Wednesday, 1 June 2016

কবিরা গুনাহ সমূহ (৩)

কবিরা গুনাহ সমূহ (৩)

জনসম্মুখে প্রকাশ করা
84. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা
85. বেশি বেশি অভিশাপ দেয়া
86. বিশ্বাসঘাতকতা করা
87. অঙ্গীকার পূরণ না করা
88. আমানতের খিয়ানত করা
89. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
90. ঋণ পরিশোধ না করা
91. বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না
92. তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি ঝুলানো
93. পরীক্ষায় নকল করা
94. ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা
95. ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় অবিচার করা
96. আল্লাহর বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা
97. দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে দীনী ইলম র্অজন করা
98. কোন ইলম সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্ত্বেও তা গোপন করা
99. নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা
100. আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া

posted from Bloggeroid

কবিরা গুনাহ সমূহ (২)

কবিরা গুনাহ সমূহ (২)

44. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করা
45. ওজনে কম দেয়া
46. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা
47. ইসলামী আইনানুসারে বিচার বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা
48. জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা
49. গীবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ র্চচা করা
50. দাঁত চিকন করা
51. সৌন্দর্য্যের উদ্দেশ্যে মুখ মন্ডলের চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন করা
52. অতিরিক্ত চুল সংযোগ করা
53. পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা
54. নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা
55. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো
56. কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা
57. পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকার পরেও না দেয়া
58. পুরুষের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা
59. মুসলিম শাসকের সাথে আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা
60. ডাকাতি করা
61. চুরি করা
62. সুদ লেন-দেন করা, সুদ খেলা বা তাতে সাক্ষী থাকা
63. ঘুষ লেন-দেন করা
64. জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎকরা
65. স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা
66. জুলুম-অত্যাচার করা
67. অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা
68. প্রতারণা বা ঠগ বাজী করা
69. লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎআমল করা
70. র্স্বণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা
71. পুরুষের রেশমি পোশাক এবং র্স্বণ ও রৌপ্য পরিধান করা
72. সাহাবিদের গালি দেয়া
73. নামাযরত অবস্থায় মুসল্লির সামনে দিয়ে গমন করা
74. মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন
75. ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলী রীতিনীতি অথবা বিদাতের প্রতি আহবান করা
76. পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপর্কম বা দুষ্কৃতি করা
77. কোন দুষ্কৃতকারীকে প্রশ্রয় দেয়া
78. আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা
79. বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া
80. যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট
81. স্বামীর অবাধ্য হওয়া
82. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা
83. স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা

posted from Bloggeroid

কবিরা গুনাহ সমূহ দেখেনিন (১)

কবিরা গুনাহ সমূহ দেখেনিন (১)

1. আল্লাহর সাথে শরিক করা
2. নামায পরিত্যাগ করা
3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
4. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা
5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা
6. যাদু-টোনা করা
7. এতিমদের সম্পদ আত্মসাৎকরা
8. জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা
9. সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর প্রতি অপবাদ দেয়া
10. রোযা না রাখা
11. যাকাত আদায় না করা
12. ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ আদায় না করা
13. যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা
14. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
15. অহংকার করা
16. চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগানো)
17. আত্মহত্যা করা
18. আত্মীয়তার সর্ম্পক ছিন্ন করা
19. অবৈধ পথে উপার্জিত র্অথ ভক্ষণ করা
20. উপকার করে খোটা দেয়া
21. মদ বা নেশাদ্রব্য গ্রহণ করা
22. মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ করা
23. জুয়া খেলা
24. তকদীর অস্বীকার করা
25. অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা
26. গণকের কাছে র্ধনা দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া
27. পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা
28. রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে মিথ্যা হাদীস র্বণনা করা
29. মিথ্যা স্বপ্ন র্বণনা করা
30. মিথ্যা কথা বলা
31. মিথ্যা কসম খাওয়া
32. মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা
33. জিনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়া
34. সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া
35. মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা
36. হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।
37. যার জন্যে হিল্লা করা হয়
38. মানুষরে বংশ র্মযাদায় আঘাত হানা
39. মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা
40. মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা
41. মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া
42. খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু বানানো
43. কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা

posted from Bloggeroid

রোজার ফরযসমূহ

রোজার ফরযসমূহ

রমযানের রোযা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। ঈমান, নামায ও যাকাতের পরই রোযার স্থান। রোযার আরবী শব্দ সাওম। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- বিরত থাকা। প্রত্যেক সজ্ঞান, বালেগ মুসলমান নরনারীর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্তরোযার নিয়তে পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও রোযা ভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং রমযান মাসে চাঁদ উদিত হলেই প্রত্যেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও প্রাপ্তবয়স্কা নারীর উপর পূর্ণ রমযানের রোযা রাখা ফরয।
রোযার ফরয ৩ টি:
১. নিয়্যত করা
২. যাবতীয় পানাহার বর্জন করা
৩. ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা।

posted from Bloggeroid

রোজা বঙ্গের কারন (২)

রোজা বঙ্গের কারন (২)

রোযাদারের যদি রক্ত শূন্যতা দেখা দেয় আর তার ফলে ইন্জেকশন প্রয়োগে রক্ত প্রবেশ করান হয় তবে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।
৬.মাসিক ঋতু স্রাব ও সন্তান প্রসব জনিত স্রাব।
৭.শিংগা বা এ জাতীয় কিছু লাগিয়ে রক্ত বের করা, তবে যদি রক্ত স্বাভাবিকভাবে যেমন নাক থেকে রক্তরণ বা দাঁত উঠানোর ফলে বা এ ধরনের অন্য কারণে বের হয় তবে রোযা বিনষ্ট হবে না।
৮.বমি করলে : ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোযা নষ্ট হবে কিন্তু অনিচ্ছায় বমি করলে রোযা নষ্ট হবে না।

posted from Bloggeroid

রোজা ভঙ্গের কারন (১)

রোজা ভঙ্গের কারন (১)

