিমগঞ্জ, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় নাগরী লিপি ও সাহিত্যের প্রচার ও সমাদর ছিল। বর্তমানে নাগরীর চর্চা কম হলেও তা একেবারে হারিয়ে যায়নি।



হাকালুকি হাওর

হাকালুকি হাওর সিলেটের অন্যতম বৃহৎ হাওর। বড়লেখা, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সেটি বিসত্মৃত। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা ছাড়াও মৎস্য সম্পদের এক বিশাল ক্ষেত্র। অতিথি পাখির অন্যতম বিচরণ ক্ষেত্র হাকালুকি হাওর। শীত মৌসুমে হাজার হাজার অতিথি পাখি সেখানে আসে।



মালনীছড়া চা বাগান

সিলেট তথা বাংলাদেশের প্রথম চা-বাগান মালনীছড়ার গোড়াপত্তন হয় ১৮৫৪ সালে। সিলেট শহরের অতি নিকটের এই চা-বাগান বৈষয়িক কোলাহলে তার শ্রী ইতোমধ্যে অনেকটা হারিয়েছে। তারপরও ভ্রমণের জন্য এক অভূতপূর্ব স্থান।



বঙ্গবীর ওসমানী শিশু পার্ক

সিলেট নগরীতে বিনোদনের জন্য উপযোগী কোন পার্ক ছিল না। তবে সিলেটের এই অপবাদ ঘুচিয়ে দিয়েছে সিলেটের ওসমানী শিশু পার্ক। সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র ধোপা দিঘীর পাড়ে দেখার মত বিনোদনকেন্দ্র এই বঙ্গবীর ওসমানী শিশুপার্ক। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নামে ওসমানীরই শেষ ইচ্ছা অনুয়ায়ী ২০০০ সালে স্থাপিত হয় এটি। এই পার্ক স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। প্রায় ৮ একর আয়তনের এই পার্কে এখন দর্শনার্থীদের ভিড় দেখার মত। নানা ধরণের গেমস ছাড়াও এখানে শিশুরা চড়তে পারে ঘোড়া, ট্রেন, নৌকা, চড়কি। আর দেখতে পারে বন থেকে আনা স্নো চিতা, বনের বানর ও ছোট বড় সব অজগর সাপ। যখন নগরীর প্রাণকেন্দ্রের এই পার্কে দল বেঁধে শত-শত বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন প্রতিদিন। এখানে প্রাণের মেলা বসে প্রতিদিন।



পর্যটন মোটেল সিলেট

সুবাস চন্দ্র নন্দি

ইউনিট ম্যানেজার



এয়ারপোর্ট রোড, বড়শোলা, সিলেট

টেলিফোন-০৮২১-৭১২৪২৬



কি ভাবে যাবেনঃ বাস- ঢাকা সিলেট প্রতিদিন বাস সার্ভিস ।

বিমান এবং ট্রেন



অবস্থানঃ সিলেটের আম্বরখানা হতে মাত্র ০৫ মিনিটের যাত্রা।

রুম ভাড়াঃ



টুইন বেড(এসি, টিভি, ইন্টারকম) ১৪০০/-+ ভ্যাট

টুইন বেড (নন এসি, ইন্টারকম) ৮০০/-+ ভ্যাট



সুবিধাঃ ৬০ আসন বিশিষ্ট শীতাতাপ নিয়ন্ত্রীত রেস্টুরেন্ট

জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী পালন করার ব্যবস্থা।

১০০ আসন বিশিষ্ট কনফারেন্স হল

পর্যবেক্ষন টাওয়ার, এমিউজম্যান্টে পার্ক, আইস ক্রীম, এবং স্ন্যাকস এবর ব্যবস্থা রয়েছে।



শাহী ঈদগাহ

স্থানটি নানা কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। এখানেই হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে ইংরেজ বিরোধী অভ্যুত্থান হয়েছে। ভারতের অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্না গান্ধী থেকে শুরু করে কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের মতো নেতাদের পাদস্পর্শে ধন্য স্থানটি। অতীতে সিলেটের বড় বড় সমাবেশের স্থানও ছিল এটি। আর প্রতি বছর ঈদ জামায়াতে লোক সমাগমের বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য।

স্থানটি হচ্ছে- সিলেটের শাহী ঈদগাহ। দেশের প্রাচীনতম ঈদগাহ এটি। মনোমুগ্ধকর কারুকার্যময় এই ঈদগাহটি মোগল ফৌজদার ফরহাদ খাঁ নির্মাণ করেন। এখানে এক সাথে প্রায় দেড় লাখ মুসল্লী ঈদের জামাত আদায় করতে পারেন। ঈদগাহর প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই মনোরম। নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় এর অবস্থান। তাই ঈদগাহটির এমন নামকরণ হয়েছে। ঈদগাহের উত্তরে শাহী ঈদগাহ মসজিদ, পাশে সুউচ্চ টিলার ওপর বন কর্মকর্তার বাংলো, দক্ষিণে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিলেট কেন্দ্র, পূর্ব দিকে হযরত শাহজালাল(র:) এর অন্যতম সফরসঙ্গী শাহ মিরারজী (র:) এর মাজারের পাশের টিলার ওপর রয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস।

অনুপম কারুকার্যখচিত এই ঈদগাহের মূল ভূ-খন্ডে ২২টি সিঁড়ি মাড়িয়ে উপরে উঠতে হয়। এরপরই ১৫টি গম্বুজ সজ্জিত ঈদগাহ। সীমানা প্রাচীরের চারদিকে রয়েছে-ছোট বড় ১০টি গেইট। ঈদগাহের সামনে অজুর জন্য বিশাল পুকুর অবস্থিত।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৭৮২ খ্রীষ্টাব্দে এখানে সৈয়দ মোহাম্মদ হাদী ও সৈয়দ মোহাম্মদ মেহেদী ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে ইংরেজ বিরোধী অভ্যূত্থান সংঘটিত হয়। ইংরেজদের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয় শহীদ হন।

প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে এখানে বিশাল দুটি ঈদ জামাত অনুষ্টিত হয়। এখানে এক সাথে লক্ষাধিক মুসল্লি ঈদ জামাত আদায় করতে পারেন।



বেত শিল্প

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সিলেটের বেত শিল্প অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি বেতের আসবাপত্রের দোকান ছিল সেখানে এখন দোকান রয়েছে প্রায় শতাধিক। এ পেশার সাথে যুক্ত আছে সহস্রাধিক শ্রমিক। বর্তমানে বাংলাদেশের বেতের আসবাপত্রের চাহিদার সিংহভাগ যোগান দেয় সিলেটের বেত শিল্প । অভ্যন্তরিন চাহিদা পূরন করে বর্তমানে সিলেটের বেত সামগ্রী আমেরিকা, ইংল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

প্রায় ২০ বছর পূর্বে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন(বিসিক) এর উদ্যোগে সিলেটে নগরীর ঘাসিটুলা এলাকায় একটি বেতশিল্প গড়ে তোলা হয়। কিছুদিন পর সেটা বন্ধ হয়ে যায়।বর্তমানে অনেকেই ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এই শিল্পের প্রসারে ভূমিকা রাখছে।

সিলেট এক সময় বেতের জন্য বিখ্যাত ছিল। সিলেটে ১৮৮৫ সালে প্রথম বেতের ফার্নিচার ম্যানুফেকচার হয়। ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সিলেটের বনাঞ্চলে প্রচুর বেত পাওয়া যেত। যদিও পরবর্তীতে সিলেটে অঞ্চলে বেতের উৎপাদন কমে আসতে থাকে। বর্তমানে উৎপাদিত বেতে চাহিদা পূরন না হওয়ায় বিদেশ থেকেও বেত আমদানি করা হচ্ছে।