রোযা ভঙ্গের কারণ

যেসব কারণে রোযা ভঙ্গ হবে না
রোযাদার যদি ভুলক্রমে বা নাজেনে বা বাধ্য হয়ে কিছু খেয়ে ফেলে, তবে রোযা নষ্ট হবে না, আল্লাহ বলেন:
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
“হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুল করে অথবা অজ্ঞাতসারে দোষে লিপ্ত হই তবে আমাদেরকে পাকড়াও কর না।” ( সূরা আল-বাকারা : ২৮৬ )
আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ
“তবে তার জন্য মহা শাস্তি নয় যাকে কুফরী করতে বাধ্য করা হয়েছে কিন্তু তার অন্তর ঈমানে অবিচল।” সূরা আন - নাহাল : ১০৬
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ
“যা তোমরা অজ্ঞাতসারে ভুল করেছ তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই কিন্তু তা তোমাদের সংকল্প থাকলে অপরাধ হবে।” সূরা আল-আহ্যাব : ৫
* অতএব, রোযাদার যদি ভুলবশত: পানাহার করে তবে ভুলের কারণে তার রোযা নষ্ট হবে না।
* আর কেউ যদি সূর্য ডুবে গেছে অথবা ফজর এখনও হয়নি এরূপ মনে করে পানাহার করে তবে তার অজ্ঞতার কারণে রোযা নষ্ট হবে না।
* যদি কুলি করা অবস্থায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলায় পানি চলে যায় তবে রোযা নষ্ট হবে না।
* স্বপ্নদোষ হলেও এতে তার কোন ইচ্ছা না থাকায় রোযা ভঙ্গ হবে না।
রোযা ভঙ্গের কারণ ৮ টি
১.স্ত্রী সহবাস : রোযাদার যদি রমাযানের দিনে স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয় তবে উক্ত রোযা কাযা আদায়সহ জটিল কাফ্ফারা আদায় করতে হবে। আর তা হলো :
একটি গোলাম আজাদ করা, যদি সামর্থ্য না থাকে তবে ধারাবাহিক দুই মাস (মাঝে বিরতি ছাড়া) রোযা রাখতে হবে আর যদি তার সামর্থ্য না থাকে তবে ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়াতে হবে।
২.বীর্যপাত : জাগ্রতাবস্থায় হস্ত মৈথুন, স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা, চুমো দেয়া, স্পর্শ করা অথবা অন্য কোন কারণে বীর্যপাত হলে রোযা বিনষ্ট হয়ে যাবে।
৩.পানাহার : উপকারী বা ক্ষতিকারক (যেমন ধূমপান) কোন কিছু পানাহারে রোযা ভেঙে যায়।
৪.ইনজেকশন যোগে খাদ্যের সম্পূরক খাদ্য জাতীয় কোন কিছু প্রয়োগ করলে। কিন্তু তা যদি খাদ্যের সম্পূরক না হয় তবে শরীরের যেখানেই প্রয়োগ করা হোক যদিও তার স্বাদ গলায় অনুভূত হয় রোযা নষ্ট হবে না।
৫.ইনজেকশন যোগে রক্ত প্রয়োগ : যেমন

posted from Bloggeroid

আমল

আমল

ইবাদত করার জন্য সাহায্য কর।
ফায়েদাঃ এই দুআ পড়া কত উপকারী তা রাসূলুল্লাহ  এর কথা থেকেই বুঝা যায়।
দলীলঃমুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ  আমার হাত ধরে বললেন, হে মুআয! আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমিও আপনাকে অতি ভালবাসি। তখন তিনি বললেনঃ তাহ’লে প্রত্যেক ফরয নামাযের পর এই বাক্যগুলো অবশ্যই বলবে- ‘রাব্বি আইন্নী আলা যিকরিকা ’। -নাসায়ী।
দশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ দশবার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ এবং দশবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা।
ফায়েদাঃযে ব্যক্তি এই যিকির করবে, সে জান্নাতে যাবে।
দলীলঃআব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ  বলেছেনঃ দুটি কাজ যে করতে পারবে, সে জান্নাতে যাবে। (১) প্রত্যেক নামাযের পর দশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ দশবার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ এবং দশবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। ইবনু উমর বলেনঃ আমি দেখলাম রাসূলুল্লাহ  হাতে গণে বললেন, এহল মুখে ১৫০, কিন্তু মীযানে দেড় হাজার। (২) আর যখন ঘুমাতে যাবে তখন ১০০ বার এই তিনটি যিকির করবে, তাহবে মুখে ১০০, কিন্তু মীযানে এক হাযার। -মুসলিম, আবুদাঊদ, তিরমিযী।
প্রত্যেক ফরয নামাযের সালামের পর তিন বার এই দুআ পড়বে।
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَسَلاَمٌ عَلَي الْمُرْسَلِيْنَ وَالْحَمْدُ لِله رَبَّ الْعَالَمِيْنَ
উচ্চারণঃ‘সুব্হানা রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি আম্মা ইয়াছিফুন ওয়া সালামুন আলাল মুসসালীন ওয়াল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।”
দলীলঃআবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী  যখন নামায শেষ করতেন তখন তিনবার বলতেন ‘সুব্হানা রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি আম্মা ইয়াছিফুন ওয়া সালামুন আলাল মুরসালীন ওয়াল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।” -আবু ইয়’ালা, সুয়ূতী।

posted from Bloggeroid

আমল

আমল

আছে, যা পাঠকারী কখনো বঞ্চিত হবেনা। ৩৩ বার ‘সুব্হানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আল্হাম্দুলিল্লাহ’ ও ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবর’। -মুসলিম। একবার সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, সূরা নাস পাঠ করবে। (সূরাগুলির জন্য ৬ নং আমল দেখুন।) দলীলঃউকবা ইবনে আমির (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ আমাকে প্রত্যেক নামাযের পর মুআ’উয়েযাত অর্থাৎসূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন।” মাগরিব ও ফজরের ছলাতের পর উক্ত তিনটি সূরা তিন বার পড়বে। দলীলঃউকবা ইবনে আমের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ  আমাকে প্রত্যেক নামাযের পর ‘মুআওয়েযাত’ (তথা কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস) পড়ার আদেশ দিয়েছেন।” একবার আয়াতুল কুরসী পাঠ করা। আয়াতুল কুরসীর জন্য আমল নং -১৩ দ্রষ্টব্য। ফায়েদাঃযে ব্যক্তি এই যিকির করবে, তার জান্নাতের রাস্তা সহজ হয়ে যাবে। দলীলঃআবু উমামা (রাঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ  বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর ‘আয়াতুল কুরছি’ পড়বে তাকে মৃত্য ব্যতীত অন্য কোন বস্তু বেহেশতে যাওয়া থেকে বাধা দিতে পারবেনা।” মাগরিব ও ফজরের পর ১০ বার এই যিকির পড়বে- لاَإِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ ، لاَشَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِ وَيُمِيْتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَي كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْر . উচ্চারণঃ-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহয়ী ওয়া য়ুমীতু বিয়াদিহিল খায়রু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।” ফায়েদাঃযে ব্যক্তি ফজরের পর এই দুঅ’া পড়বে, সে সবচেয়ে উত্তম আমলকারী হবে। দলীলঃআবু উমামা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ  বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর উভয় পা ফিরানোর পূর্বে একশতবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা --।” পড়বে, সে সেদিন পৃথিবীবাসীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমলকারী হবে। তবে যে ব্যক্তি তার মত বলবে কিংবা তার চেয়ে বেশী বলবে তার কথা ভিন্ন। একবার এই দুঅ’া পড়বে- أَللَّهُمَّ أَعِنِّى عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ উচ্চারণঃআল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা। অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে তোমার যিকির, শুকর এবং উত্তমরূপে