সিলেটে বর্তমানে প্রায় ৫০ প্রকারের বেত জাতীয় পণ্য তৈরী হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বেতের তৈরী ম্যাগাজিন র‌্যাক, টেলিফোন চেয়ার, সোফা সেট, বেড সেট, স্যুজ রেক, ট্রলি, টেবিল, শেলফ, রিডিং টেবিল, রকিং চেয়ার, টেলিফোন টেবিল, ফোল্ডিং চেয়ার, আর্ম চেয়ার, রাউন্ড কফি টেবিল, কর্ণার সোফা এন্ড ইজি চেয়ার, ফুল ইজি চেয়ার, ডাইনিং সেট, টি ট্রলি, গার্ডেন চেয়ার, পেপার বাস্কেট, বুক শেলফ, ম্যাগাজিন বাস্কেট, ডাইনিং চেয়ার,বাঙ্গি টেবিল,কোর্ট হ্যাঙ্গার,মোড়া,রকিং চেয়ার, বেবী কট, বোতল র‌্যাক ও প্ল্যান্টার। এর বেশীর ভাগই ইংল্যান্ডে রপ্তানী করা হয়। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয় এই বেত সামগ্রী।



posted from Bloggeroid

বাংলাদেশের রেলওয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলাদেশের রেলওয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলাদেশ রেলওয়ে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ অক্টোবর ২০১৪
বাংলাদেশ রেলওয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
বাংলাদেশ রেলপথ সরকারি মালীকানা ও সরকার কর্তৃক পরিচালিত দেশের একটি মুখ্য পরিবহন সংস্থা। মোট ২৫০৮৩ জন নিয়মিত কর্মচারীসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ২৮৭৭.১০ কি:মি: রুট রয়েছে। যেহেতু দেশের এক প্রান্তকে অন্য প্রান্তের সাথে সংযোজন করার জন্য রেলপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থল পরিবহন ব্যবস্থা, তাই রেলপথের সার্বিক উন্নতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।জুন ২, ১৯৮২ পর্যন্ত একজন চেয়ারম্যান ও চারজন মেম্বারসহ রেলওয়ে বোর্ডের নিকট রেলপথের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন ন্যস্ত ছিল। তারপর প্রশাসনিক ও কার্যপরিচালনার সুবিধার্থে রেলওয়ে বোর্ডের বিলূপ্তি ৩ জুন ১৯৮২ সালে কার্যকর হয় এবং রেলওয়ে বোর্ডের কার্যক্রম যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রেলওয়ে ডিভিশনের নিকট ন্যস্ত হয় এবং উক্ত বিভাগের সচিব বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে। একই উদ্দেশ্যে দুই মহাব্যবস্থাপকের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে পূর্ব ও পশ্চিম দুই অঞ্চলে ভাগ করা হয়। দুই অঞ্চলের দুইজন মহাব্যবস্থাপক বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের নিকট দায়বদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ১২ আগস্ট ১৯৯৫ সালে রেলপথের দৈনন্দিন কার্যক্রম মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা হয়ে রেলওয়ে প্রফেশনালদের নিয়ে মহাপরিচালকের হাতে ন্যস্ত হয়। নীতি নির্ধারণের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট Bangladesh Railway Authority (BRA) গঠিত হয়। অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও যুগ্ম মহাপরিচালকগণ সমস্ত প্রশাসনিক ও নীতি নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করেন।দুই জোনের মহাব্যবস্থাপককে সহায়তা করেন বিভিন্ন বিশেষায়িত দপ্তর, যারা কার্য পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বশীল থাকেন। প্রত্যেক জোন আবার দুইটি প্রধান কার্য পরিচালনা বিভাগে বিভক্ত। এই বিভাগগুলো বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (DRM) এর অধীনে পরিচালিত হয় এবং সংস্থাপন, পরিবহন, বাণিজ্যিক, অর্থিক, যান্ত্রিক, ওয়ে এন্ড ওয়ার্কস, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ, বৈদ্যুতিক, চিকিৎসা, নিরাপত্তা বাহিনীর মত বিভিন্ন বিশেষায়িত দপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তারা তাকে সহায়তা করে থাকেন। এছাড়াও দুইজন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (Divisional Superintendent) এর অধীনে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী ও পশ্চিমাঞ্চলের সৈয়দপুর কারখানা (Workshop) আছে। অধিকন্তু ব্রড গেজ ও মিটার গেজ লোকোমোটিভের জেনারেল ওভারহলিং এর জন্য পার্বতীপুর চীফ এক্সিকিউটিভের নিয়ন্ত্রণে একটি লোকোমোটিভ কারখানা আছে।বাংলাদেশ রেলওয়েতে রেক্টরের অধীনে ‘রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমী (RTA)’, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তার অধীনে ‘পরিকল্পনা কোষ’ (Planning Cell), প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের অধীনে ‘সরঞ্জাম শাখা’ (Stores Department), দুই জোনের হিসাব ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সমন্বয় ও পরামর্শের জন্য অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) এর অধীনে ‘হিসাব বিভাগ’(Accounts Department) আছে।ট্রেন পরিচালনার সাথে সম্পর্কিত বাংলাদেশ রেলপথের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং রেলপথে পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রথমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক রেলপথ বিভাগ ও পরে রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে

posted from Bloggeroid

ইসলামিক, বদর যুদ্ধের ঘটনা

ইসলামিক, বদর যুদ্ধের ঘটনা

বদর যুদ্ধে উভয় বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি হয় এবং যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এ সময় মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে রাসুল [সা] বলেন- এগিয়ে যাও সেই জান্নাতের দিকে যার প্রশস্ততা আকাশ-জমিন বরাবর।

বদর যুদ্ধে উভয় বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি হয় এবং যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এ সময় মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে রাসুল [সা] বলেন- এগিয়ে যাও সেই জান্নাতের দিকে যার প্রশস্ততা আকাশ-জমিন বরাবর।
রাসুল [সা]-এর জবান মুবারকে এ কথা উচ্চারিত হতেই হজরত উমায়র ইবনে হুমাম আনসারি [রা] বললেন- হে আল্লাহর রাসুল, সেই জান্নাত কি আকাশ ও পৃথিবী বরাবর? রাসুল [সা] বললেন- হ্যাঁ! এতে উমায়র [রা] বলে উঠলেন- বাহ! বাহ! রাসুল [সা]তখন তাকে লক্ষ্য করে বললেন- এ তুমি কী বলছ? উমায়র রা. বললেন- হে আল্লাহর রাসুল, না, অন্য কিছু নয়। আমি এই ধারণার বশে বলছি যাতে এই জান্নাত আমার ভাগ্যে জুটে যায়। রাসুল [সা] বললেন- হ্যাঁ, হ্যাঁ, তুমি এই জান্নাত লাভ করবে।
এরপর উমায়র [রা] তার তূণীর থেকে কিছু খেজুর বের করলেন এবং খেতে লাগলেন। এরপর হঠাৎ করেই বলে উঠলেন- যদি আমি এই খেজুরগুলো শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি তাহলে অনেক বেশি দেরী হয়ে যাবে। এতক্ষণ বেঁচে থাকার মত ধৈর্য আমার নেই। এই বলে বাকি খেজুরগুলো তিনি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং শহিদ হয়ে গেলেন। বদর যুদ্ধে তিনিই ছিলেন প্রথম শহিদ। (নবিয়ে রহমত)
মূল- সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি রহ.
অনুবাদ- মাওলানা মনযূরুল হক

posted from Bloggeroid

না দেখলেই মিস করবেন নিউটনের জীবনের মজার ঘটনা

না দেখলেই মিস করবেন নিউটনের জীবনের মজার ঘটনা

সকল পোস্ট
নির্বাচিত পোস্ট

পোস্টটি যিনি লিখেছেন
কাব্য রহমান
অনুসরণ করুন

ফেসবুকে লাইক, ধর্ম অবমাননা এবং নতুন সাইবার আইন
নিউটন এর জীবনে কিছু মজার ঘটনা!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





২০০৫ সনে রয়েল সোসাইটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে কার প্রভাব সবচেয়ে বেশী এ প্রশ্ন নিয়ে একটি ভোটাভুটির আয়োজন করে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, এক্ষেত্রে নিউটন আইনস্টাইনের চেয়েও অধিক প্রভাবশালী।স্যার আইজাক নিউটনের জন্ম ৪ জানুয়ারী, ১৬৪৩ জন্মলগ্ন থেকে তিনি ছিলেন রুগ্ন প্রকৃতির এক বালক। অথচ স্কুলে দুষ্টমিতে সেরা ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও শিক্ষকগণ মুগ্ধ ছিল তাঁর অসাধারণ জ্ঞান-প্রতিভায়। মূলত নিউটনের আগ্রহ ছিল গণিত ও বলবিজ্ঞানের উপর।তিনি ছিলেন একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক, আলকেমিস্ট।

ঘটনা- ১

একদিনের এক মজার ঘটনা। ছোট্র নিউটন লক্ষ্য করলেন, স্কুলের অধ্যক্ষের শ্যালক প্রায়ই স্কুলে আসতে দেরি করতেন। চিন্তা করতে করতে হঠাৎ তাঁর মাথায় বুদ্ধি আসলো। সেই মুহূর্তে নিউটন বলে ওঠলেন, স্যার আপনার জন্য একটা ঘড়ি তৈরি করে দিচ্ছি যা দিয়ে ঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারবেন। কিন্তু নিউটন ঘড়িটা তৈরি করলেন কিভাবে? তিনি যে ঘড়িটা তৈরি করলেন সেই ঘড়ির উপরে থাকতো পানির পাত্র। প্রতিদিন নির্দিষ্ট ফোঁটা ফোঁটা পানি ঘড়ির কাঁটার উপরে পড়ত। এর ফলে ঘড়ির কাঁটা আপন গতিতে এগিয়ে চলতো সামনের দিকে। এভাবে সময় গণনা করা হতো!