আমল

আমল

الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَي كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ، وَلاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الحْسَنُ ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْكَرِهَ الْكَافِرُوْنَ .
উচ্চারণঃ-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু, লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা না’বুদু ইল্লা ইয়্যাহু, লাহুন নি’মাতু, ওয়া লাহুল ফজলু, ওয়া লাহুচ ছানাউল হাসানু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিছীনা লাহুদ্দীনা, ওয়া লাও কারিহাল কাফিরূন।
দলীলঃআব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ  নামাযের সালামের পর বলতেন- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু, -। -মুসলিম।
৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلَّهِ ‘আলহামদু লিল্লাহ’ ৩৩ বার اللهُ أَكْبَر ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে এবং শত পূর্ণ করার জন্য একবার বলবে-
لاَإِلهَ إِلاَّاللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَي كُلِّ شَيٍّ قَدِيْرٍ
উচ্চারণঃ-‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর’ ।
ফায়েদাঃযে ব্যক্তি নামাযের পর এই যিকির করবে, তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার মত হলেও আল্লাহ তাঅ’ালা ক্ষমা করে দিবেন।
দলীলঃআবুহুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ নবী কারীম  বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ছলাতের পর ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে এহ’ল ৯৯। আর শত পূর্ণ করার জন্য বলবে- ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, -
। তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদিও তা হয় সমুদ্রের ফেনার ন্যায়।
৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلَّهِ ‘আলহামদু লিল্লাহ’ এবং ৩৪ বার اللهُ أَكْبَر ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে।
ফায়েদাঃযে ব্যক্তি নামাযের পর এই যিকির করবে, সে কখনো বঞ্চিত হবেনা।
দলীলঃকাঅ’াব ইবনে উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ  বলেছেনঃ নামাযের পর এমন কিছু যিকর

posted from Bloggeroid

আমল

আমল

“যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, এবং সে ঈমানদার হবে, এরূপ লোক জান্নাতে দাখিল হবে, আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না।” (আন-নিসা ৪:১২৪)
ফরয নামাযের পর করণীয় আমল সমূহ
১.সালামের পর একবার الله أكبر ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তিন বার أستغفر الله ‘আস্তাগ্ফিরুল্লাহ’ বলবে। অর্থাৎহে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
ফায়েদাঃএর দ্বারা নামাযের ত্র“টি-বিচ্ছুতি ক্ষমা হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ।
দলীলঃইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ  এর ছলাত শেষ হওয়া বুঝতে পারতাম তাকবীর তথা আল্লাহু আকবার বলার মাধ্যমে।
২. ছাউবান (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ  যখন ছলাত থেকে ফিরতেন তখন তিনবার ‘আস্তাগ্ফিরুল্লাহ’ বলতেন। - মুসলিম, আবুদাউদ।
একবার এই যিকির বলবে-
اَللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الجْلَاَلِ وَالْإِكْرَامِ .
উচ্চারণঃ-আল্লাহুম্মা আন্তাস্সালাম, ওয়া মিনকাস্ সালাম, তাবারাকতা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমিই শান্তি, তোমার থেকেই শান্তি বর্ষিত হয়। তুমিই বরকতপূর্ণ হে মহান মর্যাদ ও সম্মানের অধিকারী।
দলীলঃ ছাউবান (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ  যখন ছলাত থেকে মুখ ফিরাতেন তখন তিনবার ‘আস্তাগ্ফিরুল্লাহ’ বলতেন। তারপর বলতেন ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস্সালাম, ওয়া মিনকা-।
একবার এই যিকির বলবে-
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَي كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ، أَللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ، وَلاَيَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ .
উচ্চারণঃ-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু, লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানেয়া লিমা আ’তাইতা, ওয়ালা মু’তিয়া লিমা মানা’তা, ওয়ালা ইয়ান্ফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
দলীলঃমুগীরাহ ইবনু শু’বা (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ  প্রত্যেক ফরয নামাযের সালামের পর -“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু, লা
’ বলতেন। -বুখারী, মুসলিম।
একবার এই যিকির বলবে-
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ

posted from Bloggeroid

রোজার আমলসমূহ প্রথম পর্ব

রোজার আমলসমূহ প্রথম পর্ব

রমযান মাসের আমল
রমযান মাস আল্লাহ তা‘আলা এক বিশেষ নিয়ামাত। সাওয়াব অর্জন করার মৌসুম। এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, রহমাত, বরকত ও নাজাতের মাস-রমাদান মাস। আলকুরআনে এসেছে,
‘‘রমাদান মাস, যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে’’ [সূরা আলবাকারাহ : ১৮৫].
রমাদান মাসের ফযিলাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘‘রমাদান- বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোযা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। দুষ্ট শয়তানদের এ মাসে শৃংখলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে বঞ্চিত হল (মহা কল্যাণ হতে)’’ [সুনান আত-তিরমিযি: ৬৮৩]।
এ মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে যেতে পারি, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারি। নিম্নে রমাদান মাসের আমল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তবে এ আমলগুলো করার জন্য শর্ত হলো :
এক.
ইখলাস অর্থাৎ‘‘একনিষ্ঠতার সাথে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যে আমল করা। সুতরাং যে আমল হবে টাকা উপার্জনের জন্য, নেতৃত্ব অর্জনের জন্য ও সুনাম-খ্যাতি অর্জনের জন্যে সে আমলে ইখলাস থাকবে না অর্থাৎএসব ইবাদাত বা নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে না বরং তা ছোট শির্কে রূপান্তরিত হতে পারে। আল-কুরআনে এসেছে,
“আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ‘ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে” [সূরা আল-বাইয়্যেনাহ

posted from Bloggeroid

মেয়েদের মোবাইল আসক্তি বেশি

মেয়েদের মোবাইল আসক্তি বেশি

স্মার্টফোনে আসক্তি একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর স্বাস্থ্যগত কুপ্রভাব জানা সত্ত্বেও মোবাইল ফোনের এ আসক্তি থেকে অনেকেই বের হতে পারেন না। দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষের চেয়ে নারীর স্মার্টফোন আসক্তি বেশি। মেয়েরা দিনে চার ঘণ্টার বেশি মোবাইল ফোন নিয়ে ব৵স্ত থাকে।
সম্প্রতি আজু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চ্যাং জায়ে উয়ুন এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ছয়টি কলেজের ১ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে করা জরিপের ভিত্তিতে তিনি এ প্রতিবেদন তৈরি করেন।