ঘটনা- ২

একবার নিউটন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বাসায় নিমন্ত্রণ করলেন। তারপর যথারীতি ভুলে গেলেন। কিন্তু বন্ধুটি দুপুরে সময়মতো নিউটনের বাসায় এসে দেখেন তিনি নেই। টেবিলে ঠিকই খাবার সাজানো রয়েছে। বন্ধুটি ভাবলেন, নিউটন হয়তো জরুরী কোন কাজে বাসার বাইরে গিয়েছেন, খবর দেয়ার সুযোগ পায়নি। তাই বন্ধুটি দেরী না করে টেবিলে ঢাকা খাবার খেয়ে নিয়ে নিউটনের বিছানায় দিব্যি ঘুম দিলেন। এদিকে নিউটন বাসায় ফিরে দেখলেন তাঁর বন্ধুটি বিছানায় ঘুমাচ্ছে। নিউটন কিছুটা অবাক হয়ে ভাবলেন, তবে কি তিনি ভুল করে নিজের বাসায় না এসে বন্ধুর বাসায় চলে এলেন? কিন্তু টেবিলে ঢাকা খাবার দেখে পরক্ষণেই বুঝলেন তিনি নিজের বাসাতেই আছেন। বন্ধুটি খাবারের পর খালি পাত্রগুলো আবার তেমনই সাজিয়ে রেখেছিলেন। নিউটন খেতে গিয়ে দেখলেন সব খালি। তখন তিনি ভাবলেন যে তিনি নিশ্চয়ই ভুলে গিয়েছেন যে তিনি আগেই খাবার খেয়ে বেরিয়েছিলেন। তাই নিশ্চিন্ত মনে তিনি কাজে ডুবে গেলেন।

ঘটনা-৩

বিজ্ঞানী ও সাধকগণ কখনো কখনো এমন আত্মমগ্নতায় বিভোর হন যেনো সবকিছুই ভুলে যান সেই সাধনার মুহূর্তে। এমনিভাবে নিউটন কোন নতুন বৈজ্ঞানিক ভাবনায় ডুবে থাকতেন। আরও একদিনের ঘটনা। একজন লোক তাঁর বাড়িতে এসে একটা প্রিজম (তিনকোণা কাঁচ) দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এর দাম কত হতে পারে। সেই ব্যক্তি নিউটনের কাছে এই প্রিজমটি বিক্রির জন্যই এসেছিল। এ সময় নিউটন প্রিজমের বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে বললেন, এর প্রকৃত মূল্য নির্ণয় করা তাঁর সাধ্যের বাইরে। ফলে লোকটি বেশি দাম চাইল। নিউটন সেই দামেই প্রিজমটি কিনে ফেললেন। তোমরা জেনে অবাক হবে, পরবর্তীকালে এই প্রিজম থেকে তিনি উদ্ভাবন করেন বর্ণতত্ত্ব (The theory of color)


১৬৪৭ সালে নিউটনের Philosophiac Naturalis pricipia Mathmatica প্রকাশিত হয়।১৬৮৪-১৬৮৬ সালে তিনি লেখেন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘প্রিন্সপিয়া’।১৬৮৭ সালে স্যার আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের যে কোন ‌দুটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষন বলকে একটি সূত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করেন। এটি নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। ১৭০৩ সালে নিউটন পেলেন এক অভূতপূর্ব সম্মান। তিনি রয়াল সোসাইটির সভাপতি। আমৃত্যু তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে তিনি বলেছিলেন:

“আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা ক্ষুদ্রতর এবং খুব সাধারণ পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল। ”

১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ তারিখে ৮৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে-তে সমাধিস্থ করা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৫১

posted from Bloggeroid

স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী দেখে নিন

স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী দেখে নিন

গডফ্রে নেলার কর্তৃক স্যার আইজ্যাক নিউটনের ৪৬ বছর বয়সের স্থির প্রতিকৃতি
জন্ম জানুয়ারি ৪ ১৬৪৩ [ওএস: ডিসেম্বর ২৫ ১৬৪২][১]
উল্‌সথর্প-বাই-কোল্‌স্টারওয়ার্থ, লিংকনশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু মার্চ ৩১ ১৭২৭ [ওএস: মার্চ ২০ ১৭২৭][১]
কেনসিংটন, লন্ডন, ইংল্যান্ড
বাসস্থান England
জাতীয়তা ইংরেজ
কর্মক্ষেত্র ধর্মতত্ত্ব, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রাকৃতিক দর্শন, এবং আলকেমি
প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রয়েল সোসাইটি
প্রাক্তন ছাত্র ট্রিনিটি কলেজ, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়
অ্যাকাডেমিক উপদেষ্টারা আইজাক ব্যারো[২]
পরিচিতির কারণ নিউটনীয় বলবিজ্ঞান
সর্বজনীন মহাকর্ষ
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ক্যালকুলাস
আলোকবিজ্ঞান
দ্বিপদী উপপাদ্য
ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা
স্যার আইজ্যাক নিউটন (ইংরেজি: Sir Isaac Newton) (জন্মঃ জানুয়ারি ৪, ১৬৪৩ – মৃত্যুঃ মার্চ ৩১, ১৭২৭) প্রখ্যাত ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রাকৃতিক দার্শনিক এবং আলকেমিস্ট। অনেকের মতে, নিউটন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী।[৩] ১৬৮৭ সনে তার বিশ্ব নন্দিত গ্রন্থ ফিলসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশিত হয় যাতে তিনি সর্বজনীন মহাকর্ষ এবং গতির তিনটি সূত্র বিধৃত করেছিলেন। এই সূত্র ও মৌল নীতিগুলোই চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, আর তার গবেষণার ফলে উদ্ভূত এই চিরায়ত বলবিজ্ঞান পরবর্তী তিন শতক জুড়ে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার জগতে একক আধিপত্য করেছে। তিনিই প্রথম দেখিয়েছিলেন, পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের সকল বস্তু একই প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কেপলারের গ্রহীয় গতির সূত্রের সাথে নিজের মহাকর্ষ তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাঁর গবেষণার ফলেই সৌরকেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণার পেছনে সামান্যতম সন্দেহও দূরীভূত হয় বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।

বলবিজ্ঞানের ভিত্তিভূমি রচনা করেছেন নিউটন। রৈখিক এবং কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রের মাধ্যমে তিনি এই ভিত্তি রচনা করেন। আলোকবিজ্ঞানের কথায় আসলে তার হাতে তৈরি প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্রের কথা এসে যায়। একই সাথে তিনি আলোর বর্ণের উপরএকটি তত্ত্ব দাড় করান যা একটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন। পর্যবেক্ষণটি ছিল ত্রিভুজাকার প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাওয়া আলোর বিক্ষেপণের উপর যার মাধ্যমে দৃশ্যমান বর্ণালীর সৃষ্টি হয়েছিল। শব্দের দ্রুতি এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বিষয়েও তিনি গবেষণা পরিচালনা করেন যা থেকে নিউটনের শীতলীকরণ সূত্র এসেছে।

গণিতের জগতেও নিউটনের জুড়ি মেলা ভার। নিউটন এবং লাইবনিজ যৌথভাবে ক্যালকুলাস নামে গণিতের একটি নতুন শাখার পত্তন ঘটান। এই নতুন শাখাটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে বিপ্লব সাধনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া নিউটন সাধারণীকৃত দ্বিপদী উপপাদ্য প্রদর্শন করেন, একটি ফাংশনের শূন্যগুলোর আপাতকরণের জন্য তথাকথিত নিউটনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং পাওয়ার সিরিজের অধ্যয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

২০০৫ সনে রয়েল সোসাইটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে কার প্রভাব সবচেয়ে বেশী এ প্রশ্ন নিয়ে একটি ভোটাভুটির আয়োজন করে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, এক্ষেত্রে নিউটন আইনস্টাইনের চেয়েও অধিক প্রভাবশালী।[৪]

জীবনী সম্পাদনা

মূল নিবন্ধ: আইজাক নিউটনের জীবন
প্রাথমিক জীবন সম্পাদনা

উল্‌সথর্প ম্যানরে নিউটনের বাড়ি
আধুনিক বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা জানুয়ারিতে আইজাক নিউটন জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মস্থান লিঙ্কনশায়ারের উল্‌সথর্প ম্যানরে। ম্যানর অঞ্চলটি উল্‌সথর্প-বাই-কোল্‌স্টারওয়ার্থের মধ্যে অবস্থিত। নিউটনের যখন জন্ম হয় তখনও ইংল্যান্ডে সমসাময়িককালের আধুনিকতম প্যাপাল বর্ষপঞ্জির ব্যবহার শুরু হয়নি। তাই তার জন্মের তারিখ নিবন্ধন করা হয়েছিল ১৬৪২ সনের ক্রিস্‌মাস দিবস হিসেবে। তিনি তার পিতা আইজাকের মৃত্যুর তিন মাস পর জন্ম নেন। তার বাবা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। জন্মের সময় নিউটনের আকার-আকৃতি ছিল খুবই ছোট। তার মা হানাহ্‌ এইসকফ প্রায়ই বলতেন ছোট্টবেলার সেই নিউটনকে অনায়াসে একটি কোয়ার্ট মগের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়া যেতো। তিন বছর বয়সে তার মা আরেকটি বিয়ে করেন এবং নতুন স্বামী রেভারেন্ড বার্নাবাউস স্মিথের সাথে বসবাস করতে থাকেন। এসময় নিউটন তার মায়ের সাথে ছিলেন না। নানী মার্গারি এইসকফের তত্ত্বাবধানে তার দিন কাটতে থাকে। নিউটন তার সৎ বাবাকে পছন্দ করতে পারেননি। তার মা এই লোককে বিয়ে করেছে বলে মায়ের প্রতি তার কিছুটা ক্ষোভও ছিল। নিউটন তার ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত করা পাপ কাজগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। সেই তালিকা থেকে মায়ের প্রতি তার এই ক্ষোভের প্রমাণ পাওয়া যায়। তালিকায় লিখা ছিল: "আমার বাবা ও মা-কে এই বলে ভয় দেখানো যে আমি তাদের থাকবার ঘর জ্বালিয়ে দেবো"। জনৈকা মিস স্টোরির সাথে নিউটনের বাগদান হয়, কিন্তু পড়াশোনা ও গবেষণায় খুব বেশি নিমগ্ন থাকার কারণে নিউটন বিয়ে করেননি।[৫][৬][৭]

নিউটনের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় বাড়ির পাশের এক ক্ষুদ্রায়তন স্কুলে। ১২ বছর বয়সে তাকে গ্রান্থামের ব্যাকরণ স্কুলে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে তিনি এক ঔষধ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতার বাড়িতে থাকতেন। এই স্কুলে নিউটন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বি যা থেকে তার মেধার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথমদিকে তার সাথে কেউ না পরলেও এক সময় আরেকটি ছেলে তার সাথে ভালো প্রতিযোগিতা করতে সমর্থ হয়েছিল। স্কুল জীবনের প্রথম থেকেই নিউটনের সবচেয়ে বেশী ঝোঁক ছিল বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র তৈরির প্রতি। সেই বয়সেই তিনি উইন্ডমিল, জল-ঘড়ি, ঘুড়ি এবং সান-ডায়াল তৈরি করেছিলেন। এছাড়া তার গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ ছিল একটি চার চাকার বাহন যা আরোহী নিজেই টেনে চালাতে পারতেন। ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে নিউটনের সৎ বাবা মারা যান। এরপর তার মা উল্‌সথর্পে ফিরে এসে তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল বাড়িতে ক্ষেত-খামারের কাজ শিখিয়ে ভবিষ্যতের বন্দোবস্ত করে দেয়া। কিন্তু সত্বরই তিনি বুঝতে পারেন যে, খামারের কাজের দিকে নিউটনের কোন ঝোঁক নেই। নিউটনের কাকা ছিলেন বার্টন কগলিসের রেক্টর। এই চাচার উপদেশ শুনেই পরিবার থেকে তাকে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে পড়াশোনার জন্য পাঠানো হয়।

ট্রিনিটি কলেজে নিউটন সম্পাদনা

কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে নিউটনের মূর্তি
নিউটন ট্রিনিটি কলেজ থেকে ১৬৬১ সনে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি তার পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য কলেজের বিভিন্ন স্থানে ভৃত্যের কাজ করতেন। ছাত্র হিসেবে বড় কোন কিছু তিনি করেছেন বলে ট্রিনিটি কলেজের কোন দলিলপত্র লেখা নেই। তবে জানা যায় তিনি মূলত গণিত ও বলবিজ্ঞান বিষয়ে অধিক পড়াশোনা করেছিলেন। ট্রিনিটি কলেজে প্রথমে তিনি কেপলারের আলোকবিজ্ঞান বিষয়ক সূত্রের উপর অধ্যয়ন করেন। এরপর অবশ্য তিনি ইউক্লিডের জ্যামিতির প্রতি মনোনিবেশ করেন। কারণ মেলা থেকে কেনা জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি বইয়ে উল্লেখিত বেশ কিছু রেখাচিত্র তিনি বুঝতে পারছিলেন না। এগুলো বোঝার জন্য ইউক্লিডের জ্যামিতি জানা থাকাটা আবশ্যিক ছিল। তা সত্ত্বেও নিউটন বইটির কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এটি অকিঞ্চিৎকর বই হিসেবে সরিয়ে রাখেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার শিক্ষক আইজাক ব্যারো তাকে বইটি আবার পড়তে বলেন। বইটি লেখা হয়েছিল দেকার্তের জ্যামিতিক গবেষণা ও কর্মের উপর।

স্নাতক শিক্ষা গ্রহণকালে নিউটন একটি ছোট বইয়ের তাক বা এ ধরণের কোন স্থানে তার সব বই সাজিয়ে রাখতেন। সেই তাক থেকে নিউটনের সে সময়ে লেখা বেশ কিছু নিবন্ধ পাওয়া গেছে। এই লেখাগুলোর বিষয়ের মধ্যে রয়েছে: কৌণিক বিভাজন, বক্রসমূহের বর্গকরণ,সঙ্গীতের অনন্য সুর সম্বন্ধে কিছু গাণিতিক হিসাব, ভিয়েটা এবং ভ্যান স্কুটেনের জ্যামিতিক সমস্যা, ওয়ালিস রচিত এরিথমেটিক অফ ইনফিনিটিস বইয়ের উপর কিছু মন্তব্য, গোলীয় আলোক গ্লাসের ঘর্ষণের ফলাফল, লেন্সের ত্রুটি এবং সকল ধরণের মূল বের করার সূত্র। ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে স্নাতক ডিগ্রী লাভের প্রাক্কালেই নিউটন তার বিখ্যাত দ্বিপদী উপপাদ্য বিষয়ক সূত্র প্রমাণ করেন এবং একইসাথে ফ্লাক্‌সিয়নের পদ্ধতি (method of fluxion) আবিষ্কার বিষয়ক প্রথম তত্ত্ব প্রদান করেন। ট্রনিটি কলেজের এই দিনগুলো তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ১৬৬৫ সনে কেমব্রিজ এবং লন্ডনে প্লেগ রোগ মহামারী আকার ধারণ করে। এর ফলে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিউটন লিংকনশায়ারে তাদের খামর বাড়িতে ফিরে যান।

লিংকনশায়ারে গবেষণা কাজ সম্পাদনা
উল্‌সথর্প ফিরে এসেও নিউটন থেমে থাকেননি। সেখানে মূলত রসায়ন এবং আলোকবিজ্ঞান বিষয়ের উপর বিভিন্ন পরীক্ষণ চালিয়ে যেতে থাকেন এবং একইসাথে চলতে থাকে তার গাণিতিক অনূধ্যানের প্রকল্পসমূহ। নিউটন তার মহাকর্ষ তত্ত্ব আবিষ্কার বিষয়ক দিনপঞ্জির সূচনা চিহ্নিত করেছিলেন এই ১৬৬৬ সনকেই, যে সনে তাকে ট্রিনিটি কলেজ ছেড়ে যেতে হয়েছিল। এ সম্বন্ধে তিনি বলেছেন:

একই সালে আমি চাঁদের কক্ষপথে বিস্তৃত অভিকর্ষ নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করি,... চাঁদকে তার নিজ কক্ষপথে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় বল এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠতলে বিরাজমান অভিকর্ষ বলের মধ্যে তুলনা করি এবং এই দুটি বলের মান প্রায় সমান বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হই।

একই সময়ে তিনি আলোকবিজ্ঞান বিষয়ে তার একটি মৌলিক পরীক্ষণের কাজ সম্পন্ন করেন। এই পরীক্ষণের মাধ্যমে তিনি সাদা আলোর গাঠনিক অংশসমূহ আবিষ্কারে সক্ষম হন। আলোকবিজ্ঞান বিষয়ে তার প্রাথমিক এই কাজ সম্বন্ধে নিউটন নিজেই মন্তব্য করেছেন:

এই সব কিছু আমি করেছিলাম মাত্র দুই বছর তথা ১৬৬৫ এবং ১৬৬৬ সনের মধ্যে, কারণ আমর জীবনের যেকোন সময়ের তুলনায় ওই সময়ে আমি বিশেষ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে ছিলাম যে পর্যায়ে উদ্ভাবন এবং মনকেন্দ্রিক গণিত ও দর্শন চিন্তার বিকাশ ঘটেছিল।