এ ধরনের গবেষণা এটিই প্রথম। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীর স্মার্টফোনে আসক্তিতে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৫২ শতাংশ মেয়ে চার ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করে আর ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ২৩ শতাংশ মেয়ে ছয় ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এ সময় তারা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বেশি যায়। এর মধ্যে ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রাম বেশি ব্যবহার করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েদের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীলতা ছেলেদের চেয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। এ ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে ৩৭ শতাংশ মেয়ে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে কোনো অবসর পেলে স্মার্টফোন ব্যবহার বাড়ে। তথ্যসূত্র: কোরিয়া টাইমস।

posted from Bloggeroid

শহরের নারীরা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বেশি

শহরের নারীরা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বেশি

জেসমিন রহমান (ছদ্মনাম) রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উঁচু পদেই কাজ করেন। দুই সন্তান আর স্বামী নিয়ে ছোট্ট সংসার। স্বামীও উচ্চপদস্থ চাকরিজীবী। পেশা ও সামাজিক জীবনে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিজীবনে ভালো নেই জেসমিন রহমান। উঠতে-বসতে স্বামীর কটু কথা শুনতে হয়। সম্মান করে কিংবা ভালোবেসে কথা বলা দূরে থাক, তাঁকে হেয় করাই যেন স্বামীর লক্ষ্য। জেসমিন বলেন, ‘শুধু ঘরে নয়, বাইরের মানুষের সামনেও খারাপ ব্যবহার করেন। কখনো ভাবেনও না এতে শুধু আমার নয়, পরিবারের সম্মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি ছেলেমেয়ের বন্ধুদের সামনেও অপমান করেন।’ স্বামীর এমন আচরণে প্রথম প্রথম বেশ কষ্ট পেতেন। প্রতিবাদও কম করেননি। ‘কিন্তু তাঁর আচরণের কোনো পরিবর্তন নেই। এখন মেনে নিয়েছি। জানি না, একজন শিক্ষিত পুরুষ বউকে অপমান করে কী আনন্দ পায়!’
১৭ বছরের বিবাহিত জীবন রাহিমা আক্তারের (ছদ্মনাম)। বিয়ের বছর দুই পার হতেই সংসারে অশান্তির শুরু। কোনো কিছু মনঃপূত না হলেই বকাঝকা করেন ব্যবসায়ী স্বামী। খোঁটা না দিয়ে কোনো কথা বলেন না। গালিগালাজও করেন। রাহিমা বলেন, ‘বাজার করা থেকে রান্না করা, সন্তানদের পড়ালেখা থেকে আত্মীয় সামলানো সবই আমাকে করতে হয়। কিন্তু কোনো কারণে পান থেকে চুন খসলেই আর রক্ষা নেই।’ রাহিমার মনে হয়েছে, ‘স্বামী আমাকে স্ত্রী হিসেবে কোনো দিন সময় দেননি। পরিবারে আমার মতামতের কোনো মূল্যই নেই। কিন্তু ছেলেমেয়ের কথা ভেবে নিজেকে সামলাই।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে কিছুদিন চাকরিও করেছিলেন রাহিমা। ‘চাকরিজীবী বউ ভালো হয় না’ বলে অভিযোগ ছিল। তাই সংসারের কথা ভেবে চাকরিও ছেড়ে দিয়েছেন। তবু থামেনি স্বামী-শ্বশুরের মানসিক নির্যাতন।
কেবল জেসমিন রহমান বা রাহিমা আক্তারের জীবনেই এমনটা ঘটেনি। দেশের বেশির ভাগ নারীই এভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গ্রামের তুলনায় শহরের নারীরা বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক জরিপে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৫২ শতাংশ পুরুষ স্ত্রীকে মানসিক নির্যাতন করেন। গ্রামে এই হার ৪৬ শতাংশ। অর্থাৎ শহরে ৬ শতাংশ নারী বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। জরিপটি ২০১১ সালে চালানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, নিজস্ব মূল্যবোধের কারণে শহরের নারীরা এখন জীবনকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেছেন। নারীদের মধ্যে ‘অসহনীয় আচরণ’ সহ্য করার প্রবণতা কমছে। তাঁরা এখন প্রতিবাদ করে এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিয়ে থাকেন। ফলে পুরুষেরাও নারীকে অবদমনের পথ, নিয়ন্ত্রণের কৌশল বদলে ফেলেছেন। তাঁরা শারীরিক নির্যাতনের বদলে বেছে নিয়েছেন মানসিক নির্যাতন। এতে তাঁরা নির্যাতনও করতে পারছেন, আবার প্রমাণও থাকছে না। ফলে শহরের নারীরা এখন বেশি মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১১ সালের এক জরিপে দেখা যায়, দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ বিবাহিত নারী কোনো না কোনোভাবে বছরে একবার হলেও সহিংসতার শিকার হন। এসবের মধ্যে আবার মানসিক নির্যাতনের হারই বেশি। জীবনসঙ্গীর হাতে মানসিক নির্যাতনের হার ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে যৌন বা শারীরিক নির্যাতনের হার ৬৭ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক নির্যাতন ৫৩ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এ জরিপে গ্রামাঞ্চল-শহরাঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য দেখানো হয়নি। জনসংখ্যা ও গৃহায়ণশুমারি-২০১১ অনুযায়ী, দেশে মোট জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার, যার প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। এর মধ্যে ৫ কোটি ৮ লাখ নারী গ্রামে বাস করেন আর শহরে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার।
নারীদের ওপর মানসিক নির্যাতন বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, ‘শহুরে মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ কমে গেছে। পাশের ফ্ল্যাটে থেকেও জানা যাচ্ছে না একে অপরকে। এতে মানসিক নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটছে।’
সমাজ যেভাবে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেভাবে আমাদের মানসিকতা বদলাচ্ছে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। বললেন, ‘আমরা মুখে আধুনিকতার কথা বললেও সনাতন জীবনবোধ পাল্টাইনি। এ ছাড়া জীবনযাত্রার ধরন ও চাহিদার পরিবর্তনের কারণে শহরে নারীদের প্রতি মানসিক অত্যাচার বাড়ছে। তবে অনেক শারীরিক অত্যাচারের ঘটনাও ঘটছে, যেগুলো সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে প্রকাশ পায় না।’ যেসব নির্দেশক ধরে জরিপ চালানো হয় সেগুলো আরও স্পষ্ট করা দরকার বলেও মত দেন এই নারীনেত্রী।

posted from Bloggeroid

ইন্টারনেটে পড়াশোনার জগৎ

ইন্টারনেটে পড়াশোনার জগৎ

জাহাঙ্গীরনগর ইসলামের গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। ছোটবেলা থেকে তাঁর নানা বিষয়ে শেখার আগ্রহ। কলেজে পড়ার সময় একবার ভর্তি হয়েছিলেন ফটোগ্রাফি কোর্সে। নিয়মিত পড়াশোনা চাপে সে কোর্স আর বেশি দূর এগোয়নি। তখন মনকে প্রবোধ দিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফুরন্ত সময়ে নিশ্চয় আগ্রহের সবকিছু শিখে ফেলবেন! কিন্তু ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রেজেন্টেশনের চক্করে পড়ে সেসব যেন বেমালুম ভুলতেই বসেছিলেন। আর তখনই এক নতুন রাজ্যের খোঁজ পেলেন তিনি। বিশ্বখ্যাত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তিবিষয়ক তথ্য ঘাঁটতে গিয়ে তাঁর নজর পড়ে মেন্যুবারের ‘অনলাইন এডুকেশন’ বোতামটি। সেটি তাঁকে নিয়ে যায় ‘কোর্সেরা’ নামের নতুন রাজ্যে। যেখানে নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয় বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স সম্পন্ন করার সনদ। তারপর তাঁকে আর আটকায় কে! কয়েক মাস পেরোতেই প্রাচীন সভ্যতা, জলবায়ু পরিবর্তন, একুশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি...নানা বিষয়ে বিনে পয়সায় কোর্স করার সুযোগ হলো তাঁর।
অনলাইনে পড়াশোনার এই গল্প শুধু ফারিবা ইসলামের একা নয়। হালের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণেরা জানার আগ্রহ থেকে পছন্দসই বিষয়ে অনলাইন-কোর্স করছেন। তেমনি একজন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইউসুফ মুন্না। অনলাইনে কোর্স নিয়ে মুন্না বলেন, ‘আমি লিডারশিপ, পাবলিক স্পিকিং, এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আগ্রহী। কিন্তু আমাদের পাঠ্যবইতে তো তো এসব নিয়ে তেমন কিছুই নেই। অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করছি।’

অনলাইন কোর্স কী ও কেন
সরল কথায়, দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের আধুনিক সংস্করণ হচ্ছে এই অনলাইন কোর্স। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়সহ পৃথিবীর স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চালু করেছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। এর বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও ব্যক্তিগতভাবেও অনলাইনে কোর্স করানো হয়। এই কোর্সগুলো মূলত দুইভাবে করানো হয়—অর্থের বিনিময়ে কিংবা নিখরচায়। তবে বিনা মূল্যে কোর্সের ক্ষেত্রেও অনেক সময় সনদ সংগ্রহ করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়।
অনলাইনে কোর্স বিষয়ে ই-মেইলে কথা হয় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ এমারত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে কোনো কোর্স করার এটি ভালো সুযোগ। আমি সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে যে ক্লাস যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শ্রেণিকক্ষে নিচ্ছি, সেই ক্লাসেই বিশ্বের অন্য কোনো দেশের শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে স্কাইপে। এ ধরনের কোর্সের বিস্তার দিন দিন আরও বাড়বে।’
কোর্সগুলো বিভিন্ন মেয়াদি হয়ে থাকে। তিন সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাসেরও হতে পারে।
আমাদের চাকরির বাজারে কিংবা পেশাগত ক্ষেত্রে কোর্সগুলোর গুরুত্ব কেমন? জানতে চেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক মোহাম্মদ সাইমুম হোসেনের কাছে। তিনি বলেন, ‘অনলাইন কোর্স আসলে জানার পরিধি বাড়িয়ে দেয়। যে বিষয়গুলো সম্পর্কে সচরাচর জানার বা শেখার সুযোগ কম। তা এই কোর্সগুলোর মাধ্যমে খুবই সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। আমাদের দেশে চাকরি বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে এই সনদের গ্রহণযোগ্যতা এখন পর্যন্ত খুব একটা তৈরি হয়নি। তবুও শেখা তো হলো, এ-ই বা কম কী।’
যেসব বিষয়ে কোর্স
ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান, কলা ও সংস্কৃতি, ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, কম্পিউটার বিজ্ঞান, অর্থনীতি, প্রকৌশল, ভাষা, আইন, গণিত, সাহিত্য, নৈতিকতা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, খাদ্য ও পুষ্টি, সংগীত, তথ্যপ্রযুক্তিসহ কত শত বিষয়ে যে কোর্স করা যায়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। গত বছর প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে জানা গেল, সারা বিশ্বের প্রায় ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় ৪ হাজার ২০০ কোর্স আহ্বান করেছে। আর এসব কোর্সে অংশ নিচ্ছেন প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিক্ষার্থী।

যেভাবে খোঁজ পাবেন
অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারলেই কোর্স সম্পর্কে জানা যাবে। এর বাইরে শুধু অনলাইন কোর্সবিষয়ক বিশেষায়িত বিভিন্ন ওয়েবসাইটও রয়েছে। যাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আহ্বান করা কোর্স সম্পর্কে তথ্য দিয়ে থাকেন। এর বাইরে বিশেষায়িত ওয়েবসাইটগুলোও বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স পরিচালনা করে থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু ওয়েবসাইট সম্পর্কে।
এডেক্স: বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইটি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করে এডেক্স (www.edx.org)। শিক্ষার জগতে বিপ্লব আনতেই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তৈরি করেছেন এই ওয়েবসাইট। শুরুতে এমআইটির শিক্ষকেরা এমআইটিএক্স নামের প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইন কোর্স চালু করেন। সারা বিশ্বের প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন এই ওয়েবসাইটে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৭০০ বিষয়ের ওপর বিনা মূল্যে কোর্স করার সুযোগ রয়েছে এখানে।
কোর্সেরা: বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর অনলাইন-পড়াশোনার অন্যতম মাধ্যম হলো কোর্সেরা (www.coursera.org)। ইংরেজি, স্প্যানিশ, চায়নিজ, রুশ, জার্মানিসহ ১২ ভাষায় কোর্স করার সুযোগ রয়েছে এই ওয়েবসাইটে। যেখানে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার সায়েন্স, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত, পরিসংখ্যান, অর্থনীতিসহ ২৮টি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স করার সুযোগ পান। অনলাইন কোর্সের বিশেষায়িত ওয়েবসাইটটিতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার কোর্স করানো হচ্ছে!
শুধু এডেক্স বা কোর্সেরাই নয়, এ ছাড়া আরও বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে। গুগলের কল্যাণে সহজেই সেসবের খোঁজ মিলবে।

posted from Bloggeroid

বয়স বুঝে ত্বকের যত্ন

বয়স বুঝে ত্বকের যত্ন

সুস্থ সুন্দর ত্বক তো সবাই চায়৷ এ জন্য পরিচর্যা চাই নিয়মিত। এখন তো দেখা যায়, এই গরম আর হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি৷ ঋতু বদলের এই প্রভাবটা পড়ে ত্বকেও৷ এ সময় ত্বকের ধরন ও বয়স বুঝে কেমন হবে যত্ন সে বিষয়ে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷
একেক বয়সে ত্বকে একেক রকম সমস্যা দেখা দেয়, জানালেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ মাসুদা খাতুন৷ যেমন যাদের এখন কৈশোর চলছে, তাদের ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় সে ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা হতে পারে৷ গরমের কারণে এই সময়ে গ্ল্যান্ডের নিঃসরণ বাড়ে৷ যে কারণে তৈলাক্ত ত্বক আরও তৈলাক্ত হয়ে পড়ে৷ এ ছাড়াও ছত্রাকের সংক্রমণ (ফাঙ্গাল ইনফেকশন) আর ঘামাচি সব বয়সী ত্বেকর জন্যই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়৷ গরমে খুব বেশি ঘামলে ত্বকে এই ছত্রাকের সংক্রমণ হয়। গরমের কারণে ঘামাচিও হয়ে থাকে৷ এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে ত্বক সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
আয়ুর্বেদ রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা জানালেন, যেকোনো সমস্যার সমাধানে বয়সভেদে এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়া প্রয়োজন৷ আমাদের দেশে ত্বকের ধরন সাধারণত স্বাভাবিক, শুষ্ক, মিশ্র, তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল। তবে ত্বকের ধরনটা যা-ই হোক না কেন, প্রসাধনীর চেয়ে আয়ুর্বেদিক রূপচর্চা ত্বকের জন্য ভালো বলে জানালেন এই দু্ই বিশেষজ্ঞ৷ ঘরে বসেই কীভাবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পাবেন সেই বিষয়ে জানালেন রাহিমা সুলতানা৷