১৭০২ সনে নিউটন। গডফ্রে নেলার কর্তৃক অঙ্কিত চিত্র।
আলোক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা সম্পাদনা
১৬৬৭ সনে ট্রিনিটি কলেজ পুনরায় খোলা হয়। এবার কলেজ নিউটনকে ফেলো নির্বাচিত করে[৮] এবং এর দুই বছর পর অর্থাৎ তার ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে তিনি সেখানকার গণিত বিভাগের লুকাসিয়ান অধ্যাপক নিযুক্ত হন। তার আগে ট্রিনিটি কলেজের এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তারই বন্ধু ও শিক্ষক ডঃ বারো। তখনকার সময়ে কেমব্রিজ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো হতে হলে কাউকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত অ্যাংগ্লিকান ধর্মপ্রচারক হতে হতো। আবার লুকাসিয়ান অধ্যাপকদের চার্চের সাথে যোগাযোগ থাকা নিষিদ্ধ ছিল, কারণ তা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষতি করতে পারে। নিউটন লুকাসিয়ান অধ্যাপক হওয়ার সময় এই শর্ত থেকে নিজে অব্যাহতি চান। তখনকার রাজা চার্লস ২ তার দাবী মেনে নিয়ে তাকে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত করেন। এতে অ্যাংগ্লিকানদের সাথে নিউটনের ধর্মীয় চিন্তাধারার বিরোধের অবসান ঘটে। এরই মধ্যে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে নিউটন একটি প্রতিফলন দূরবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করে ফেলেছিলেন। ১৬৭১ সনের ডিসেম্বরে নিউটন দ্বিতীয় আরেকটি দূরবীন তৈরি করে রয়েল সোসাইটিকে উপহার দেন। এর দুই মাস পর রয়েল সোসাইটির একজন ফেলো হিসেবে তিনি আলো সম্বন্ধে তার আবিষ্কারসমূহ প্রচার করেন এবং এর মাধ্যমে আলো সম্বন্ধে একটি বিতর্কের সূচনা করেন। অনেক বছর ধরে এই বিতর্ক অব্যাহত ছিল। এই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন রবার্ট হুক, লুকাস, লিনাস পাউলিং এবং আরো অনেকে। নিউটন অবশ্য এ ধরণের বিতর্ককে সবসময়ই বিস্বাদ জ্ঞান করতেন। আলো সম্বন্ধে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি তত্ত্বের পক্ষে অবস্থাননিয়ে একটি বিতর্কের জন্ম দেয়ার জন্য তিনি নিজের প্রজ্হাকেই দোষারোপ করতেন। আলোক বিজ্র্ঞান সম্বন্ধে তার গবেষণাপত্রসমূহের অধিকাংশই ১৬৭২ সন থেকে ১৬৮৪ সনের মধ্যে রয়েল সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয়। তার এই গবেষণাপত্রগুলোই ১৭০৪ সনে তার অপটিক্‌স নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছিল।

প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশ সম্পাদনা

প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা বইয়ের ছবি
১৬৮৪ সনের পূর্বে নিউটন মহাকর্ষ সম্বন্ধে তার গবেষণাকর্মগুলো প্রকাশের তেমন কোন তাগিদ অনুভব করেন নি। এর মধ্যে হুক, এডমান্ড হ্যালি এবং স্যার ক্রিস্টোফার রেন মহাকর্ষ সম্বন্ধে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তত্ত্ব বা তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন যদিও তারা কেউই গ্রহের কক্ষপথ সম্বন্ধে কোন সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব প্রদানে সক্ষম হন নি। ঐ বছর বিজ্ঞানী এডমুন্ড হ্যালি এ বিষয়টি সম্বন্ধে নিউটনের সাথে কথা বলেন এবং এই দেখে অবাক হন যে নিউটন বিষয়টি এতোদিনে সমাধান করে ফেলেছেন। নিউটন হ্যালির কাছে চারটি উপপাদ্য এবং সাতটি সমস্যা প্রস্তাব করেন যেগুলো তার গবেষণা কাজের মূল অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। ১৬৮৫ এবং ১৬৮৬ সালের মধ্যে প্রায় সতের-আঠার মাস জুড়ে তার লেখা সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ তথা ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা রচনা করেন যার ইংরেজি নাম দেয়া হয় Mathematical Principles of Natural Philosophy। এই গ্রন্থের তিনটি অংশ আছে। নিউটন তৃতীয় অংশটিকে সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হ্যালি তাকে তৃতীয় অংশটি বিস্তারিত লেখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। রয়েল সোসাইটি গ্রন্থটি প্রকাশের অর্থ সংকুলানে অপারগতা প্রকাশ করে। এবারও হেলিই এগিয়ে আসেন। তিনি বইটি প্রকাশের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন এবং এর ফলে ১৬৭৮ সনে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এই বইটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর সমগ্র ইউরোপ জুড়ে এটি বিপুল সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তখনকার সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হিসেবে খ্যাত ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন্‌স ১৬৮৯ সনে নিউটনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার জন্য ইংল্যান্ডে যান।

সরকারী চাকরি ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণা সম্পাদনা
প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থে উল্লেখিত মূলনীতিসমূহ নিয়ে কাজ করার সময়ই নিউটন বিশ্ববিদ্যালয় কার্যাবলীতে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেন। এ সময় রাজা জেমস ২ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বময় কর্তৃত্ব এবং আনুগত্যের শপথ অস্বীকার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নিউটন তার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করায় কেমব্রিজ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনীতির কাজ শেষে যখন তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন তখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুস্থতার কারণে ১৬৯২ - ১৬৯৩ সনে তিনি প্রায় সকল কর্মে অক্ষম ছিলেন। এর ফলে তার সহকর্মী ও বন্ধু-বান্ধবের মাঝে প্রভূত উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। রোগ থেকে আরোগ্য লাভের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে সরকারের জন্য কাজ শুরু করেন। তার বন্ধু লক, রেন এবং লর্ড হালিফাক্সের সহযোগিতায় তিনি প্রথমে ১৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে ইংলেন্ড সরকারের ওয়ার্ডেন অফ দ্য মিন্ট এবং পরবর্তীতে মাস্টার অফ দ্য মিন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই মাস্টার অফ দ্য মিন্ট পদেই বহাল ছিলেন।

অপর দিকে জীবনের প্রথম ভাগ থেকেই নিউটন ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা করে আগ্রহ পেতেন। ১৬৯০ সনের আগে থেকেই তিনি ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সে সময় তিনি লকের কাছে লেখা পত্রে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। এই পত্রটির নাম ছিল An Historical Account of Two Notable Corruptions of The Scriptures। এই পত্রটি ট্রিনিটির দুইটি প্যাসেজ বিষয়ে লেখা। এছাড়াও তিনি মৃত্যুর পূর্ব একটি পাণ্ডুলিপি লিখে যান। এর নাম Observations on the Prophecies of Daniel and the Apocalypse। এছাড়াও বাইবেলের কিছু সমালোচনা, ভাষ্য ও টীকা তিনি রচনা করেছিলেন।

শেষ জীবন সম্পাদনা
জীবনের শেষ ৩০ বছর নিউটন গাণিতিক মূলনীতিসমূহের উপর খুব কমই মৌলিক অবদান রাখতে পেরেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কিন্তু এ বিষয়ে তার উৎসাহ এবং দক্ষতার কোন অভাব তখনও ছিল না। ১৬৯৬ সালে তিনি এক রাতে একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে ফেলেন। এই সমস্যাটি বার্নোলি একটি প্রতিযোগিতায় প্রস্তাব করেছিলেন এবং এর সমাধানের সময় বরাদ্দ ছিল ৬ মাস। আবার ১৭১৬ সনে তিনি মাত্র কয়েক ঘন্টায় একটি সমস্যার সমাধান করে ফেলেন। বিজ্ঞানী লিবনিজ এই সমস্যাটিকে ইংরেজ বিশেষজ্ঞদের জন্য রোমহর্ষক এবং দুঃসাধ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ সময় দুইটি বিষয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। একটি হল তার কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানী রয়েলের পর্যবেক্ষণের সাথে খাপ খায়নি। এ নিয়ে একটি বিতর্ক ছিল। অন্যটি হল ক্যালকুলাস আবিষ্কার নিয়ে লিবনিজের সাথে বিতর্ক ও বিরোধ। তিনি প্রিন্সিপিয়া গ্রন্থটিকে পুনরায় সংশোধন করে ১৭১৩ খ্রিস্টাব্দে এর নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন।

ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে-তে নিউটনের সমাধিস্থল
নিউটনের বৈজ্ঞানিক গবেষণাসমূহ তাকে প্রভূত সম্মান এনে দিয়েছিল। তিনি ইংল্যান্ডের বিচারালয়ে একজন জনপ্রিয় পরিদর্শক ছিলেন। ১৭০৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। সমগ্র মহাদেশ থেকেই তার জন্য বিভিন্ন সম্মাননা এসেছিল। তখনকার নেতৃস্থানীয় সকল বিজ্ঞানীর সাথেই তার যোগাযোগ ছিল। তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য এতো অধিক সংখ্যক বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান ছাত্রের আগমন ঘটতো যে তিনি বিরক্ত হয়ে যেতেন। এতো সম্মান পেয়েও নিউটন এক সময় বিনয় প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে তিনি বলেছিলেন:

আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা ক্ষুদ্রতর এবং খুব সাধারণ পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল।

১৭২৫ খ্রিস্টাব্দের পর নিউটনের স্বাস্থ্যের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এর ফলে একজন ডেপুটি মিন্টে তার কাজ মওকুফ করার ব্যবস্থা করে দেন। ১৭২৭ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি শেষবারের মত রয়েল সোসাইটির সভাপতি হিসেবে কার্য পরিচালনা করেন। ১৭০৩ সাল থেকেই তিনি এই সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ তারিখে ৮৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে-তে সমাধিস্থ করা হয়।

posted from Bloggeroid

চাকুরীর খবর দেখে নিন

চাকুরীর খবর দেখে নিন

ক্যাটাগরি : তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ
সাপোর্ট ইঞিজিনিয়ার - এমআইএস

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ অব কোম্পানী
এই কোম্পানির অন্যান্য সব চাকরি
চাকরির বিবরণ / দায়িত্বসমূহ
ইউজার সাপোর্ট, কপার এবং ফাইবার সহ LAN MAN WAN ডিজাইন করা, নেটওয়ার্ক এবং হার্ওেয়্যার জ্ঞান।
কপার ও ফাইবার দিয়ে LAN MAN WAN ডিজাইন করা।
নেটওয়ার্ক এবং হার্ওেয়্যার রক্ষণাক্ষেণ, সুইচ এবং রাউটার কনফিগার, লিনাক্স কনফিগারেশন।
ফ্যাক্টরী এবং অফিসে আইটি এবং হার্ডওয়্যার সংশ্লিষ্ট কার্যসমূহ।
ফ্যাক্টরী এমআইএম সাপোর্ট করা।
চাকরির ধরন
ফুল টাইম
শিক্ষাগত যোগ্যতা
কোনো স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে সিএসই / আইটি তে বি.এসসি।
অন্যান্য যোগ্যতা
বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছর
নেটওয়ার্ক টপোলজির জ্ঞান।
প্রোটোকল স্যুইটে সাধারণ ধারণা।
কম্যুনিকেশন মিডিয়াম।
হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারে ভালো ধারণা।
দিনে এবং রাতে কাজ করার মানসিকতা।
পরিশ্রমী।
ইংরেজীতে দক্ষতা ।
আন্তঃব্যক্তিগত দক্ষতা।
কর্মস্হল
ঢাকা, হবিগঞ্জ, নরসিংদী
বেতন সীমা
আলোচনা সাপেক্ষ
অন্যান্য সুবিধাদি
কোম্পানীর বিধি মোতাবেক।
উত্স
বিডিজবস.কম অনলাইন জব পোস্টিং
অনলাইনে আবেদন
আবেদনকারীকে অবশ্যই জীবনবৃত্তান্তের সাথে ছবি পাঠাতে হবে

আবেদনের শেষ তারিখ : জুন ৩০, ২০১৬
কোম্পানীর তথ্য
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ অব কোম্পানী
ঠিকানা : কর্পোরেট হেডকোয়ার্টারঃ প্রাণ-আরএফএল সেন্টার, ১০৫ মধ্য বাড্ডা, ঢাকা - ১২১২, বাংলাদেশ ।
ওয়েব : Web: www.pranrflgroup.com

posted from Bloggeroid

চাকুরির খবর দেখে নিন

চাকুরির খবর দেখে নিন

ক্যাটাগরি : মেডিকেল/ফার্মাসিউটিক্যাল
অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট

Aichi হাসপাতাল লিমিটেড
এই কোম্পানির অন্যান্য সব চাকরি
চাকরির বিবরণ / দায়িত্বসমূহ
অর্থোপেডিক বিভাগের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট আবশ্যক।
কাজ / চাকরির ধরন: ফুলটাইম
রোগীদের পরামর্শপ্রদান।
অর্থোপেডিক সার্জারি অপারেট করা।
রোগীকে প্রেরণা এবং উপদেশ প্রদান।
চাকরির ধরন
ফুল টাইম
শিক্ষাগত যোগ্যতা
বিএমডিসি নিবন্ধন ও এমএস (অর্থো)সহ এমবিবিএস, এমবিবিএস এর পর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ২/৩ বছরের অভিজ্ঞতা, তবে বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা শিথিলযোগ্য।
অভিজ্ঞতা
২ থেকে ৩ বছর
অন্যান্য যোগ্যতা
বয়স ৪৫ বছর অথবা এর নীচে
বিজ্ঞাপনের তারিখ হতে বয়স ৪৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না।
কর্মস্হল
ঢাকা
বেতন সীমা
আলোচনা সাপেক্ষ
উত্স
বিডিজবস.কম অনলাইন জব পোস্টিং
আবেদনের নিয়মাবলী
আপনার জীবনবৃত্তান্ত যেখানে পাঠাবেন aichi_hospital@yahoo.com অথবা মাই বিডিজবসের মাধ্যমে পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন
যোগ্য প্রার্থীদের নিম্নোক্ত ঠিকানায় ৪ঠা জুন, ২০১৬ এর মধ্যে সিভি, ৩ কপি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সকল শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট পাঠাতে হবে। Aichi হাসপাতাল লিমিটেড,প্লট # ৩৫ & ৩৭, সেক্টর # ০৮, আবদুল্লাহপুর, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। ইমেইল:aichi_hospital@yahoo.com
আবেদনকারীকে অবশ্যই জীবনবৃত্তান্তের সাথে ছবি পাঠাতে হবে

আবেদনের শেষ তারিখ : জুন ৪, ২০১৬
কোম্পানীর তথ্য
Aichi হাসপাতাল লিমিটেড
ঠিকানা : হাসপাতাল কমপ্লেক্স: প্লট # ৩৫ & ৩৭, সেক্টর # ০৮, আবদুল্লাহপুর, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
ব্যবসা : A Computerized Modern Hospital And Diagnostic Centre

posted from Bloggeroid

অনিবন্দ্বিত সিম বন্দ হয়ে গেল আজ রাত ১২

অনিবন্দ্বিত সিম বন্দ হয়ে গেল আজ রাত ১২

'দুঃ‌খিত, এই নম্ব‌রে সং‌যোগ দেওয়া সম্ভব নয়

ঢাকা: জি‌রো আওয়ার, অর্থাৎ রাত ১১টা ৫৯ মি‌নিট ৫৯ সে‌কে‌ন্ডের পর অ‌নিব‌ন্ধিত সিম বন্ধ শুরু হ‌য়ে‌ গেছে।

'দুঃখিত, এই নম্ব‌রে আপনার কল‌টি সং‌যোগ দেওয়া সম্ভব নয়'- রাত ১২টার পর অ‌নিব‌ন্ধিত সিম দি‌য়ে কল কর‌লেই গ্রাহক এমন ভ‌য়েস শুন‌তে পা‌চ্ছেন তার মোবাইল সং‌যো‌গ থে‌কে।

সরকা‌রি নি‌র্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১২টার পর সব অ‌নিব‌ন্ধিত সিম বন্ধ ক‌রে দেওয়া শুরু ক‌রে দি‌য়ে‌ছে ‌মোবাইল অপা‌রেটরগু‌লো।

অবশ্য সিমগু‌লো বন্ধ কর‌তে দুই দি‌নের মতো সময় লাগ‌তে পা‌রে জানিয়েছে অপা‌রেটরগু‌লো। অ‌নিব‌ন্ধিত সিমগু‌লো দুই মাস বন্ধ রে‌খে আগস্ট থে‌কে গ্রাহক‌দের কেনার সু‌যোগ রাখা হ‌লেও সোমবার (৩০ মে) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এক নি‌র্দেশনায় জা‌নি‌য়ে‌ছিলো, ১ জুন থে‌কে ৪৫০ দিন পর্যন্ত গ্রাহক নির্ধা‌রিত ফি দি‌য়ে সিম চালু কর‌তে পার‌বে গ্রাহকরা। সে‌ক্ষে‌ত্রে তা‌কে বা‌য়ো‌মে‌ট্রিক ভে‌রি‌ফি‌কেশন ক‌রে নি‌তে হ‌বে।

৩১ মে রাত ১২টার আগ পর্যন্ত সব অপা‌রেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার এবং রি‌টেইলার প‌য়েন্টগু‌লো‌তে গ্রাহক‌দের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ত‌বে নেটওয়ার্ক জ‌টিলতায় ‌সি‌মের বা‌য়ো‌মে‌ট্রিক ভে‌রি‌ফি‌কেশ‌নে বেগ পে‌তে হ‌য়ে‌ছে গ্রাহক‌দের।

৬টি অপা‌রেট‌রের ১৩ কো‌টি ২০ লাখ সি‌মের ম‌ধ্যে সা‌ড়ে ১০ কো‌টির ওপ‌রে সিম পুনঃনিব‌ন্ধিত হ‌য়ে‌ছে শেষ সময় পর্যন্ত।

গত বছ‌রের ১৬ ডি‌সেম্বর থে‌কে চালুর পর আঙু‌লের ছাপ দি‌য়ে পুনঃ‌নিবন্ধ‌নের সম‌য়ের পর অর্থাৎ ১ জুন থে‌কে বন্ধ সং‌যোগগু‌লো চালু কর‌তে নতুন সিম কেনার সমপ‌রিমাণ অর্থ গুণ‌তে হ‌বে গ্রাহক‌দের।

নিয়মানুযায়ী, সিম নি‌স্ক্রিয় হ‌য়ে গে‌লে ১৫ মাস পর্যন্ত গ্রাহক এই ফি দি‌য়ে সংযোগ চালু কর‌তে পারবেন। পরবর্তী‌তে তিন মা‌সের নো‌টিশ দি‌য়ে অপা‌রেটরগু‌লো বন্ধ সি‌ম নতুন গ্রাহ‌কের কা‌ছে বি‌ক্রি কর‌তে পার‌বে।

বা‌য়ো‌মে‌ট্রিক নিবন্ধন প্র‌ক্রিয়ায় গ্রাহ‌কের আঙু‌লের ছাপ নি‌য়ে তা এনআইডি তথ্য ভাণ্ডা‌রে মেলা‌নোর পর গ্রাহ‌কের কা‌ছে তথ্য গে‌লে সিম‌টি নিব‌ন্ধিত হয়।

এ‌দি‌কে, আগামী জুলাই থে‌কে গ্রাহক তার না‌মে কয়‌টি সিম নিব‌ন্ধিত হ‌য়ে‌ছে তা জান‌তে পার‌বেন ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন ডাক টে‌লি‌যোগা‌যোগ প্র‌তিমন্ত্রী তারানা হা‌লিম।


posted from Bloggeroid

 চালু হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম রেল সুড়ঙ্গ

চালু হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম রেল সুড়ঙ্গ

ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম ও গভীরতম রেল সুড়ঙ্গ (রেল টানেল) চালু হচ্ছে ইউরোপীয় দেশ সুইজারল্যান্ডে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা নির্মাণ কাজ শেষে এই সুড়ঙ্গ ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার (০১ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

৫৭ কিলোমিটার (৩৫ মাইল) দীর্ঘ রেল সড়ঙ্গটি সুইস আল্পসের (পবর্তাঞ্চল) নিচ দিয়ে ইউরোপের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউরোপে মালাবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।



সারা বছর প্রায় লাখখানি লরি ওই রুটে মাল বহন করে। সুড়ঙ্গটি চালু হলে মালবহন করা অনেক সহজ ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সড়ঙ্গপথে ট্রেন যোগে প্রতি ট্রিপে ৩২৫ জন যাত্রী পাড়ি জমাতে পারবেন।

বিশ্বের বর্তমান দীর্ঘতম রেল সুড়ঙ্গটি রয়েছে জাপানে। ‘ছেইখান’ নামে ওই রেল সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য ৫৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার। নবনির্মতি ৫৭ কিলোমিটার সুড়ঙ্গটি চালু হলে বিশ্বের দীর্ঘতম রেল সুড়ঙ্গের রেকর্ডটির দখলদার হবে সুইজারল্যান্ড।




খুব শিগরিই আলোচিত এই সুড়ঙ্গ উদ্বোধন করা হবে, তবে উদ্বোধনের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডের শীর্ষ কর্তা, জার্মান চ্যান্সেল অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, ইতালির রাজনীতিবিদ মেটিও রনজিসহ বিশিষ্টজনেরা অংশ নেবেন।

দেশটির ফেডারেল ট্রান্সপোর্ট অফিসের পরিচালক পিটার ফুগ্লিসটালার বলেন, ‘সুড়ঙ্গটি সুইজদের পরিচয় একটি অংশ

posted from Bloggeroid

Tuesday, 31 May 2016

রোজার ২০টি টিপস দেকে নিন

রোজার ২০টি টিপস দেকে নিন

পবিত্ররমজান মাস আসলে ছোট বড় নারী পুরুষভেদে প্রায় সকল মুমিন মুসলমান রোজা রাখেন।

এক্ষেত্রে দীর্ঘ ১১ মাসের স্বাভাবিক আহার,নিদ্রা, নিয়ম-নীতির কিছুটা ব্যত্যায় ঘটে। এরপরও
একজন রোজাদার কিছু পরামর্শ অনুসরণ করলে থাকতে পারেন সুস্থ, সবল এবং রাখতে পারেন
সৃষ্টিকর্তার বড় নিয়ামত রোজা।
কিভাবে রোজা রেখে সারাটি মাস সুস্থ থাকবেন এই নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সূত্রের আলোকে রোজাদারদের প্রতি আমাদের পরামর্শ।
১. রমজানে যাদের চিকিত্সা নিতে হয় তারা এবং যারা সুস্থ থেকে রোজা পালন করতে চান
তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুসারে চিকিত্সার পরামর্শ নেয়া উচিত।
২. রোজায় পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান গ্রহণ, পানি শূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম দরকার।
৩. সেহেরীর সময় অতিরিক্ত আহার করবেন না।
খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত আশ জাতীয় শর্করা খাবার রাখুন। বেশী আমিষ খান এবং খাদ্য
তালিকায় রাখতে হবে সবজি-ফল।
৪. দিনের গরমের সময় ঠান্ডা যায়গায় বিশ্রাম নিন। সম্ভব হলে শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দিন।
৫. ইফতারির সময় খেজুর, প্রচুর শরবত, দুধ, ফলের রস বেশী না খেয়ে মাগরিব এর পর হালকা খাবার যেমন স্যুপ ও অন্যান্য হালকা খাবার খেতে হবে। রক্তে চিনির মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে খাদ্য তালিকায় কিছুটা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য রাখুন।
৬. রাতের খাবারের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করুন। অতিরিক্ত খাবার বর্জন করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৭. চা, কফি, সোডা পান থেকে বিরত থাকুন।
৮. মৌসুমী ফল দিয়ে তৈরী ডেজার্ট খেতে পারেন।
৯. ইফতারির পর থেকে ঘুমাতে যাবার আগ পর্যন্ত অন্তত: ৮ গ্লাস পানি পান করুন।
১০. সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম যেমন: ১৫-২০ মিনিট হাটার অভ্যাস করুন।
১১. তেলে ভাজা খাবার ও অধিক মসলাযুক্ত ঝাল
খাবার পরিহার করুন। এসব খাবারে বুক জ্বালাপোড়া ও হজমে সমস্যা হয়।
১২. প্রতিদিন অন্তত: ১টা মাল্টিভিটামিন সেবনের চেষ্টা করুন।
১৩. কয়েক বার দাঁত পরিষ্কার ও ফ্লসিং করুন। (রোজাদারগণ এটা করে থাকেন)
১৪. দিনে কয়েকবার হাত মুখ ওয়াশ করুন। (রোজাদারগণ এটা করে থাকেন)
১৫. ধূমপান ত্যাগ করুন।
১৬. পর্যাপ্ত ঘুমানোর জন্য আপনার ঘুমের একটা নির্দিষ্ট
সময় নির্ধারণ করুন।
১৭. রোজা রেখে অধিক ও অপ্রয়োজনীয় আলাপ আলোচনা থেকে বিরত থাকুন।
১৮. রোজায় যাদের অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার ও উচ্চ রক্তচাপ থাকে তারা চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন বিধি পুন: নির্ধারন
করুন।
১৯. রোজা রেখে আকষ্মিক
কোন অসুস্থতা যেমন; অতিমাত্রায় দুর্বলতা, অসস্থি থাকলে সম্ভব হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন অথবা ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করুন।
২০. গুরুতর অসুস্থতায় রোজা ভঙ্গের প্রয়োজন হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন অথবা শরীয়তের
বিধান অনুসরণ করুন।
সোর্সঃ দৈনিক ইত্তেফাক ।
ক্যাটেগরি: ধর্ম

posted from Bloggeroid

ইসলামিক টিপস

ইসলামিক টিপস

সব শিয়ালই মুরগির স্বাধীনতা চায়, যেন অবাধে তারা মুরগি খেতে পারে ---! তেমনি সকল খারাপ লোকেরাই রাস্তায় নারীর স্বাধীনতা চায়, যেন অবাধে তারা খারাপীর মাএা বাড়িয়ে দিতে পারে। """ পর্দাই মেয়েদের আসল নিরাপদ থাকার স্থান """ ঝিনুকের ভিতরে মুক্তা যেমন নিরাপদ থাকে, তেমনি নারীরা পর্দায় নিরাপদ থাকে।