কিশোর বয়সে ত্বকের যত্ন
এই বয়সে ত্বকের প্রধান সমস্যা ব্রণ৷ স্বাভাবিক ত্বকের জন্য সপ্তাহে এক দিন ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, পরিমাণমতো তরল দুধ, আধা চা-চামচ মধু এবং গাজরের রস মিশিয়ে হালকা স্ক্রাবিং করা যেতে পারে৷ এরপর মুখ ধুয়ে ভালো করে ময়েশ্চারাইজার মেখে নিলেই চলবে৷ যাদের তৈলাক্ত ত্বক, তারা মেথি, লাল আটা এবং শশার রস দিয়ে বানানো প্যাক ১০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলবে। স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য টক দই এবং শশার রস মিশিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তবে এ বয়সে ত্বকের যত্নে খুব বেশি রূপচর্চা না করাই ভালো
তরুণ ত্বকের যত্ন
প্রকৃতিগতভাবেই আমাদের ত্বকে মেলানিন বেশি থাকার কারণে সানবার্ন হয় না৷ যেটা হয় সেটা হলো সান ট্যানড৷ এ জন্য স্বাভাবিক ত্বকের যত্নে এই সময়ে এক চা-চামচ করে কাঠ বাদাম, সঙ্গে লাল আটা এবং সামান্য হলুদের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকবে। শুষ্ক ত্বকের যত্নেও এই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন৷ এদিকে তৈলাক্ত ত্বকে শশার রস, মুলতানি মাটি, গাঁদা ফুলের পেস্ট মিশিয়ে ২০ মিনিট ত্বকে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।


চল্লিশের পরের ত্বক
চল্লিশ পেরোলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে৷ যে কারণে প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্নের৷ চল্লিশের পরে ত্বকে মৃত কোষ বা ডেড সেল একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়৷ এ জন্য সপ্তাহে এক দিন গোসলের আগে ত্বক পরিষ্কার করতে চালের গুঁড়া এবং টক দই ব্যবহার করতে পারেন৷ স্ক্রাবিংয়ের জন্য কাঠ বাদামের পেস্ট, চালের গুঁড়া এবং দুধটাও ভালো কাজে দেয়। এটাও পরিমাণমতো মিশিয়ে ত্বকে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন৷ যেহেতু এই সময় ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়, এ জন্য ডিমের সাদা অংশ এবং যবের গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন৷ এটা ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করবে৷
শুধু মুখের ত্বকের যত্নেই নয়, ধরন বুঝে হাত, পা ও পিঠের যত্নেও এই প্যাকগুলো ব্যবহার করা যাবে।

শুধু রূপচর্চাই নয়
ত্বক ভালো রাখতে শুধু বাহ্যিক রূপচর্চাই নয়, প্রয়োজন ভালো ঘুম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন। প্রতিদিন আধা ঘণ্টা ব্যায়ামও ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও প্রতিদিন ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে হবে৷ নিয়মিত গোসল লোমকূপ পরিষ্কার করে শরীরের টকসিন বের করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া রোদে পুড়ে যাওয়া থেকে ত্বক বাঁচাতে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করতে ভুল হয় না যেন।

posted from Bloggeroid

লিচু আর আমের উপকার দেখুন

লিচু আর আমের উপকার দেখুন

এই গরমের দিনে জাম খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। এর ফলে শরীরে পানির সমতা রক্ষা হয়। একই সঙ্গে রক্তশূন্যতাও দূর করে জাম। এভাবেই জামের গুণাগুণের কথা বলছিলেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ। তিনি জানালেন গরমের এ সময়টাতে আরেক রসাল ফল লিচুও খাওয়া যেতে পারে। এতে থাকা সুগার শরীরে জোগাতে পারে শক্তি। লিচু দেখতে যেমন সুন্দর, এর পুষ্টিগুণও নাকি তেমন ষোলো আনা। জাম ও লিচু—ফল দুটির গুণাগুণ সম্পর্কে জানিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ।

লিচু
* লিচুর আছে ক্যানসার প্রতিরোধক্ষমতা। ক্যানসার কোষ বিভাজনকে বাধা দেয়।
* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এর উপাদানগুলো। লিচু খেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে।
* হজমশক্তি বাড়ায়। সেই সঙ্গে ক্ষুধাবর্ধক হিসেবেও কাজ করে।
* সুস্থ হাড়ের জন্য লিচু অতিপ্রয়োজনীয়। হাড়ের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য ওষুধের বিকল্প এ ফলটি।
* ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পরিমিতভাবে লিচু খাওয়া উচিত৷
* এর জলীয় অংশ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
* এই রোদ-গরমের সময়ে ক্ষতিকর অতিবেগুনিরশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করবে।
* রাসায়নিক উপাদান: ১০০ গ্রাম লিচুতে শক্তির পরিমাণ ৬৬ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৬.৫৩ গ্রাম, আমিষ ০.৮৩ গ্রাম, চর্বি ০.৪৪ গ্রাম, আঁশ ১.৩ গ্রাম।

জাম
* ক্যানসারের জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার ক্ষমতা আছে জামের। বিশেষ করে মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
* রক্ত পরিষ্কার করে শরীরের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।
* চোখের সংক্রমণজনিত সমস্যা ও সংক্রামক (ছোঁয়াচে) রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
* জামে গার্লিক অ্যাসিড, ট্যানিস নামে একধরনের উপকরণ রয়েছে, যা ডায়রিয়া ভালো করতে সাহায্য করে।
* ডায়াবেটিস রোগ ও হরমোনজনিত রোগীদের জন্য এই ফল যথেষ্ট উপযোগী।
* রাসায়সিক উপাদান: প্রাকৃতিকভাবে পাকা প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্য উপযোগী জামে আছে ৬০ কিলোক্যালরি, শর্করা ১৫.৬ গ্রাম, চর্বি .২৩ গ্রাম, আমিষ .৭২ গ্রাম, জলীয় অংশ ৮৩.১৩ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, লৌহ .১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম।
গ্রন্থনা: এস এম নজিবুল্লাহ চৌধুরী