posted from Bloggeroid

মেয়েদের কাছে খারাপ ছেলেদের দামই বেশি ভালো ছেলেদের নয় কেন জেনে নিন

মেয়েদের কাছে খারাপ ছেলেদের দামই বেশি ভালো ছেলেদের নয় কেন জেনে নিন

কলেজের সবচেয়ে বখাটে ছেলেটিও
এই পর্যন্ত তিন তিনটা প্রেম করে
ফেললো। আর আমি এতো ভালো ছাত্র
হয়েও একটি প্রেমও হলো না এখন পর্যন্ত
– হয়তো এমন কথাটি আপনার মনে
ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে কি মেয়েদের
কাছে খারাপ ছেলেদের দাম বেশি?
ভালো ছেলেদের কি কোন দামই
নেই? এই প্রশ্নগুলো কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছেলেদের
মনেই ঘুরে। খারাপ ছেলেদের প্রতি
মেয়েদের এতো আকর্ষন কেন?
স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নটা মনে
জাগতে পারে যখন কেউ দেখা যায়
যে খারাপ ছেলেরা খুব সহজেই
মেয়েদের পটিয়ে ফেলছে। আর
মেয়েরাও খারাপ ছেলেদের প্রতি
তীব্র আকর্ষণ বোধ করছে। কিন্তু এর
কারণ কি? ভালো ছেলেদের বদলে
খারাপ ছেলেদের প্রতি এমন আকর্ষণ
কি অস্বাভাবিক নয়? জেনে নিন
কারনগুলো ।
* চ্যালেঞ্জ নেয়া : মেয়েরা
চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। আর একটা
খারাপ ছেলের সাথে সম্পর্ক করাকে
তাঁরা একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে
নেয়। চ্যালেঞ্জটা হলো একটা খারাপ
ছেলেকে ধীরে ধীরে ভালো করে
তোলা। কিন্তু এই কঠিন চ্যালেঞ্জে
বেশিরভাগ মেয়েকেই হেরে যেতে
হয়। কারণ খুব কম ক্ষেত্রেই একটা খারাপ
ছেলে ভালো পথে ফিরে আসতে
পারে। সবচাইতে মজার ব্যাপার হলো
একটা ছেলেকে খারাপ পথ থেকে
ভালো পথে ফিরিয়ে আনার পর সেই
মেয়েটিই ঐ ছেলের প্রতি আগ্রহ
হারিয়ে ফেলে এবং সম্পর্ক ভেঙ্গে
ফেলে। কারণ যেসব স্বভাবের কারণে
মেয়েটির কাছে ঐ ছেলেটিকে
ভালো লেগেছিলো, সেই
স্বভাবগুলো আর ছেলেটির মধ্যে খুঁজে
পায় না। ফলে ছেলেটির প্রতি
মেয়েটির আগ্রহ কমে যায়।
* আত্মবিশ্বাস : মেয়েরা
আত্মবিশ্বাসী ছেলেদেরকে পছন্দ
করে। আর খারাপ ছেলেদের মধ্যে
আত্মবিশ্বাসের কোনো কমতি থাকে
না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁরা
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয় অথবা
আত্মবিশ্বাসী না হলেও অভিনয় করে।
তাই স্বাভাবিক ভাবেই মেয়েরাই
এধরণের ছেলেদের প্রতি বেশি
আকর্ষণবোধ করে এবং এই আকর্ষণের
কারণে মেয়েরা একটা ভুল সম্পর্কের
দিকে এগিয়ে যায়।
* পৌরুষ : খারাপ ছেলে বললে আপনার
চোখে সবার প্রথমে কি ভেসে উঠে?
কালো সানগ্লাস, মোটর সাইকেল,
মুখে সিগারেট আর ট্যাটু? এই
বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্যই বেশিরভাগ
নারীর কাছেই খারাপ ছেলেদেরকে
বেশি পুরুষত্বের অধিকারী মনে হয়।
ফলে এ ধরণের ছেলেদেরকে তাঁরা
সাহসী ভাবে এবং তাদের সংস্পর্শে
মেয়েরা নিজেদেরকে বেশি
নিরাপদ মনে করে। যদিও প্রকৃতপক্ষে
খারাপ ছেলেদের সংস্পর্শ কখনোই
নিরাপদ হতে পারে না।
* রহস্য : মেয়েদের কাছে খারাপ
ছেলেদেরকে রহস্যময় লাগে। একটা
খারাপ ছেলে কি করছে, তার
জীবনযাত্রা কেমন, কোথায় যাচ্ছে
এসব নিয়ে বেশিরভাগ মেয়েই বেশ
উৎসাহী থাকে। আর এই রহস্য উৎঘাটনের
নেশার বশেই ভুল পথে পা বাড়ায়
মেয়েরা।
* সম্পর্কে আধিপত্য : যে সব মেয়েরা
পুরুষের উপর বেশি নির্ভরশীল থাকতে
পছন্দ করে তাঁরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে
সঙ্গীর আধিপত্যও পছন্দ করে। একটু
বখাটে ধরণের বদমেজাজি ছেলেরা
সঙ্গীর উপর জোর করে আধিপত্য দেখায়।
তারা চায় তার স্ত্রী কিংবা
বান্ধবী সব কিছু তার কথা মতই করুক এবং
তার অনুমতি নিয়ে চলুক।
* কথাবার্তা : বেশিরভাগ খারাপ
ছেলেরাই মেয়েদের পটিয়ে অভ্যস্ত।
কিভাবে মেয়েদের সাথে কথা
বলতে এগিয়ে যেতে হবে, কিভাবে
প্রেমের প্রস্তাব দিতে হবে কিংবা
প্রশংসা করতে হবে এগুলো তাঁরা বেশ
ভালো করেই জানে। এসব ক্ষেত্রে
তাদের কোনো জড়তা কাজ করে না।
ফলে তাঁরা সহজেই মেয়েদেরকে
পটিয়ে ফেলার ক্ষমতা অর্জন করে।
ভালো ছেলেরা একটু লাজুক প্রকৃতির
হয়। ফলে একটা মেয়ের সাথে নিজে
থেকে এগিয়ে গিয়ে পরিচিত হতে
কিংবা সখ্যতা গড়ে তুলতে বেশ সময়
লেগে যায় তাদের। আর এই সুযোগের
ব্যবহার করে খারাপ ছেলেরা। ফলে
তাঁরা বেশ সহজেই মেয়ে পটিয়ে
ফেলতে পারে।

posted from Bloggeroid

আইপিএলের বেটিংয়ে বউ বাজি রেকে হাড়ল স্বামী।

আইপিএলের বেটিংয়ে বউ বাজি রেকে হাড়ল স্বামী।

ভারতে ! মহাভারতের যুধিষ্ঠিরের ‘যোগ্য
উত্তরসূরী’ হিসেবে দেশটির কানপুরের এক
স্বামী আইপিএলের বেটিংয়ে বউ বাজি রেখে
হারলেন।

এনডিটিভি খবর অনুযায়ী, ভারতের কানপুরের
গোবিন্দ নগরের বাসিন্দা গুনধর স্বামী জাসমিত
নান্দা পেশায় শেয়ার ট্রেডার। তাঁর স্ত্রীর
অভিযোগ বিয়ের পরের দিনই স্বামী তাঁর সব
গয়না চেয়ে নেন। আজ আর তাঁর একটাও
অবশিষ্ট নেই। তাও জুয়ার নেশা শেষ হয়নি।
আইপিএল শুরু হওয়া থেকেই একের পর এক বাজি
রেখে সব খুইয়ে বসেছেন। শেষে
নিজের বউকেও বাজি ধরে বসেন।
স্বামীর এই কীর্তির কথা স্ত্রী জানতে
পারেন যখন স্বামীর জুয়ার সঙ্গীরা তাঁর সঙ্গে
অশালীন আচরণ করতে শুরু করেন। তাঁকে
অশ্রাব্য কথা বলতে শুরু করেন। লাঞ্ছনা, নিগ্রহ
কিছুই বাদ যায়নি। শেষপর্যন্ত এক ব্যক্তির সহায়তায়
কোনোক্রমে পুলিশে খবর দেন ওই
নারী।
পরে পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করে তাঁর
স্বামীকে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে
পারে, শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটিয়ে সর্বস্বান্ত
হয়েছেন ওই ব্যক্তি। ভেবেছিলেন
আইপিএলে দাঁও মারবেন। কিন্তু, সেখানেও
স্ত্রীকে বাজি ধরে হেরে যান..
নারীর জবানবন্দি অনুযায়ী,তাঁর স্বামী যখন
তখন তাঁকে মারধর করেন। বাপেরবাড়ি থেকে
টাকা আনার জন্যও চাপ দেন। কিছুদিন আগেই
তাঁকে সাত
লাখ টাকা জোগাড় করে আনতে বলেন
স্বামী।

posted from Bloggeroid