posted from Bloggeroid

নিজেকে মেলে ধরুন

নিজেকে মেলে ধরুন

অফিসের এক কর্মী মুখ গুঁজে কাজ করেন সারা দিন। কাজের মানও বেশ ভালো। বছর শেষে দেখা গেল, তাঁর মূল্যায়ন ঠিকভাবে হচ্ছে না। অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে নিজের মনের কথা তাঁর বস বা অন্য সহকর্মীদের বলতে পারেন না। অফিসে সবার মধ্যে থেকেও তিনি আলাদা। অফিসেই নয়, কারও বাড়িতে কোনো দাওয়াত, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁর কথা সবাই ভুলে যান। কর্মীর অন্তর্মুখিতা তাঁকে সমস্যায় ফেলে দেয়। অফিসে মন দিয়ে কাজ করা ভালো। তবে অন্তর্মুখিতা যোগাযোগক্ষমতার একধরনের প্রতিবন্ধকতা। এটি উতরে যেতে না পারলে কর্মজীবনে ঝক্কিতে পড়তে হবে।
প্রতিষ্ঠান অনেক সময় মনে করতে পারে, কেন তারা অন্তর্মুখী কর্মীকে গুরুত্ব দেবে? যিনি নিজের কথাই ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারেন না, তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য কতটুকু কার্যকর। কিছু কিছু কাজ আছে—হিসাব বিভাগে, গবেষণায় কিংবা লেখালেখির কাজে কিছুটা অন্তর্মুখী হলেও চলে। সময়টা যেহেতু নিজেকে প্রকাশ করার, তাই এসব কাজে অন্তর্মুখী না হলেই ভালো।
গ্রো এন এক্সেলের প্রধান নির্বাহী এম জুলফিকার হোসেন বলেন, কর্মজীবনে প্রবেশের আগে অন্তর্মুখী স্বভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এক দিনে সম্ভব নয়, কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। অফিসের বস ও সহকর্মীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৬৫ শতাংশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণে নেতৃত্বদানে এগিয়ে যেতে পারছেন না। প্রতিষ্ঠানের কোনো নতুন বিষয় নিয়ে ভাবনা, পরিকল্পনা—এ ধরনের কাজ অন্তর্মুখী স্বভাবের কর্মীরা ভালো করেন।
অন্তর্মুখী স্বভাবের হলে সফলতা আসে না। বিষয়টি এমন নয়। বিল গেটস নিজেকে অন্তর্মুখী ব্যক্তি মনে করেন। কিন্তু তিনি তো বিশ্বসেরা সফল ব্যক্তিদের একজন।
কর্মীর অন্তর্মুখী স্বভাব কাটানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের তেমন কিছু করার থাকে না। বস হয়তো তাঁকে এই স্বভাবের দিকটা বুঝে মূল্যায়ন করতে পারেন। কোনো মিটিংয়ে তাঁকে বলার সুযোগ দিতে পারেন। তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো একটা প্রেজেন্টেশন তাঁকে সবার সামনে বলতে দেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের নিরীক্ষা খুব বড় কোনো মিটিংয়ে না করে ছোট ছোট মিটিংয়ে করতে পারেন। কিন্তু মনোবিদেরা মনে করেন, এটি থেকে নিজেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেকে সময়ের সঙ্গে, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করে তুলতে হবে। এটি শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, ব্যক্তিজীবনেও অনেক কাজে আসবে।

কী করতে পারেন
* নিজের মনের ভাবনা প্রথমে কাছের বন্ধুদের মধ্যে, এরপর সহকর্মীদের বলতে পারেন। নতুন নতুন আইডিয়া মিটিংয়ে বললে আপনার দিকে সবার নজর পড়বে, যা আপনাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে দেবে।
* আয়নার সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। প্রতিদিন পনেরো মিনিট এই চর্চা করতে পারেন।
* নির্দিষ্ট কোনো কারণে আপনি অন্তর্মুখী স্বভাবের হলে সেই কারণ খুঁজে বের করুন। সেটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সে ক্ষেত্রে কাছের কোনো মানুষ বা মনোবিদের সাহায্য নিতে পারেন।
* নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। হীনম্মন্যতা থাকলে শুধু পিছিয়েই পড়বেন। কোনো বিষয়ে দক্ষতা কম থাকলে তা শেখার চেষ্টা করুন। দেখবেন, ঠিকই পারছেন

posted from Bloggeroid

উচ্চ রক্তচাপকে হেলা মনে করা টিক নয়

উচ্চ রক্তচাপকে হেলা মনে করা টিক নয়

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়
উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। এটি ধীরে ধীরে মানুষের হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, চোখ ইত্যাদি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে। অনেকে অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপ বয়ে বেড়ান। মাত্রা বেড়ে গেলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। হঠাৎ করে রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
সাধারণত রক্তচাপ ১৮০/১২০ মিলিমিটার পারদের ওপরে উঠে গেলেই এমন আশঙ্কা তৈরি হয়। এ সময় রোগীর দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব, শ্বাসকষ্ট, লাল রঙের প্রস্রাব হতে পারে। নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, গর্ভকালীন খিঁচুনি বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের যেকোনো লক্ষণ ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ:
* রক্তচাপ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে নিজে নিজে নানা ওষুধ বাড়িয়ে খেয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। জরুরি অবস্থায় রক্তচাপ কমানোর ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন। সেটা চিকিৎসকের ওপর ছেড়ে দিন।

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত যে ওষুধ সেবন করেন, সেটা হঠাৎ বাদ দিলে এ ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ রকম ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা বা বদলানো যাবে না।

* ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত ও খুব বেশি উচ্চ রক্তচাপের বিশেষ কারণ থাকে। যেমন: কিডনি রোগ, হরমোনজনিত রোগ, স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধের প্রতিক্রিয়া, হৃৎপিণ্ডে জন্মগত ত্রুটি, হরমোন নিঃসরণকারী টিউমার ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি, বিশেষত যদি রোগীর বয়স কম হয়ে থাকে।

* গর্ভকালীন শনাক্ত হওয়া উচ্চ রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে প্রাণসংহারী হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ নিয়মিত মাপতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

posted from Bloggeroid

মায়েরা কেন সন্তানকে ভালবাসেন যেনে নিন

মায়েরা কেন সন্তানকে ভালবাসেন যেনে নিন

মা সন্তানের সবচেয়ে আপনজন। আবার মায়ের কাছেও সন্তানের থেকে প্রিয় কেউ নেই, কিছু নেই। সৃষ্টির শুরু থেকেই মা-সন্তানের বন্ধন চিরন্তন, শাশ্বত। সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই এ বন্ধন তৈরি হয়ে যায়।

মায়ের সঙ্গে সন্তানের সবচেয়ে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝামেলা, দুঃখ-ব্যথা থেকে মা সন্তানকে আগলে রাখেন। পৃথিবীর আর কেউ মায়ের মতো করে সন্তানকে ভালোবাসেন না। তাই তো বড় হয়েও একটু ব্যথা পেলে অবচেতনভাবে কণ্ঠস্বর থেকে বেরিয়ে আসে ‘মা’। মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। এমনকি বাবার থেকেও মায়েরা সন্তানকে অনেক বেশি ভালোবাসেন বলেই প্রচলিত।
গেল ১৬ মের ঘটনা। রেললাইনে আটকে আছে বাস। ছুটে আসছে ট্রেন। মা বিবি মরিয়ম বিপদ আঁচ করতে পেরে তিন সন্তানকে বাস থেকে দ্রুত নামিয়ে দেন। এরপর নিজের প্রাণ বাঁচাতে লাফ দেন। কিন্তু ততক্ষণে চাকার নিচে তিনি। এতে তিন ছেলে প্রাণে বেঁচে গেলেও মারা যান তিনি। অথচ সন্তানদের না নামাতে গেলে ঠিকই বেঁচে যেতেন মা। যুগে যুগে সন্তানদের জন্য মায়ের এমন আত্মত্যাগের হাজারো উদাহরণ রয়েছে। ঘটনাটি চট্টগ্রামে ঘটেছে।

তবে মা-সন্তানের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার পেছনে একটি নিয়ামক অনেক আগেই বের করেছেন গবেষকেরা। মা-সন্তানের এই বন্ধনের জন্য আছে একটি বিশেষ হরমোনের প্রভাব।
হরমোনের বিষয়টি তোলার পর কেউ কেউ হয়তো ভাববেন, মায়ের ভালোবাসায় আবার এসব কী! কিন্তু বিষয়টি তা-ই। একাডেমিক জার্নাল আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের তথ্যানুযায়ী, অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণের ফলে মা তাঁর সন্তানকে ভালোবাসেন। ইসরায়েলের বার-ইলান ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এমনটিই বলা হয়েছে। আর এটা করেছেন রুথ ফেল্ডম্যান। এতে বলা হয়েছে, অক্সিটোসিন হরমোনের কারণেই মা ও সন্তানের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা বেশি হয়ে থাকে। আর এ জন্যই মায়েরা অন্য যে-কারও চেয়ে সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। গবেষণাটি ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
এতে জানানো হয়, যখন একজন মা তাঁর সন্তানকে স্পর্শ করেন বা কোলে নেন, তখন অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে মায়ের ভালো লাগা বা সুখানুভূতিও বাড়ে। মা আনন্দে থাকেন। আবার যখন মা সন্তানকে স্পর্শ করতে পারেন না বা সন্তান থেকে দূরে থাকেন, তখন এই হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। তখন মায়েদের মন খারাপ থাকে, বিষণ্নতা বেড়ে যায়।
প্রকৃতির নিয়মেই সন্তান প্রসবের সময় মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। আর এতেই প্রসবকালীন ব্যথা অনেকটা প্রশমিত হয়। একজন নারীর জীবনে সন্তান জন্মদানের পরের কয়েকটি মুহূর্তে এই হরমোন নিঃসরিত হয় সবচেয়ে বেশি। এ জন্য এই সময় মায়েরা সন্তানের প্রতি বেশি আকর্ষণ বা ভালোবাসা অনুভব করেন। মায়ের কাছে সন্তান জন্মদানের সময়টি শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে হয়। অক্সিটোসিন হরমোনটি ঐন্দ্রজালিক হরমোন নামেও পরিচিত।
এই হরমোনের কারণেই মূলত মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো উপভোগ করেন। এ সময়টা তাঁরা তুলনামূলক বেশি প্রফুল্ল থাকেন। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালে যে মা-সন্তানের বন্ধন দৃঢ় হয়—সেই প্রচলিত কথারই প্রমাণ এটা।

posted from Bloggeroid

বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়েই শুরু ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দেখে নিন টুর্নামেন্টর সময় সূচি

বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়েই শুরু ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দেখে নিন টুর্নামেন্টর সময় সূচি

০১ জুন, ২০১৬
তাহলে বাংলাদেশকে দিয়েই শুভসূচনা হচ্ছে ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির।
অনেক ‘র‍্যাঙ্কিং-যুদ্ধ’ পেরিয়ে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টটিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের সাতে থেকে প্রথমবারের মতো মাশরাফিরা খেলবেন টুর্নামেন্টের মূলপর্বে। সেই টুর্নামেন্টটির সূচনাই হবে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে। প্রথম ম্যাচে মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
আগামী বছরের ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টটির সূচি আজ ঘোষণা করেছে আইসিসি। ২০১৭ সালের ১-১৮ জুন পর্যন্ত হবে ১৫ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে। তাতে আট দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ ‘এ’-তে ইংল্যান্ড ছাড়া বাংলাদেশের দুই সঙ্গী অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ ‘বি’-তে আছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
গ্রুপে প্রতিটি দলই একবার করে একে অন্যের মুখোমুখি হবে। দুই গ্রুপের সেরা দুটি দল যাবে সেমিফাইনালে।
২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত র‍্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে টপকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৬ সালেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব, তবে সেটি ছিল বাছাইপর্বে। সেবার বাছাইয়ের তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে এবারই প্রথম মূলপর্বে খেলা।

২০১৯ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডেই। এই টুর্নামেন্টে খেলা বাংলাদেশের জন্য সেই বিশ্বকাপের জন্য একটা মহড়া তো হবেই। তবে এর চেয়েও বড় ব্যাপার হলো, এই টুর্নামেন্টের তিন মাস পরই র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল নিশ্চিত করবে পরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা। বাছাই পর্বের ঝামেলায় যেতে না চাইলে বাংলাদেশকে থাকতে হবে সেই আটের মধ্যেই। সূত্র : আইসিসি।

টুর্নামেন্টের সূচি:
১ জুন : ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ, ওভাল
২ জুন : অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড, এজবাস্টন
৩ জুন : শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকা, ওভাল
৪ জুন : ভারত-পাকিস্তান, এজবাস্টন
৫ জুন : অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ, ওভাল (দিবা/রাত্রি)
৬ জুন : ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড, কার্ডিফ
৭ জুন : পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা, এজবাস্টন (দিবা/রাত্রি)
৮ জুন : ভারত-শ্রীলঙ্কা, ওভাল
৯ জুন : নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ, কার্ডিফ
১০ জুন : ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া, এজবাস্টন
১১ জুন : ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা, ওভাল
১২ জুন : শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান, কার্ডিফ

১৪ জুন : প্রথম সেমিফাইনাল, (এ১-বি২), কার্ডিফ
১৫ জুন : দ্বিতীয় সেমিফাইনাল, (এ২-বি১), এজবাস্টন

১৮ জুন : ফাইনাল, ওভাল।

* দিনের ম্যাচগুলো শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে, দিবা/রাত্রি ম্যাচগুলো সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।

posted from Bloggeroid